কোচবিহারে বাড়তে থাকা তৃণমূলের কোন্দল সামাল দিতে ময়দানে পার্থ অনুগামীরা

কোচবিহার, ১০ জানুয়ারিঃ সাত দিনের মধ্যে কোচবিহার পৌরসভার পৌর প্রশাসক ভূষণ সিংকে অপসারণের দাবি তুলে সাংবাদিক বৈঠক করলেন পার্থ অনুগামীরা। একদিকে জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়কে সরানোর দাবি তুলেছেন ভূষণ সিং, অপরদিকে তার অনুগামীরা দাবি তুলেছেন ভূষণ সিংকে সরানোর। রাজনৈতিক এই টানাপোড়েন কোচবিহার জেলার ক্ষেত্রে বেশ মজাদার হয়ে উঠেছে বিরোধী শিবিরের ক্ষেত্রে। সমস্ত বিষয় কটাক্ষ করে বিজেপি সভানেত্রী মালতি রাভা রায় বলেন, একুশের নির্বাচন তো অনেক দূর, আগে নিজেদের ঘর সামাল দিক তৃণমূল। তৃণমূল শিবিরের এই অন্তর্দ্বন্দ্ব বিরোধী শিবিরকে সুযোগ করে দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভোট যত এগিয়ে আসছে কোচবিহারে তৃনমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী লড়াই ততটাই যেন তীব্র আকার ধারণ করছে। দলের সাংগঠনিক কমিটি গঠন নিয়ে এতদিন বিক্ষুব্ধ নেতারা প্রকাশ্যে জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। এবার এই বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে ময়দানে নামল জেলা সভাপতির অনুগামীরা।

রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে তিন বিক্ষুব্ধ নেতাদের বিরুদ্ধে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে দলের অভ্যন্তরে থেকেই রাস্তায় নেমে আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছেন পার্থ প্রতিম রায়ের অনুগামীরা।

কোচবিহার ভবানী চৌপতি এলাকায় তৃনমূল কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের জেলা সভাপতি ঘনিষ্ঠ তিন নেতা নিরঞ্জন দত্ত, শিবপদ পাল ও রাহুল রায়। তাঁরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি কোচবিহার পুরসভার প্রশাসক ভূষণ সিং, জেলা সাধারণ সম্পাদক খোকন মিয়াঁ ও পরিমল রায় সংবাদমাধ্যমে দলের জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে এমন সব বক্তব্য রাখছেন, যা দলের ক্ষতি করছে। তাঁদের পিছনে বিরোধীদের উসকানি রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই তাঁরা রাজ্য নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানাবেন ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

আগামী এক সপ্তাহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দলের অভ্যন্তরে থেকেই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবেন জেলা সভাপতির অনুগামীরা।

সম্প্রতি কোচবিহার জেলা তৃনমূল কংগ্রেসের সভাপতি পার্থ প্রতিম রায় বিভিন্ন ব্লক, অঞ্চল ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করেন। ঘোষণার দিনই কমিটি নিয়ে আপত্তি তুলে কোচবিহার শহর ব্লক কমিটির সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন পুরসভার প্রশাসক ভূষণ সিং। শুধু তাই নয়, তিনি পাল্টা একটি কমিটিও পৌর এলাকায় ঘোষণা করেন। জেলা সভাপতি ও শহর ব্লক সভাপতি লেনদেন করে ওই কমিটি ঘোষণা করেছে বলে অভিযোগ তুলে শহর ব্লক কমিটির সভাপতি নিরঞ্জন দত্তের কান ধরে মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়ার হুমকি দেন ভূষণ সিং।

এছাড়াও তৃনমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোকন মিয়াঁ কমিটি গঠন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলের জেলা সভাপতিকে বাচ্চা ছেলে অনভিজ্ঞ বলে কটাক্ষ করেন। এতে দলের ক্ষতি হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। একই ভাবে কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের দলীয় নেতা পরিমল বর্মনকেও কমিটি গঠন নিয়ে বর্তমান জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিতে দেখা গিয়েছে। তুফানগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকে জেলা সভাপতির ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে পাল্টা কমিটি গঠন করেন স্থানীয় তৃনমূল নেতৃত্বরা। কোচবিহার ১ (এ) নম্বর ব্লক কমিটি ও দুই অঞ্চল কমিটির ১৬ জন সদস্য একযোগে পদত্য্যাগ করেন। কোচবিহারে তৃনমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ কমিটি গঠন নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ সামাল দিতে দ্রুত আলোচনায় বসা হবে বলেও জানিয়েছিলেন। জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান তথা মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন ইতিমধ্যেই বলেছেন, কোচবিহারের কমিটি গঠন রাজ্যের গাইডলাইন মেনে হয়নি।

কমিটি গঠন নিয়ে এই ক্ষোভ বিক্ষোভের মধ্যেও দিন কয়েক চুপচাপ থাকার পর এবার আসরে নেমেছেন জেলা সভাপতির অনুগামীরা। এদিন নিরঞ্জন দত্ত ভূষণ বাবুর বক্তব্যকে কুৎসিত ভাষা বলেছেন। তিনি এধরনের কথার কোনও উত্তর দিতে চান না বলে জানিয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত জেলা সভাপতির তরফ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কেন তিনি প্রকাশ্যে এসে দলের এই গোষ্ঠী কোন্দল মেটাতে চাইছেন না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরে।

এই বিষয়ে পুনরায় ভূষণ সিংকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তিনি এখন যেই পদে আছেন তা দিয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুতরাং একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী চাইলে পরেই তিনি এই পথ থেকে সরবেন। অন্য কারো কথায় বিশেষ পাত্তা তিনি দিচ্ছেন না।

শুধুমাত্র বিধানসভা নয় একাধিক গোষ্ঠী কোন্দলে জর্জরিত হয়ে উঠছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এই অবস্থায় ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে কি ভূমিকায় থাকবে সেটাই এখন দেখার।