নস্যশেখ উন্নয়ন পরিষদের কোচবিহার ১ নং ব্লকের মোয়ামারি অঞ্চল কমিটির তরফে ডেভেলপমেন্ট বোর্ড পাওয়ার খুশিতে ময়নাগুড়ি বাজারে মিষ্টি বিতরণ

কোচবিহার : নস্যশেখ উন্নয়ন পরিষদের কোচবিহার ১ নং ব্লকের মোয়ামারি অঞ্চল কমিটির তরফে ডেভেলপমেন্ট বোর্ড পাওয়ার খুশিতে ময়নাগুড়ি বাজারে মিষ্টি বিতরণ ।উল্লেখ্য আন্দোলনের প্রথম দিকে এখানেই প্রথম বড় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার নস্যশেখ মুসলিম জনজাতিকে নিয়ে আন্দোলনে উত্তাল করে গোটা উত্তরবঙ্গ।

বাজারে মিষ্টি বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা কোচবিহার জেলা কমিটির সহ-সম্পাদক কাওসার আলম ব্যাপারী, জেলা কমিটির সদস্য নুর ইসলাম, কোচবিহার ১ নং ব্লক কমিটির কোষাধক্ষ্য রিয়াজুল হক , মোয়ামারী অঞ্চল কমিটির সম্পাদক আব্বাস আলী সহ প্রমুখ।

শেষ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের নস্যশেখ জনজাতির উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্দোলনরত সংগঠন নস্যশেখ উন্নয়ন পরিষদের আন্দোলনের কারণে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পিছিয়ে পড়া অন্যতম জনজাতি নস্যশেখ মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্যও উন্নয়ন বোর্ড গঠন করে দিলেন। এই উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছেন কোচবিহার জেলা শাসক পবন কাদিয়ান।

এছাড়াও উত্তরবঙ্গের সাতটি জেলা থেকে ৭জনকে এই কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করেনরাজ্য সরকার। এই সাতজন প্রত্যেকেই নস্যশেখ উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির । মোট ৮ জনের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৈরি করে সরকারের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। জানা যায়,গত 22 তারিখে এ বিষয়ে অনগ্রসর শ্রেণী কল্যান বিভাগ তাদের সল্টলেক অফিস থেকে এই নোটিফিকেশন জারি করেছেন।

নস্যশেখ উন্নয়ন বোর্ডের অন্যতম সদস্য তথা নস্যশেখ উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বজলে রহমান জানান, গত রাত বারোটার পর তার কাছে কাগজ এসে পৌঁছায়, যদিও গত ২২তারিখে এ বিষয়ে নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে। নস্যশেখ উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হওয়ায় নস্যশেখ সম্প্রদায়ের মানুষ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছেন। নস্যশেখ উন্নয়ন পরিষদ সংগঠনের তরফ থেকে বজলে রহমান জানান, এই পিছিয়ে পড়া নস্যশেখ জনজাতির মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলন আজ সফল হতে চলেছে। যদিও ইতিমধ্যে উত্তর বাংলায় প্রায় আরও আঠারোটি জনজাতি যেমন- রাজবংশী,নমশূদ্র, মতুয়া,গোর্খা,লেপচা,গুরু,ভুটিয়া প্রভূতি জনজাতিকে উন্নয়ন বোর্ড দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র মাধ্যমে জানা গেছে।

নস্যশেখ উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক আমিনুল হক, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি জানান আগামী দিনে নস্যশেখ জনজাতির উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তাতেই উত্তর বাংলার অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির পাশাপাশি নস্যশেখ সম্প্রদায়ও এগিয়ে যাবেন। সাথে সাথে তিনি আশা ব্যক্ত করেছেন যে প্রতিটি জেলায় আরো অধিক সংখ্যক লোককে নিয়ে এই কমিটি গঠিত হলে উত্তর বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে উন্নয়নের সাথে সম্প্রদায়ের সমস্ত মানুষকে শামিল করা সম্ভব হবে।

কেন্দ্রীয় কমিটির আর এক সদস্য তথা কোচবিহার জেলা কমিটির সহ-সম্পাদক জানান, আমরা জনজাতির জন্য আন্দোলনে নেমেছি তার সাফল্যে হিসাবে ডেভলপমেন্ট পেয়েছি। এর জন্য অবশ্যই রাজ্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে আমাদের লক্ষ্য ভূমি বৃত্তের স্বীকৃতি আদায় । ডেভলপমেন্ট বোর্ড পাওয়ার কারণে সে লক্ষে অনেকদূর এগিয়ে গেলাম।’বোর্ডের ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় সংগঠনের কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ আনন্দ উচ্ছ্বাসে নেমে পড়েছে। সকলেই রাজ্য সরকারের প্রতি বিভিন্নভাবে অভিবাদন জানাচ্ছে। সর্বোপরি পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে তিনি আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।