মুখ্যমন্ত্রীর শোকসভায় আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার পরে কোচবিহারে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে এসে বয়ান বদল করলেন শহীদ আনন্দ বর্মণের দাদু

কোচবিহার, ১৪ এপ্রিলঃ মুখ্যমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার পরে কোচবিহারে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে এসে বয়ান বদল করলেন শহীদ আনন্দ বর্মণের দাদু ক্ষিতীশ চন্দ্র রায়।

তিনি সেখানে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, গতকাল তাঁকে বাড়ি থেকে তৃনমূলের কয়েকজন জোড় করে নিয়ে যান। যাওয়ার সময় তিনি তাঁর ছেলেকেও সাথে নিয়ে যান। তাঁরা প্রথমে মাথাভাঙা, সেখান থেকে নাটাবাড়িতে নিয়ে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সাথে কথা বলিয়ে দেন। তারপর এদিন তিনি রবীন্দ্রনাথ বাবুর সাথে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন। তবে সেখানে তিনি তাঁর মেয়ে ও নাতির জন্য দুটি চাকরি চেয়েছেন বলে স্বীকার করে নেন ক্ষিতীশ বাবু।

তবে এদিন সকালে মাথাভাঙায় মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি নিজের ইচ্ছেতেই মুখ্যমন্ত্রীর সভায় এসেছেন। তাঁকে কেউ জোড় করে নি। তারপর কোচবিহারে ফিরে বয়ান বদল করায় কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আবেদন মেনে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মেয়ে ও নাতির চাকরির ব্যবস্থা করলে, সেটা গ্রহণ করবেন কিনা, তা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ক্ষিতীশ বাবু জানান, সেটা মেয়ে এবং নাতির বিষয়। তবে তিনি ওই মুহূর্তে মনে করেছেন, তাই ওই চাকরির আবেদন করেছেন। তবে সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষিতীশ বাবুর পাশে বসে থাকা তাঁর মেয়ে অর্থাৎ আনন্দ বর্মণের মা কিন্তু স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তাঁরা কোন চাকরি বা আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করবেন না। তাঁরা ছেলের খুনিদের চরম শাস্তি চান।

চতুর্থ দফার নির্বাচনে অর্থাৎ ১০ এপ্রিল প্রথমে শীতলখুচি বিধানসভা কেন্দ্রের গোলেনাওহাটি এলাকার ৫/২৮৫ নম্বর বুথে তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষের জেরে গুলি বিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় আনন্দ বর্মণ নামে একজন প্রথম ভোটারের। অভিযোগ ওঠে বিজেপির সমর্থক হওয়ায় তাঁকে গুলি করে খুন করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা। ওই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির রাজনৈতিক বাদানুবাদ বাড়তে শুরু করে।

বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে শীতলখুচি বিধানসভার ৫/১২৬ নম্বর বুথে শহীদদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতটা আবেগপ্রবণ, রাজবংশী যুবক আনন্দ বর্মণকে নিয়ে ততটা নয়। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস মমতা প্রথম শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের সময় পাঁচ শহীদের নাম উল্লেখ করেছেন বলে ছবি প্রকাশ করেন।

এরপরে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে রাজ্য সরকার শহীদের আর্থিক অনুদানের কথা ঘোষণা করলেও আনন্দ বর্মণের পরিবার সেটা নিতে অস্বীকার করে। এদিন মাথাভাঙায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাতেও তাঁরা থাকবেন না বলে জানিয়ে দেওয়া হয় ওই পরিবারের পক্ষ থেকে। শেষ পর্যন্ত আনন্দ বর্মণের মায়ের বাবা ও মামা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় উপস্থিত হলে জল্পনার সৃষ্টি হয়। পরে বিজেপির কোচবিহার জেলা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ক্ষিতীশ বাবু সেই জল্পনার অবসান ঘটানোর চেষ্টা করলেন বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।