Ad
কোচবিহার

জেলা প্রশাসন চেষ্টা করলেও সরকারকে ধান বিক্রি করতে নারাজ কৃষকরা

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

UBG NEWS,কোচবিহারঃ একদিকে যেখানে ধান কেনা নিয়ে জেলা প্রশাসন তৎপর হয়েছে ঠিক তার পাশাপাশি ধান বিক্রি করার ক্ষেত্রে কৃষকদের অনীহা দেখা যাচ্ছে। 1850 টাকায় প্রতি কুইন্টাল সরকারি মূল্য অথচ বেসরকারিভাবে ধান বিক্রি করতে গেলে ধানের দাম পাওয়া যাচ্ছে অর্ধেকেরও কম, 600 থেকে 700 টাকা কুইন্টাল দরে ধান কিনছে ঠিকাদারেরা, কিন্তু তারপরেও ঠিকাদারদের কাছে ধান বিক্রি করার তৎপরতা রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। সরকারিভাবে ধান বিক্রি করার ক্ষেত্রে তাদের এই অনীহার কারণ জানতে সোমবার হাটের দিন তুফানগঞ্জ হাটে সাংবাদিকরা।

ধান বিক্রেতা রশিদ আলী জানান, প্রায় মাসখানেক আগেই সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেছিলেন তিনি। চেক পেয়েছিলেন, কিন্তু প্রায় একমাস গড়িয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত টাকা একাউন্টে এসে পৌঁছয় নি। তার কথায়, ফোরের কাছে ধান বিক্রি করলে হাতে হাতে নগদ টাকা পাওয়া যায় সেটা কাজে লাগে। সরকারের ঘরে ধান বিক্রি করলে টাকা পেতে যথেষ্ট সময় লাগে।

Ad

অপর একজন বিক্রেতা ফলেন রহমান বলেন, আমরা ছোটখাটো কৃষক কম ধান বিক্রি করি। যতটুকু ধান বিক্রি করলে প্রয়োজনীয় টাকা পাওয়া যাবে ঠিক ততটুকু ধান বিক্রি করি। সরকার অল্প ধান কিনতে চায় না। তাছাড়া টাকা পড়ে থাকে দীর্ঘদিন। শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়। তাই সরকারকে ধান না দিয়ে আমরা বাইরে ধান বিক্রি করে থাকি।

ধান ক্রেতা বিষ্ণু পাল বলেন, আমরা সরকারের থেকে অনেক কম টাকায় ধান কিনি, এরপরেও গ্রামের লোকজন আমাদের কাছে ধান বিক্রি করে তার একটাই কারণ আমরা তাদের ধানের টাকাটা নগদ দিয়ে দেই। এই কেনা ধান আমরা সংশ্লিষ্ট মিলেই প্রদান করি। যে দামে ধান কেনা হয় আমরা সামান্য আয়ে রেখে ধান মিল মালিকদের হাতে তুলে দেই। সরকার বেশি টাকা দিলেও তাদের টাকা পেতে কৃষকদের অনেক সময় লাগে তাই হয়তো আমাদের কাছে ধান বিক্রি করার আগ্রহ দেখান কৃষকরা।

কিছুদিন আগেই জেলাশাসক পবন কাদিয়ান এর নিরীক্ষণে জেলাভিত্তিক ধান কেনা নিয়ে এক বিশেষ বৈঠক হয় কোচবিহার জেলা শাসক দপ্তরে, সেখানে ধান কেনার গতি আনতে বেশ কিছু নতুন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। একই সাথে জেলায় উৎপাদিত ধান এর পরিমাণ অনেকটাই বেশি, তাই উৎপাদিত ধানের পুরোটাই যাতে সরকার সঠিকভাবে ক্রয় করতে পারে সেই ব্যাপারে আলোচনা হয়। এরপরে এইভাবে কৃষকরা সরকারের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া সঠিক বার্তা দিচ্ছে না জেলা প্রশাসনের কাছে।

তুফানগঞ্জ মহকুমার শাসক অরবিন্দ ঘোষ বলেন, ধান কেনা বেচার ক্ষেত্রে সব থেকে বড় প্রতিবন্ধকতা মিল মালিকদের ধান নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি। পর্যাপ্ত পরিবহন এর গাড়ি দিতে সমর্থ হচ্ছেনা মিলমালিকরা। কৃষক 40 কুইন্টাল ধান নিয়ে এলে মাত্র কুড়ি কুইন্টাল ধান কেনা সম্ভব হচ্ছে, কারণ মিলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিবহনের সমস্যা রয়েছে।

সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছিল কুইন্টাল প্রতি 8 থেকে 10 কেজি ধান নাকচ করে দিচ্ছে কৃষি দপ্তর। সেক্ষেত্রেও আলোচনা করে আমরা সেই পরিমাণ কে কমিয়ে তিন থেকে চার কেজিতে নামিয়ে এনেছি।কোন কৃষক যদি বেসরকারিভাবে ধান বিক্রির আগে সরাসরি আমাদের সাথে কথা বলে তাহলে আমরা অবশ্যই তার পুরো থান কিনে নেব।

মহাকুমা প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই বিষয়গুলি নিয়ে মহকুমা স্তরে বৈঠক করেছে। আমরা কৃষকদের কাছে ভরসার জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছি। একইসঙ্গে চেক যাতে তাড়াতাড়ি একাউন্টে প্রেমেন্ট হয় সেই বিষয়ে ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

কোচবিহারের জেলাশাসক পবন কাদিয়ান জানান, মহকুমা থেকে কয়েকটি সমস্যার কথা ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে জানানো হয়েছে। আমরা বিষয়গুলি সমাধানের চেষ্টা করছি। আরো বেশিসংখ্যক কৃষকের ধান যাতে আমরা সরাসরি কিনতে পারি সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। প্রতিটি মিল মালিক কে পর্যাপ্ত পরিবহনের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন