Ad
কোচবিহার

কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি গিরীন্দ্রনাথ বর্মনের ডাকা বৈঠকে অনুপস্থিত পঞ্চায়েত সদস্যরা, ভেস্তে গেল মিটিং

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

দিনহাটা: দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে বিরোধ মেটানোর জন্য খোদ দলের জেলা সভাপতির ডাকা বৈঠকেই গেলেন না তৃণমূল কংগ্রেসের অধিকাংশ পঞ্চায়েত সদস্য।

ফলে মঙ্গলবার দিনহাটার গীতালদহ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অনাস্থা নিয়ে জেলা সভাপতি গিরীন্দ্রনাথ বর্মনের ডাকা বৈঠক ভেস্তে যায়। যার জেরে তৃণমূলের অন্দরে আরও গোষ্ঠী কোন্দল বাড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Ad

বিধানসভা ভোটের আগে থেকে দিনহাটা মহকুমায় তৃণমূলের দখলে থাকা একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতে দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন অধিকাংশ পঞ্চায়েত সদস্য। অনেক গ্রাম পঞ্চায়েতে বিরোধ মিটিয়ে পুরনো প্রধানই পদে বহাল রয়েছেন। ইতিমধ্যেই দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে এসে গীতালদহ-২ ও ওকড়াবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধানকে সরিয়ে নতুন প্রধান নির্বাচিত করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে সিতাই বিধানসভার অন্তর্গত দিনহাটা-১ ব্লকের অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা আনার পেছনে বিধায়ক ঘনিষ্ঠ জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নুর আলম হোসেনের হাত রয়েছে। এই অভিযোগে ইতিমধ্যেই সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি। আগামী ২৯ নভেম্বর দিনহাটা-১ ব্লকের গীতালদহ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে তলবি সভা রয়েছে। সেখানে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদে রয়েছেন আবুয়াল আজাদ। তাঁর বিরুদ্ধে দলের ছ’জন সদস্য অনাস্থা এনেছেন। সেইজন্য দলের পঞ্চায়েত সদস্যদের সঙ্গে বসে বিরোধ মেটানোর জন্য এদিন বৈঠকের ডেকেছিলেন জেলা সভাপতি গিরীনবাবু। কিন্তু, ওই বৈঠকে গীতালদহ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০ জন সদস্যের মধ্যে প্রধান আবুয়াল আজাদ সহ মোট চারজন উপস্থিত ছিলেন।

বাকি ছ’জন পঞ্চায়েত সদস্য আসেননি দলের জেলা সভাপতির ডাকা বৈঠকে। ফলে ভেস্তে যায় এদিনের বৈঠক। বৈঠক শেষে তৃণমূলের জেলা সভাপতি গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, অনাস্থার বিষয়ে গীতালদহ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলাম। তাদের সকলের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের জন্য। কিন্তু, প্রধান সহ মোট চারজন সদস্য এসেছিলেন। বাকিরা কেউ না আসায় বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে। তলবি সভায় পঞ্চায়েত সদস্যরা দলের সিদ্ধান্ত মানেন কি না, সেটা দেখার পর দল পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

গীতালদহ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আবুয়াল আজাদ অনাস্থা আনা নিয়ে সরাসরি সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াকে তোপ দেগে বলেন, দিনহাটা-১ ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে আনাস্থা নিয়ে আসার পেছনে বিধায়ক রয়েছেন। তিনি নুর আলম হোসেনকে দিয়ে এসব করাচ্ছেন। দলে সিদ্ধান্ত না মেনে উনি নিজের মতো করে চলার চেষ্টা করছেন। যদিও সিতাইয়ের তৃণমূলের বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়া প্রধানের অভিযোগ মানতে চাননি। তাঁর দাবি, ওসব ভিত্তিহীন অভিযোগ।

আরও পড়ুন