Ad
কোচবিহাররাজনীতিরাজ্য

দিনহাটা সহ বাকি ৪ আসনে উপনির্বাচন কি পুজোর ছুটির পরে? বাড়ছে জল্পনা ও সম্ভাবনা

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

ওয়েব ডেস্ক, ৭ সেপ্টেম্বরঃ বাংলায় তৃতীয়বার ক্ষমতায় তৃনমূল আসার পর থেকে রাজ্যের ৭টি আসনে বিধানসভার সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচন বাকি ছিল। তা নিয়ে রাজ্য তৃনমূল বারবার নির্বাচন কমিশনের কাছে দরবার করেছে।যদিও বিজেপি বারবার তা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তারা দাবি করেছে করোনা পরিস্থিতিতে ভোট যাতে না হয় বরং তারা পুরসভার ভোট চেয়েছেন। কিন্তু তৃনমূলের আর্জিতে সায় দিয়ে নির্বাচন কমিশন গতকাল একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ভবানিপুর সহ তিনটি আসনে ভোট করার কথা জানান। কিন্তু তা নিয়ে বিজেপি রাজ্য নেতা বেজায় ক্ষিপ্ত।

ঘোষণা অনুযায়ী, ভবানীপুরে ভোট হচ্ছে পুজোর আগেই। আর এই নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় এক প্রকার ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়েছে তৃণমূলের। কিন্তু এই ঘোষণার জেরে নতুন একটি বিতর্কেরও সূত্রপাত হয়েছে।

Ad

তবে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, ভবানীপুরে উপনির্বাচন হলে বাকি ৪টি বিধানসভা কেন্দ্র কী দোষ করল ? সেখানে কেন উপনির্বাচন হবে না ?  প্রশ্নটা কোনও ভাবেই ফেলে দেওয়ার মতো নয়। কারণ এই কেন্দ্রগুলির মেয়াদও ফুরিয়ে আসছে। এহেন পরিস্থিতিতে কমিশনে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, আপাতত ‘গা বাঁচাতে’তড়িঘড়ি শুধুমাত্র ভবানীপুরে উপনির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলির বিষয়েও ইতিমধ্যেই চিন্তাভাবনা করছেন কমিশন কর্তারা।

ভবানীপুর বাদে মোট ৪টি কেন্দ্রে উপনির্বাচন বাকি। নদিয়ার শান্তিপুর, কোচবিহারের দিনহাটা, উত্তর ২৪ পরগণার খড়দহ এবং দক্ষিন ২৪ পরগণার গোসাবা। সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ সেই দুই কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে বিধানসভা নির্বাচনই স্থগিত করে দেওয়া হয়। পরে অবশ্য একবার ভোট ঘোষণা হয়েছিল। কিন্তু ভোটের দিনই ইদ পড়ে যাওয়ায় ফের নির্বাচন পিছিয়ে দেয় কমিশন। তাই ভবানীপুরে উপনির্বাচনের সঙ্গেই ওই দুই কেন্দ্রে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।

কিন্তু বাকি ৪ টি কেন্দ্র, যেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেগুলি নিয়ে আজ কোনও উচ্চবাচ্য করা হয়নি কমিশনের তরফে। এর মধ্যে সবার আগে মেয়াদ শেষ হচ্ছে খড়দহে। এই বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাজল সিনহা ফলপ্রকাশের আগের দিনই প্রয়াত হন। ফলে ৬ মাসের মেয়াদ ফুরোবে ১ নভেম্বর। অন্যদিকে, ২১ এর বিধানসভা ভোটে নদিয়ার শান্তিপুরে জয়লাভ করেন সাংসদ জগন্নাথ সরকার ও কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক তিনি জয়ী হন। তারপর ১২ মে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন বিজেপির দুই সাংসদ জগন্নাথ সরকার ও নিশীথ প্রামাণিক। তাঁদের কেন্দ্র শান্তিপুর ও দিনহাটার মেয়াদ ১১ নভেম্বর শেষ হয়ে যাবে। সর্বশেষ মেয়াদ শেষ হবে গোসাবার। গত ১৯ জুন তৃণমূলের বিধায়ক জয়ন্ত নস্করের মৃত্যু হয়। তাই ১৮ ডিসেম্বর মেয়াদ ফুরোবে গোসাবার।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভবানীপুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হয়েছেন বলেই কি এই আসনকে আলাদা চোখে দেখা হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে ? বিরোধীরা পক্ষপাতের অভিযোগও তুলছেন। তবে সূত্র এই দাবিকে সমর্থন করছে না।

জানা গিয়েছে, যে ভাবেই হোক মেয়াদ ফুরোনর আগে বাকি আসনগুলিতেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত করার বিষয়ে কমিশন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিন্তু কোনও কারণে যদি ভবানীপুরে যথা সময়ে উপনির্বাচন না করা যায়, এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার ছাড়তে হয়, তখন এর পুরো দায়টাই কমিশনের ঘাড়ে চলে আসবে। দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আখড়ায় নামিয়ে আনা হবে কমিশনকে। সেই দায় এড়াতেই আপাতত ভবানীপুরের উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট আগেভাগে ঘোষণা করেছে কমিশন। বাকি আসনেও যথা সময়েই উপনির্বাচন করার পক্ষেই সায় রয়েছে কমিশন কর্তাদের।

কবে হতে পারে ঘোষণা ? সূত্র জানাচ্ছে, যেহেতু এই রাজ্যে পুজোর ছুটির সময় নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত কর্তা-ব্যক্তিরা ছুটিতে থাকবেন, তাই একেবারে পুজোর ছুটির পরই বাকি ৪ টি বিধানসভা আসনে ভোটের বন্দোবস্ত করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে লক্ষ্মী পুজোর পর দিয়েই হতে পারে বাকি আসনগুলির উপনির্বাচন। যদিও এই নিয়ে কমিশনের তরফে সরকারিভাবে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বাকি আসনে উপনির্বাচনের দাবিতে বিরোধীরা যেভাবে সোচ্চার হয়েছে, তাতে সেই সম্ভাবনাই উজ্জ্বল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আরও পড়ুন