কোচবিহার

তৃণমূলে যোগদান করেই প্রাক্তন বিজেপির জেলা কমিটির সম্পাদক সুদেব কর্মকারের বিস্ফোরক মন্তব্য

“বিজেপির ব্যানার পতাকা ফ্লেক্স কেন থাকবে? ফ্লেক্স এর দোকানের লক্ষাধিক টাকা বাকি, মাইক মঞ্চ সবখানেই বাকি রয়েছে বিজেপির। টাকা দেয়নি নিশীথ প্রামানিক।”তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করে এমনটাই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন একসময়ের বিজেপির জেলা কমিটির সম্পাদক সুদীপ কর্মকার। শুধু তাই নয় তিনি বলেন দিনহাটার এক ফ্লেক্স নির্মাতা নিশীথ প্রামাণিকের কাছে পনের লক্ষ টাকা পায়।

ইতিমধ্যেই তিনি বিষয়টি অমিত শাহ পর্যন্ত জানিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। শুধু তাই নয় বিগত 2021 বিধানসভা সাধারণ নির্বাচনের সময় মঞ্চ, মাইক এবং কর্মীদের খাওয়া-দাওয়া বাবদ প্রচুর টাকা এখনো বাকী রয়ে আছে দিনহাটার বুকে। কোন হেলদোল নেই বর্তমান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের। পাওনাদারেরা তার কাছে দীর্ঘদিন গিয়েছিল বলেও জানান তিনি। শুধু তাই নয় পাওনাদারদের একাংশ নিশীথ প্রামাণিকের বাড়িতে গিয়েও খালি হাতে ফিরে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। ঠিক সেই কারণেই দিনহাটার বুকে বিজেপি প্রার্থীর কোন প্রচার ফ্লেক্স নেই।

বিজেপির তরফ থেকে যে সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠে এসেছিল সেই অভিযোগ কেউ এদিন খন্ডন করেন তিনি। সুদেব বাবু বলেন, দিনহাটায় কোন কর্মী ভয়ে নেই। তারা অপমানের জ্বালা এ ঘর থেকে বেরোচ্ছে না। নিশীথ প্রামাণিকের হয়ে তারা বিগত নির্বাচনে প্রাণপাত লড়াই করেছিল। কিন্তু তারপরে নিশীথ প্রামানিক তাদের খোজখবর পর্যন্ত রাখেনি। যারা ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস কবলিত হয়ে ঘরছাড়া অবস্থায় ছিল কিংবা যারা মারধোর খেয়ে অসুস্থ হয়েছিল তারা একাধিকবার নিশীথ প্রামাণিকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও নিশীথের দেখা পায়নি। ঠিক সেই কারণেই কর্মীরা আর ঘর থেকে বেরোতে চাইছে না। এই অপমানের জ্বালা সইতে না পেরে আমিও তৃণমূল কংগ্রেসের উন্নয়নের পথে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেছি।

একইসঙ্গে বর্তমান বিজেপি প্রার্থী অশক মণ্ডলের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তিনি। তিনি বলেন, 2006 এবং 2021 দুটো নির্বাচনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। 2006 অশোক মন্ডল কেন জিতেছিল সেটা সবথেকে ভালো বলতে পারবে সিপিএম নেতৃত্ব। এর পরবর্তীতে 2015 সালে 4 নাম্বার ওয়ার্ড থেকে পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি, সবথেকে বেশি ভোটে হারের সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাকে। তাই 2021 এ তার জেতার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। নিশীথ প্রামানিক দিনহাটার বুকে নিজের আধিপত্য বিস্তার রাখার জন্য অশোক মন্ডল কে ব্যবহার করার চেষ্টা করে যাচ্ছে শুধু।

Ad

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দিনহাটার বুকে যারা বিজেপির নেতৃত্ব হয়েছে তারা একসময় নিশীথ প্রামাণিকের হয়ে যুব তৃনমূলের অর্থ সংগ্রহের কাজ করতো। যারা পুরনো বিজেপি কর্মী তাদেরকে সরিয়ে এই ধরনের ব্যক্তিদের দায়িত্বে আনা হয়েছে।

সবমিলিয়ে তিনি দাবি করে বলেন, দিনহাটায় বিজেপির যে সংগঠন ছিল সেই সংগঠন ভেতরে ভেতরে তৃণমূল কংগ্রেসে চলে এসেছে। ব্যবহার এবং অপমান পুরনো দিনের বিজেপি কর্মীদের বিজেপি থেকে মুখ ফেরাতে বাধ্য করেছে। দিনহাটার মতো জায়গায় দিলীপ ঘোষকে মাত্র 76 জন কর্মী নিয়ে মিছিল করতে হয়েছে, যাদের মধ্যে দিনহাটার কেউ ছিলনা, বিজেপির লজ্জা থাকা উচিত।

বলাবাহুল্য 30 তারিখ উপ নির্বাচনের আগে সুদেব কর্মকার 17 ই অক্টোবর তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা তুলে নেন হাতে। তারপর থেকেই একাধিকবার বিজেপির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন তিনি।
যদিও বা এই বিষয়ে নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

[ লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য ফলো করুন ইউবিজি নিউজ ফেসবুক পেজ । ব্রেকিং নিউজ এবং ডেইলি খবরের আপডেটে পেতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে  ]