কোচবিহারে সরকারি নির্দেশিকা কে অমান্য করে নির্দিষ্ট সময়ের পরেও খোলা থাকছে দোকান-বাজার, সংক্রমণ ঠেকাতে রাস্তায় নামল আইসির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী

কোচবিহার, ৮ জুনঃ করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বিধি নিষেধে কিছুটা ছাড় দিতেই ভির জমতে শুরু করেছে হাট বাজার গুলোতে। সময়ের বাইরে গিয়েও খোলা রাখা হচ্ছে কিছু কিছু দোকানপাট। খুব সামান্য হলেও অটো টোটো রাস্তায় নামিয়ে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা যাচ্ছে। এতে ফের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাস্তায় নামল কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

কোচবিহার কোতোয়ালি থানার আইসির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী শহরের সব থেকে বড় বাজার ভবানীগঞ্জ বাজারে গিয়ে হানা দেয়। সেখানে সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও দোকান খোলা রেখে ভির করে কেনাবেচা বন্ধ করার জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, রাস্তায় যাত্রী নিয়ে চলাচলকারী অটো গুলোকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে অনেকে সাধুবাদ জানালেও সাধারণ ব্যবসায়ী ও অটো টোটো চালকরা কিন্তু তাঁদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।

এক অটো চালকের কথায়, “ব্যাংক লোণ নিয়ে অটো কিনে চালাচ্ছি। প্রত্যেক সপ্তাহে কিস্তি দিতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে বিধি নিষেধের জেরে ঘরে বসে থেকে না পাচ্ছি কিস্তি দিতে, না পাচ্ছি দুবেলা খাবার সংগ্রহ করতে। তাই নিরুপায় হয়ে রাস্তায় বের হতে হচ্ছে। সেটাও যদি বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে করোনা সংক্রমণের আগে তো না খেয়েই মারা যাবো আমরা।”

ভাবনিগঞ্জ বাজারের এক গালামাল ব্যবসায়ীর কথায়, “আমাদের দোকান খোলার সময় দেওয়া হয়েছে সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা, আবার দুপুর ১২ টা থেকে ৩ টা। অনেকটা দূরের বাড়ি থেকে এসে ভাবনিগঞ্জ বাজারে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলি। মাঝে দুঘণ্টা আমরা কোথায় সময় কাটাবো? এর থেকে টানা সকাল ৭ টা থেকে বেলা ১২ টা করে দিলে আমরা একবারে দোকানপাট বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে পারি।”

টানা বিধি নিষেধের জেরে মানুষ যে সমস্যায় পড়েছে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই প্রথম ঢেউয়ের মত সকলের জন্য রেশনে বিনা মূল্যে খাদ্য সামগ্রী দেওয়া, লোণের কিস্তি স্থগিত রাখা সহ বেশ কিছু দাবি উঠছে, বিভিন্ন মহল থেকে। কিন্তু কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার কেউই তাতে কর্ণপাত করছে বলেই অভিযোগ।