কোচবিহারে বিজেপি সাংসদ এর কুশপুতুল দাহ করে বিক্ষোভ জেলা তৃনমূল ছাত্রপরিষদ এবং যুব তৃণমূল কংগ্রেসের

UBG NEWS, কোচবিহারঃ  কোচবিহারের বিভিন্ন থানায় মোট ছয়টি অভিযোগ দায়ের করার পর জন বারলার বিরুদ্ধে পথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলো কোচবিহার জেলা তৃনমূল ছাত্রপরিষদ এবং যুব তৃণমূল কংগ্রেস।

বুধবার কোচবিহার শহর ভবানীগঞ্জ বাজার, মাথাভাঙ্গা, ১ নম্বর ব্লকের ফলিমারী গ্রাম পঞ্চায়েত, দিনহাটা এবং তুফানগঞ্জে আলাদা আলাদাভাবে জন বারলার কুশপুতুল দাহ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। কোচবিহার ভবানীগঞ্জ বাজারে যুব তৃণমূল নেতা শায়নদীপ গোস্বামীর নেতৃত্বে কুশপুতুল দাহ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

একইসঙ্গে লাগাতার পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, এবং বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।।

উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য করা হোক। ২১-এর ভোট রেজাল্টের পরেই এই দাবি নিয়ে বিভিন্ন ধরণের আন্দোলন ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম, ফেসবুক গ্রুপ, পেইজ এ উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্যে করার দাবির সমর্থনে পোস্ট করেছেন অনেকেই । এই অবস্থায় উত্তরবঙ্গ আলাদা রাজ্য হচ্ছে এই শোরগোলে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত রাজ্য রাজনীতি চরমে উঠেছে । সামাজিক মাধ্যমগুলিতেও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে ।

মুখ্যমন্ত্রীর তরফে বাংলা ভাগের চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগও শোনা গিয়েছে । তৃণমূল নেতৃত্বরা উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্যের দাবি বিজেপির নতুন প্রকল্প বলে কটাক্ষ করেছেন ।

এদিকে বাংলা ভাগের চক্রান্ত করছে বিজেপি এই অভিযোগ তুলে পথে নেমেছে তৃণমূল। বাংলাকে ভাগ হতে দেব না এই দাবি নিয়ে মঙ্গলবার কোচবিহারের ১ নং ব্লকের ফলিমারী অঞ্চল এর সাতমাইল বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ।জন বারলার কুশ পুতুলে আগুন লাগিয়ে প্রতিবাদ যুব তৃণমূলের ৷ বিক্ষোভে মূল স্লোগান ছিল ‘শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে,বাংলা ভাগ হতে দেবো না ।’

উক্ত বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ফলিমারি অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস চেয়ারম্যান শিশির ঈশোর, যুব কনভেনার নারায়ণ বর্মন, কোচবিহার ১ নং ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি মনজুদার রহমান, ফলিমারী অঞ্চল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি অর্পণ রায় ঈশোর এবং অন্যান্য অঞ্চল নেতৃত্ব ও কর্মীরা । একই ধরনের বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয় মাথাভাঙ্গা এবং দিনহাটা – তুফানগঞ্জ মহকুমাতেও।

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা সায়নদ্বীপ গোস্বামী অভিযোগ করে বলেন, “বিজেপি নির্বাচনের আগে থেকে কখনও ধর্মের নামে, কখনও দেশী ভাটিয়া করে মানুষের মধ্যে ভাগাভাগি করতে চেয়েছে। এবার নির্বাচনে হেরে গিয়ে বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত করছে। সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ জন বার্লা উত্তরবঙ্গ পৃথক রাজ্য বা কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের দাবি তুলেছে। এর প্রতিবাদেই এদিনের এই কর্মসূচী।”

ছাত্র নেতা লিটন মোল্লা বলেন, “বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি নেতৃত্বরা যে ভাবে বাংলায় ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে বাংলা ভাগ করতে চেয়ে ছিল… ঠিক সে ভাবেই এবার আলিপুর জেলার সাংসদ জন বারলা বাংলা কে ভাগ করার জন্য চেষ্টা করছে…. কিন্তু আমরা দেখেছি বাংলার মানুষ বিধান সভা ভোটে বিজেপি দল কে ছুড়ে ফেলেছে.. বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে তারা ধর্মের রাজনীতি চায় না। তারা দিদির উন্নয়নটাই চায়। আর বাংলা ভাগ হবে না। টাই এর প্রতিবাদ জানিয়ে,,দাস ব্রাদার্স মোরে জন বারলার পুতুল জ্বালানো হলো। কোচবিহার জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এর পক্ষ থেকে।”

শুধু জন বার্লাই নন, পরবর্তীতে তাঁর সুরে সুর মিলিয়েছেন বিজেপির একাধিক বিধায়ক। জঙ্গলমহলকে পৃথক রাজ্য করার দাবি তুলেছেন বিজেপির আরেক সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্ব বারবার জানিয়েছে ওই দাবি যারা তুলেছেন তাঁদের ব্যাক্তিগত। সংগঠন হিসেবে বিজেপি কখনও বাংলা ভাগ চায় না। তবে যে কারণ দেখিয়ে বাংলা ভাগের কথা বলা হয়েছে সেই অনুন্নয়নের অভিযোগকে স্বীকার করে বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি বাম আমলের মত তৃণমূল কংগ্রেসের আমলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত থেকেছে। কিন্তু রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল এই বঙ্গভঙ্গের দাবির বিরোধিতায় ব্যাপক ভাবে স্রব হয়েছে।