কোচবিহার সফরে এসে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের জেরে অসমে আশ্রয় নেওয়া বাংলার বাসিন্দাদের ফিরে আসার আবেদন রাজ্যপালের

কোচবিহার, ১৩ মেঃ ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের জেরে অসমে আশ্রয় নেওয়া বাংলার বাসিন্দাদের ফিরে আসার আবেদন জানিয়ে তাঁদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনে নিজের বুকে গুলি খাবেন বলে জানালেন রাজ্যপাল জগদ্বীপ ধনকড়।

আজ বেলা সাড়ে ১২ টা নাগাদ বিএসএফের হেলিকপ্টারে কোচবিহার বিমান বন্দরে এসে নামেন রাজ্যপাল। তার সাথে ছিলেন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। তিনি কোচবিহার বিমান বন্দরে নেমেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগতে শুরু করেন। প্রশ্ন তোলেন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও।

রাজ্যপাল অসমে আশ্রয় নেওয়া ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের শিকার বাংলার বাসিন্দাদের নিজ রাজ্যে ফিরে আসার আবেদন জানান। শুধু তাই নয়, আগামীকাল তিনি অসমে আশ্রয় নেওয়া বাংলার বাসিন্দাদের ওই ত্রাণ শিবির গুলোতে গিয়ে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন।

রাজ্যপাল বলেন, “অসমে ওই ত্রাণ শিবির গুলোতে আশ্রয় নেওয়া সন্ত্রাসের শিকার বাংলার বাসিন্দারা সেখানে আমার যাওয়ার খবর পেয়েই অনেকটা আশ্বস্ত হয়েছেন। তাঁদের মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামীকাল সেখানে যাবো। তাঁদের আবেদন জানাবো বাংলায় ফিরে আসার জন্য। প্রয়োজনে তাঁদের নিরাপত্তার জন্য নিজের বুকে গুলি খাবো।”

এখানেই শেষ নয়, তিনি কিছুটা আবেগ প্রবণ হয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে কিনা হচ্ছে, বলতে কষ্ট হচ্ছে আমার। কোথায় গেল সেই সব মানবাধিকার সংস্থা, কোথায় সংবাদ মাধ্যম? আমি খুঁজে বেড়াচ্ছি তাঁদের।”

রাজ্যপাল আরও বলেন, “বাংলার রক্ত রঞ্জিত সময়ে এখন প্রয়োজন সৌভ্রাতৃত্বের। রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে, রাজ্যপাল ও সরকারের মধ্যে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন এরজন্য যাতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। প্রশাসনিক আধিকারিকদের হাতের মুঠোয় না রেখে তাঁদের কাজ করতে দেওয়া হোক, এটাই এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার সঠিক রাস্তা।”

শীতলখুচির প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাজ্যপাল বলেন, “কোচবিহারের সেই ঘটনা হতেই মুখ্যমন্ত্রী বলে দিলেন নরসংহার, ঠাণ্ডা মাথায় খুন। অথচ এখানকার বিভিন্ন প্রান্তে অন্যঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যা করা হচ্ছে, এর বিরুদ্ধে দেশ দুনিয়ায় যারা বাংলা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন, তাঁদের অনুরোধে সিধান্ত নিয়েছি আমি যাবো। সংবিধান বাঁচাতে, রাজ্যপাল হিসেবে দেশকে বাঁচাতে যত বাধাই আসুক না কেন, তাতে আমি প্রভাবিত হব না।”

করোনা পরিস্থিতি দেশ ও রাজ্যের ক্ষেত্রে যেমন উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই ভাবে বাংলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসাও মারাত্মক আকার নিয়েছে বলে জানিয়ে রাজ্যপাল বলেন, “ কিছু লোকের সাহস কি করে হয় আইন হাতে তুলে নেওয়ার? মুখ্যমন্ত্রী এব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলাম, কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেরকম সদর্থক কোন ভূমিকা গ্রহণ আমার চোখে পড়ে নি।”

রাজ্য সরকারের সাথে রাজ্যপালের সম্পর্ক প্রথম থেকেই কার্যত আদায় কাঁচকলায়। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকার দীর্ঘ দিন থেকে অভিযোগ তুলে আসছে রাজ্যপাল কেন্দ্রের নির্দেশে কার্যত বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। এবার নতুন সরকার গঠন হওয়ার দিন থেকেই সেই রাজ্য সরকার ও রাজ্যপালের বিবাদ নজরে আসতে শুরু করে। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়ে রাজ্যপালের কোচবিহার সফরের পর সেই সম্পর্ক কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌছায়, সেটাই এখন দেখার।