মেরুকরণের রাজনীতির প্রভাব কতটা থাকবে তৃণমূলের টিকিট বিতরণে কোচবিহার শহরের বিধানসভা কোচবিহার দক্ষিনে! শুরু হয়েছে ইঁদুর দৌড়

UBG NEWS: একুশে নির্বাচনকে লক্ষ্য করে যখন গুটি সাজাতে ব্যস্ত রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং খুব শীঘ্রই হতে চলেছে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা তখন অধীর আগ্রহে রয়েছে জেলার সংখ্যালঘুরা।

একদিকে যখন রাজবংশী রাজনীতির জেরে প্রতিনিয়ত কোচবিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তখন অন্যদিকে নয়টি বিধানসভা আসন বিশিষ্ট কোচবিহার জেলার ২৫% সংখ্যালঘু মানুষেরাও এই নতুন সমীকরণের রাজনীতিতে নিজের জায়গা খুঁজে পাওয়ার জন্য সরব হয়েছেন বারবার।

মেরুকরণের রাজনীতি ফলে এক প্রকারের অনেকটাই কোণঠাসা রাজ্য রাজনীতিতে সংখ্যালঘুদের অবস্থান , এই মতন সময়ে সংখ্যালঘুদের ভোটের উপরে বরাবর পাখির চোখ রেখে চলেছে , বাম কংগ্রেস জোট, আইএসএফ ও মিমের মতন নতুন পার্টি।কিন্তু এখনো বেশিরভাগ সংখ্যালঘু মানুষ বিশ্বাস করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর এমনটাই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

কোচবিহারের নয়টি বিধানসভা আসনের মধ্যে অসংরক্ষিত আসন রয়েছে তুফানগঞ্জ, নাটাবাড়ি, কোচবিহার ১ ও দিনহাটা । এই কয়েকটি আসনের মধ্যে তুফানগঞ্জ ও কোচবিহার ১ আসনে সংখ্যালঘু প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করতে পারেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু বিভিন্ন সমীক্ষায় বারবার উঠে এসেছে তুফানগঞ্জ আসনে বিজেপির প্রবল হওয়ার রয়েছে এইজন্য তুফানগঞ্জ আসনে রাজনৈতিক মহলের চর্চা অনুযায়ী তৃণমূলের তরফ থেকে হয়তো সংখ্যালঘু প্রার্থী দেওয়ার ভুল করবে না সমীক্ষা নির্ভর নতুন তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন।

অন্যদিকে কোচবিহার ১ নম্বর আসনের কোচবিহার শহর ছাড়া বেশকিছু গ্রামে রয়েছে সংখ্যালঘুর একটা বড় জনসংখ্যা। এই মতন দৃষ্টিতে কোচবিহার শহরের এবং শহর সংলগ্ন নেতারা এই আসনের জন্য সবথেকে শক্তিশালী দাবিদার হতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে। তাদের মধ্যে প্রথম নাম উঠে আসে তৃণমূল নেতা খোকন মিয়ার, যেহেতু খোকন মিয়ার রয়েছে একটি গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক, এবং শহরে বিজেপির হওয়া প্রবল হওয়ার কারণে গ্রামীণ ভোটের উপরে পাখির চোখ তৃণমূলের।

আরেকটি নাম হচ্ছে তৃণমূল নেতা আব্দুল জলিল মিয়া কিন্তু তার বিশেষ কোনো গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক নেই যদিও তার শহরে প্রভাব রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল অন্দরে জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় ও গ্রেটার নেতা বংশী বদন বর্মনের নামো ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।

বর্ষিয়ান তৃণমূল নেতা মিহির গোস্বামীর বিজেপিতে যোগদানের পরে যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে সেই শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য তৃণমূলের মধ্যে শুরু হয়েছে ইঁদুর দৌড়। এখন এইটাই দেখার কে এই আসনে তৃণমূলের তরফ থেকে টিকিট পায়।