Ad
কোচবিহার

আত্মসমর্পণকারী কেএলও জঙ্গি ও লিঙ্কম্যানদের মত পুনর্বাসন চেয়ে কোচবিহার জেলা শাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি কামতাপুর পিপলস পার্টির

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

কোচবিহার, ৬ সেপ্টেম্বরঃ আত্মসমর্পণকারী কেএলও জঙ্গি ও লিঙ্কম্যানদের মত পুনর্বাসন চাইল বাম আমলে পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত কামতাপুর পিপলস পার্টির নেতা কর্মীরা।

আজ ওই দাবিতে কোচবিহার জেলা শাসকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হল কামতাপুর পিপলস পার্টির পক্ষ থেকে। তাঁদের অভিযোগ, নয়ের দশক ও তার পরবর্তী সময়ে কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে তাঁদের আন্দোলন চলছিল। সমসাময়িক সময়ে কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন(কেএলও) নামে একটি সংগঠন জঙ্গি আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। দুই সংগঠনের দাবি গুলোর মধ্যে বেশীর ভাগ একই রকম থাকায় ওই জঙ্গি সংগঠন ও তাঁদের লিঙ্কম্যানদের পাশাপাশি কামতাপুর পিপলস পার্টির অনেক সদস্যের উপরে পুলিশি সন্ত্রাস চালানো হয় বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের অনেক সমর্থকের বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে। পুলিশের হাতে নিগৃহীত হতে হয়েছে।

Ad

অনেককেই তুলে নিয়ে গিয়ে বিনা কারণে মাসের পর মাস জেলে আটক করে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রাজ্য সরকার আত্মসমর্পণকারী কেএলও জঙ্গি ও লিঙ্কম্যানদের সরকারি চাকুরী দেওয়া হলেও সেই সময় শুধুমাত্র দাবি গুলো এক হওয়ার জন্য কামতাপুর পিপলস পার্টির পুলিশি অত্যচারের শিকার হওয়াদের কোন রকম ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় নি। আর সেই কারণেই এদিন কোচবিহার জেলা শাসকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পুনর্বাসন চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।

কামতাপুর পিপলস পার্টির কোচবিহার জেলা কমিটির সভাপতি কংসরাজ বর্মণ বলেন, “আমরা প্রথম থেকে গণতান্ত্রিক পথেই আন্দোলন করে আসছি। শুধুমাত্র দাবি গুলো এক হওয়ার জন্য আমাদের কর্মীদের উপরে পুলিশি জুলুম হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে আত্মসমর্পণকারী কেএলও জঙ্গি ও লিঙ্কম্যানদের একটা বড় অংশের পুনর্বাসন দেওয়া হলেও আমাদের কর্মীদের সামাজিক, রাজনৈতিক আর্থিক নানা ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হলেও তার কোন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় নি। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন বাম আমলে গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ক্ষতিগ্রস্ত আমাদের কর্মীদেরও পুনর্বাসন দেওয়া হোক।”

বাম আমলে উত্তরবঙ্গ জুড়ে একাধিক পৃথক রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল। এরমধ্যে পাহাড়ের আন্দোলন যেমন ছিল। তেমনি কামতাপুর রাজ্যের দাবিতেও গনতান্ত্রিক পথে যেমন আন্দোলন হয়েছে, তেমনি সসস্ত্র আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল এই অঞ্চলে। উত্তাল হয়ে উঠেছিল মালদা থেকে কোচবিহার পর্যন্ত। এছাড়াও গ্রেটার কোচবিহার রাজ্যের দাবিতেও আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল বাম আমলে। কিন্তু রাজ্যের বাম আমলের পতনের পর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে সমতল সমস্ত জায়গাতেই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

কিন্তু সম্প্রতি বিজেপি জন প্রতিনিধিদের অনেকেই উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার দাবি জানানোর পর ফের বেশ কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন মাথাচারা দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বলে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাম আমলে পুলিশি অত্যাচারের শিকার কামতাপুর পিপলস পার্টির নেতা কর্মীরা এবার নতুন করে রাজ্য সরকারের কাছে পুনর্বাসন চেয়ে আবেদন জানানোর পর সরকার কি ভূমিকা নেয়, সেটাই এখন দেখার।

আরও পড়ুন