কোচবিহার জেলায় অবৈধ গাঁজা চাষের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৩০০ বিঘা জমির গাঁজা নষ্ট করলো নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর আধিকারিকরা

UBG NEWS, কোচবিহার, ২১ জানুয়ারিঃ কোচবিহার জেলায় অবৈধ গাঁজা চাষের বিরুদ্ধে অভিযান চালালো নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর কলকাতা জোনাল ইউনিটের আধিকারিকরা। কোচবিহার জেলার মেঘপালা গ্রামে ৩২ বিঘা এবং ফালিমারী গ্রামে ২৭৫ বিঘা জমিতে গাঁজা চাষ হচ্ছে বলে খবর পান এনসিবি অধিকারিকরা।

গোপন সুত্রের খবর পেয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এই দুই এলাকায় সশস্ত্র সীমা বলের জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালায় এনসিবি আধিকারিকরা। গাঁজা গাছ কেটে আগুন লাগিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়।

কলকাতার একটি বাংলা অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গিয়েছে, মেঘপালা গ্রামের ৩২ বিঘা জমিতে যেখানে গাঁজা চাষ হচ্ছিল সেই জমি শ্যামল চন্দ্র রায় নামে এক বাসিন্দার। অন্যদিকে ফালিমারি গ্রামে যেখানে ২৭৫ বিঘা জমিতে গাঁজা চাষ হচ্ছিল সেই জমিটি জয়রাম রাজভর নামে এক ব্যক্তির। শ্যামল চন্দ্র রায় এবং জয়রাম রাজভর এই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এনডিপিএস অ্যাক্ট এর 8(বি) এবং 20(এ) মামলা রুজু করেছে এনসিবি আধিকারিকরা। দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানা গেছে, দুর্গাপুজোর পর থেকেই রীতিমত বিপুল পরিমাণেই গাঁজা উদ্ধার করে চলছিল পুলিশ। কোচবিহার ১ নং ব্লকের বেশ কিছু অঞ্চলে বিগত দিনে অভিযান চালিয়ে গাঁজার চাষের জমি বিনষ্ট করে পুড়িয়ে দিচ্ছে পুলিশ। শুধু তাই নয় কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার সাহেবগঞ্জ, গোসানিমারি, পুটিমারির জরাবাড়ি, মাথাভাঙ্গায় নয়ারহাট সহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক অভিযান চালিয়ে বিঘা বিঘা জমির গাঁজা চাষ নষ্ট করেছে বলে জানা গিয়েছে। সেই সুত্র ধরে নির্বাচনের প্রাক্কালে এতো বড় জমিতে গাঁজা চাষ নষ্ট করা তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রসঙ্গত, অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের রহস্যমৃত্যুর পর সারা দেশ জুড়ে মাদক দমনে আরও কড়া ভূমিকা নিয়েছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। কোচবিহার জেলায় গত কয়েকদিন প্রায় একশো বিঘারও বেশি  গাঁজার চাষ নষ্ট করে পুলিশ। কিন্তু কোন গত কয়েকদিন ধরে  নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর কলকাতা জোনাল ইউনিটের আধিকারিকদের কাছে খবর আসে কোচবিহার জেলার মেঘপালা গ্রামে ৩২ বিঘে এবং ফালিমারী গ্রামে ২৭৫ বিঘে জমিতে গাঁজা চাষ হচ্ছে।

আর সেই খবর পাওয়ার পর এনসিবি আধিকারিকরা কোচবিহার জেলায় এসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া মেঘপালা ও ফালিমারী এলাকায় সশস্ত্র সীমা বলের জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালায়। ওই দুই এলাকার গাঁজার চাষ নষ্ট করে দেন। ঘটনাস্থল থেকে দুই এলকার দুজন মালিককে গ্রেপ্তার করেন ওই আধিকারিকরা।

২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কোচবিহারে এত বড় এলাকাজুড়ে গাঁজা চাষের পেছনে কাদের হাত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ঘুর পথে এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।