কোচবিহারে নবনির্মিত কমিটি তৈরি হয়েছে স্বজনপোষণের মাধ্যমে, ক্ষোভ তৃণমূল নেতা পরিমল বর্মনের

ইউবিজি নিউজ, কোচবিহার : কোচবিহার জেলা ও ব্লক কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর,দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক গোস্বামী স্বজনপোষণের অভিযোগ এনে তার দলীয় সাংগঠনিক সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন। ঠিক পর দিন একইভাবে নবনির্মিত এই কমিটির বিরুদ্ধে মুখ খোলেন দিনহাটার ২ নম্বর ব্লকের নেতা তথা জেলা পরিষদের কর্মদক্ষ মির হুমায়ুন কোবির।এবার একইভাবে সরব হন কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি তথা কোচবিহার জেলা পরিষদ সদস্য পরিমল বর্মন।তিনি পরিষ্কার ভাষায় অভিযোগ করেছেন,নবনির্মিত কমিটি তৈরি হয়েছে স্বজনপোষণের মাধ্যমে সেই সাথে জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনেন তিনি।

তিনি বলেন পার্থ প্রতিম রায় নিজেই গোষ্ঠী তৈরি করছেন এবং তৃণমূলের অন্দরে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।তিনি আরো বলেন,” ইতিমধ্যেই জেলার সিনিয়র নেতৃত্বের মিহির ঘোষ আমি নিজের হাত গুটিয়ে নিয়েছেন, একইভাবে চেনার একাধিক সিনিয়র নেতৃত্বের এভাবেই দল থেকে সরে যাওয়ার অবস্থায় চলে এসেছে,সে ক্ষেত্রে ২১’শের বিধানসভা নির্বাচন যথেষ্ট বিধায়ক হতে চলেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের।”বিধায়ক মিহির গোস্বামী এবং হুমায়ুন কবির এর বক্তব্য কে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি স্বীকার করে তিনি অভিযোগ তোলেন , ‘একটি বেসরকারি সংস্থা শাসকদলের হয় তাদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির কাজ করছে। তারা যা খুশি তাই করছে জেলায়।”

পরিমল বাবু বলেন, “জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়, রবি ঘোষ বিরোধী একটি আলাদা তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন তৈরি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।সেক্ষেত্রে আগামী ২১’শে বিধানসভা নির্বাচনের ভবিষ্যৎ কি হবে তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন চিহ্ন রয়েছে।”প্রসঙ্গত,চলতি মাসের ২ তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে কোচবিহার জেলার জেলা এবং ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কমিটি গঠন ঘোষণা করেন জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়।

তারপর থেকেই একাধিক প্রবীণ নেতৃত্ব নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একের পর এক ছবিতে হতে কার্যত জর্জরিত হয়ে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা রাজনীতির ভবিষ্যৎ।পরিমল বর্মন বলেন,রাজ্য নেতৃত্ব অবিলম্বে কোচবিহার জেলার সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে নবগঠিত কমিটি নিয়ে আলোচনা করলে তবেই এই সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব। নচেৎ এক এক করে সিনিয়র নেতারা সকলেই বসে যাবে। জেলায় আরও বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা ইতিমধ্যেই বসে যাওয়ার পর্যায়ে চলে গেছে।দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতি করার পরে রাজনৈতিক অবমাননা এবং অপমান হতে হচ্ছে তাদের বলে দাবি করেন পরিমল বাবু।

 তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন,যে সমস্ত ব্যক্তিরা ১৯’শের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে কাজ করে তৃণমূল কংগ্রেসকে তাড়িয়ে দিয়েছিল তাই আজ এই কমিটির একাধিক পদে আসীন করে বসে আছে। দুর্দিনের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী হিসেবে এটা তার মেনে নিতে যথেষ্ট কষ্ট হচ্ছে।একইসাথে তাঁর হাত ধরে যারা রাজনীতি শিখেছে তাদের কাছ থেকে নির্দেশ নিতেও কোথাও যেন সম্মানে বাঁধছে তার। এমত অবস্থায় তিনি নিজেও নিজেকে দলীয় কর্মসূচি গুলি থেকে সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবছেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।