কোচবিহারে হিন্দি সিনেমার কায়দায় খুন করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হল খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত এক যুবক

দিনহাটা, ১২জুনঃ কার্যত হিন্দি সিনেমার কায়দায় খুন করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হল খুনের অভিযোগে ধৃত এক যুবক। এক মাসের মধ্যে ওই খুনের কিনারা করে ধৃতকে দিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ।

শুক্রবার দিনহাটা থানায় সাংবাদিক সম্মেলন করে কোচবিহারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওই ঘটনার কথা জানিয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানান, ১০ মে রাতে ঘোকসাডাঙ্গা থানার রুইডাঙ্গা এলাকার একটি নির্জন জায়গা থেকে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যাক্তি অর্ধ দগ্ধ নগ্ন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। যার চেহারা দেখে পরিচয় জানা খুবই দুর্বিষহ হয়ে পড়ে পুলিশের কাছে। দেহ উদ্ধারের পরের দিন দিনহাটা থানায় আটিয়াবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার রাজবাড়ি গ্রামের গৃহবধূ শ্যামলী দেবনাথ তাঁর স্বামী নিরঞ্জন দেবনাথের (৩৫) নামে একটি নিখোঁজের অভিযোগ করেন।

ঘোকসাডাঙ্গা থানার পুলিশ অর্ধ দগ্ধ নগ্ন দেহ উদ্ধার ও দিনহাটা থানার পুলিশ নিরঞ্জন দেবনাথের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা পৃথক পৃথক ভাবে তদন্ত করতে শুরু করে।কিন্তু স্বামী নিখোঁজের ১৫ দিনের মাথায় নিজের বাড়িতে শ্যামলী দেবনাথের(২৮) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ওই ঘটনায় নড়েচড়ে বসে দিনহাটা থানার পুলিশ। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। যে তদন্তের মূল দায়িত্বে ছিলেন দিনহাটা থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত।

মোবাইল ফোনের রেকর্ড, সন্দেহজনক কিছু লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করে একের পর এক তথ্য উঠে আসে পুলিশ কাছে। এরপরেই পুলিশ ওই ঘটনার সাথে যুক্ত আটিয়াবাড়ি এলাকারই বাসিন্দা ৩৩ বছরের যুবক টুটুল সরকারকে সন্দেহ হয়। তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করে। প্রথম দিকে স্বীকার না করলেও একের পর এক তথ্য প্রমাণ যখন পুলিশের হাতে আসতে শুরু করে, তখন পুলিশের সামনে ভেঙ্গে পড়ে টুটল সরকার। এরপরেই সমস্ত ঘটনা পুলিশকে খুলে বলে টুটুল।

নিরঞ্জন দেবনাথ আসলে সুদের ব্যবসা করতেন। তাঁর কাছে ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন টুটুল। সেই টাকা ফেরত দিতে না পারায় প্রায় নিরঞ্জন চাপ দিচ্ছিল টুটুলকে।

১০ মে একটি লাল রঙের বোলেরো গাড়িতে নিরঞ্জনকে নিয়ে টুটুল গোসানিমারি এলাকায় যায়। সেখানেই গলায় লাইলোনের দড়ি পেঁচিয়ে নিরঞ্জনকে খুন করে টুটুল। এরপর সেখান থেক গাড়িতে করে সিতাই শীতলখুচি হয়ে ঘোকসাডাঙ্গার রুইডাঙা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে একটু রাত বেশী হতেই প্রমাণ লোপাটের জন্য নিরঞ্জনের পড়নের জামাকাপড় সমস্ত খুলে নেয়, এরপরেই মুখে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেয়। দূর থেকে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ঘোকসাডাঙা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে ওই দেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের ধারনা শ্যামলী দেবনাথের দেহ উদ্ধারের পিছনেও টুটুলের হাট রয়েছে, তাঁরা সেই তদন্ত যেমন চালিয়ে যাচ্ছে, তেমনি নিরঞ্জন দেবনাথকে খুন করার ঘটনায় টুটুলের সাথে আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, সেটাও ক্ষতিয়ে দেখছে পুলিশ।