Ad
কোচবিহার

কোচবিহারে ফের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে, উদয়ন ও গিরীনের সম্বর্ধনা সভায় আমন্ত্রণ নেই স্থানীয় তৃণমূলের বিধায়কের

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

দিনহাটা, ২৪ সেপ্টেম্বরঃ দলের কোচবিহার জেলা কমিটির চেয়রাম্যান ও জেলা সভাপতির সম্বর্ধনা দেওয়ার সভাকে কেন্দ্র করে দিনহাটায় তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল ফের প্রকাশ্যে।

দিনহাটা ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে থাকা বড় আটিয়াবাড়ির নিউ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তৃণমূলের কোচবিহার জেলা কমিটির চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ ও জেলা সভাপতি গিরীন্দ্রনাথ বর্মণকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। ওই সভায় দিনহাটার প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কমিটির চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ ও প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকলেও সেই সভায় আমন্ত্রণ পাননি খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের সিতাই বিধানসভার বিধায়ক জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া। আর তা নিয়েই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া। তিনি বিষয়টি নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের কাছেও অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

Ad

এদিন ক্ষুব্ধ বিধায়কের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে যারা সিতাই বিধানসভা এলাকায় আমাকে পরাজিত করার জন্য বিজেপির হয়ে কাজ করছে তারাই আজ তৃণমূল সেজে ওই সম্বর্ধনার আয়োজন করেছে। আমার সাথে ওই সম্বর্ধনা নিয়ে কোন আলোচনা করা হয় নি। আমরা আগেই জেলা সভাপতিকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে সম্বর্ধনা দিয়েছি।

আসলে যে গোষ্ঠী কোন্দল বন্ধ করার জন্য জেলা সভাপতি পরিবর্তন করা হয়েছে সেই গোষ্ঠী কোন্দলের পুনর্নবীকরণ করা হচ্ছে। যারা একুশের নির্বাচনে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, তাঁদের বিশাল বিশাল ছবি টাঙ্গিয়ে সম্বর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে অবশ্যই অভিযোগ জানাবো।”

কোচবিহারের তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা দলের রাজ্য সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “দলের একজন রানিং এমএলকে বাদ দিয়ে এধরনের সম্বর্ধনা সভা, এটা কোন ভাবেই ঠিক নয়। এতে দলের ক্ষতি হবে।”

দলীয় বিধায়কের ওই অভিযোগ নিয়ে অবশ্য তৃণমূলের জেলা সভাপতি বলেন, “দলের সভাতে সর্ব সম্মতি ক্রমে ঠিক হয়েছিলো যে জেলার সব প্রান্তে কর্মীসভা হবে। আমি তাকে নিজে থেকে ফোনও করি এবং ব্লক সভাপতিকে দিয়ে তাঁর বাড়িতেও পাঠিয়ে ছিলাম কিন্তু তিনি কেন আসলেন না সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যপার।”

স্থানীয় ভাবে জানা গিয়েছে, সিতাই বিধানসভা এলাকা সিতাই ব্লকের ৬ টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও দিনহাটা ১ নম্বর ব্লকের ১২ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। দীর্ঘ দিন দিনহাটা ১ নম্বর ব্লকের দলীয় নেতৃত্বদের একটা অংশের সাথে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়ার সুসম্পর্ক নেই। বিধানসভা নির্বাচনের সময় ওই ব্লকের প্রাক্তন দলীয় সভাপতি প্রসন্ন দেব শর্মার সাথেও সুসম্পর্ক ছিল না বিধায়কের। ওই সময় প্রসন্ন বাবুর বিরুদ্ধে গোপনে বিজেপি সহযোগিতা করার অভিযোগ করেন বিধায়ক অনুগামীরা। তখন থেকেই ব্লক সভাপতি বদলের দাবি ওঠে।

নির্বাচনের পর বিধায়কের দাবি মেনে ওই ব্লকের সভাপতি পরিবর্তন করে দায়িত্ব দেওয়া হয় সঞ্জয় বর্মণকে। কিন্তু নয়া ব্লক সভাপতির নাম ঘোষণার সাথে সাথেই তাঁর বিরুদ্ধেও নির্বাচনে বিজেপির হয়ে কাজ করার অভিযোগ তোলেন বিধায়ক ও তাঁর অনুগামীরা। ফলে সিতাইয়ের বিধায়ক ও তাঁর অনুগামীদের সাথে দিনহাটা ১ নম্বর ব্লক সভাপতির গোষ্ঠী বিরোধ না মিটে তা ক্রমশই বেড়েই চলেছে। এদিনের এই সম্বর্ধনা সভা সেই গোষ্ঠী বিরোধকে আরও বেশী বেশী করে চাগার দেবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা।

আরও পড়ুন