কোচবিহার শীতলকুচিতে লকডাউন অমান্যকারীদের শায়েস্তা করতে লাঠি হাতে পথে নামলেন দাবাং পুলিশ অফিসার মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী

UBG NEWS, মাথাভাঙ্গা, ১৬ মেঃ  করণা মোকাবেলায় রাজ্যের নির্দেশ অনুযায়ী আজ থেকে আগামী ৩০ শে মে পর্যন্ত পূর্ণ লকডাউন।

এই লকডাউন অমান্য কেউ করছে কিনা এ বিষয়ে আজ সকাল সকাল মাথা ভাঙ্গা থানার পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন শীতলকুচি থানার পুলিশ আধিকারিক মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী।

এদিন ওসি মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তীর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী শীতলকুচি বাজার সহ  বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।

পুলিশকে দেখেই দশটার পর যে সমস্ত দোকানদার দোকান খোলা রেখেছিল তারা ভয়ে কেউ পালিয়ে গেছেন আবার কেউ কেউ সঙ্গে সঙ্গে শাটার বন্ধ করে দৌড়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। অনেকে অযথা আড্ডা মারছিলাম সেখানে পুলিশি হানা দিয়েছে। কারো কারো মুখে মাক্স লাগানো দেখা যায়নি এমন দৃশ্য যখন পুলিশের চোখে পড়ে তৎক্ষণাৎ পুলিশ তাদেরকে গিয়ে ধরে ফেলে।

এমত অবস্থায় বেশ কয়েকজন মাস্ক বিহীন মানুষ কে পুলিশ থানায় ধরে নিয়ে যায়। আজকের এই অভিযানে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে শীতলকুচি থানার ওসি জানান।

পুলিশের আজকের এই ভূমিকা সত্যি সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে বলে মানুষের মুখে বলতে শোনা গেছে। এভাবে যদি পুলিশ প্রশাসন  করোনা মোকাবেলায় অভিযান চালায় তাহলে নিশ্চিত ভাবে করোনা মোকাবিলার যা যা নিয়ম কানুন আছে মানুষ সেটা মানতে বাধ্য হবে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।

২০২০ সালের করোনা পরিস্থিতি সময়ে এক হাতে সামলেছেন লকডাউন অমান্যকারিদের, অন্যহাতে লকডাউন সময়ে বিভিন্য ভাবে দুঃস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। জেলা বাসীর প্রিয় পুলিশ অফিসার হয়ে উঠেছেন তিনি। এবার সেই শীতলকুচিকে ঠান্ডা করতে পাঠানো হল এই দাবাং পুলিশ অফিসাকে।

প্রসঙ্গত গত ১০ এপ্রিল চতুর্থ দফা ভোটে উত্তপ্ত ছিল শীতলকুচি৷ কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল চারজনের৷ অপর একটি ঘটনা মিলিয়ে মোট মৃত্যু হয় পাঁচ জনের৷ এরপরেও ভোট গণনার দিন সন্ধ্যায় ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শীতলকুচি। শীতলখুচিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যুবকের ঘটনা ঘটে। শীতলকুচি কাণ্ডের জেরে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই সাসপেন্ড করা হয় কোচবিহারের অপসারিত এসপি দেবাশীষ ধর কে৷

কোচবিহারে পুলিশ সুপার বদলের পরেই সাসপেন্ড করা হয় তাঁকে৷ চতুর্থ দফার ভোটে তিনিই ছিলেন জেলার পুলিশ সুপারের দায়িত্বে৷

এরপর নতুন পুলিশ সুপার কে কান্নান এসেই জেলা পুলিশে রদবদল করা হয় এবং জেলা পু এর নির্দেশিকায় জানিয়ে দেওয়া হয় শীতলকুচি থানার ওসি পদে পাঠানো হচ্ছে পুলিশ অফিসার মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী-কে।

শীতলকুচি থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তীর বলেন, পুলিশের এই অভিযানে ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে। কাউকে রেওয়াত করা হবে না। করোনা বিধি যদি কেউ আমার না করে তার বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবেলা আইনে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হবে।