সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরেই কোচবিহার রাজবাড়ি, কারণ ডিজিটাল ইন্ডিয়া!

কোচবিহার, ১২ জানুয়ারিঃ দৈনিক প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ পর্যটক কোচবিহার রাজবাড়ি পরিদর্শন করেন গেটের বাইরে থেকে। কারণ, তারা সাধারণ মানুষ। কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল ইন্ডিয়া প্রকল্পের খাড়া পড়েছে পর্যটন শিল্পে। বিশেষ করে কোচবিহার রাজবাড়িতে। গ্রামের মানুষ, কৃষিজীবী দিনমজুর মানুষ, রাজবাড়ীর টানে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসলেও ঢোকার উপায় নেই। কারণ ডিজিটাল ইন্ডিয়া চলছে। সত্যিই কি ডিজিটাল হতে সক্ষম হয়েছে ইন্ডিয়া??

পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক জেলা কোচবিহারে যেখানে এখনো কৃষিজীবী দিনমজুর মানুষের বসবাস সবথেকে বেশি। সেইখানে এই ডিজিটাল ইন্ডিয়া শব্দটি ভীষণরকম হাস্য জনক। কেন?? রাজবাড়ীর প্রবেশমূল্যের জন্য অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম অর্থাৎ ইউআরএল, বা বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট অ্যাপের উপর ভরসা করা হয়েছে। কোচবিহারের সাধারণ মানুষ এই অ্যাপটির নাম পর্যন্ত শোনেননি, প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি তারা রাজবাড়ীতে প্রবেশ করবে না??

কলকাতা থেকে কোচবিহারে ঘুরতে আসা এক পরিবার রুপা রায় এবং তার পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডিজিটাল ইন্ডিয়া বললেই ডিজিটাল ইন্ডিয়া হয়ে যাওয়া যায় না। যেখানে এখনও কৃষিজীবী মানুষের বাস, যে রাজ্যে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক, সেখানেই এই ধরনের ব্যবস্থা সত্যিই কষ্টদায়ক।

অপর একজন ব্যক্তি, নিশিগঞ্জ নিবাসী দয়াল বর্মন বলেন, অনলাইন ট্রানজেকশনের সুবিধা রয়েছে ঠিকই কিন্তু সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে। কেন্দ্রীয় সংস্থা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অনলাইন ট্রানজেকশনের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা অবশ্যই রাখা উচিত ছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষের যথেষ্ট হেনস্তা হতে হচ্ছে। বেশিরভাগ মানুষ ফিরে যাচ্ছে রাজবাড়ী না দেখেই, এদিকে একদিকে যেমন পর্যটন শিল্পের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি রাজবাড়ী রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ছে।

কোচবিহার রাজবাড়ি ইতিমধ্যেই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নোংরা আবর্জনা ঘাসে ঢেকে গেছে। টিকিট বিক্রি হচ্ছে না বলে একাধিকবার অভিযোগ উঠছে। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, কর্মী ছাঁটাই করতে পারে রাজবাড়ী কর্তৃপক্ষ। অথচ আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নারাজ আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া।

কর্মরত সুরক্ষা কর্মীরা বলেন, দৈনিক প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ পর্যটক ঘুরে যান রাজবাড়ী থেকে, অনলাইন ব্যবস্থা থাকার কারণে টিকিট কাটতে পারেন না। আমাদের কিছু করার নেই। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াররাজবাড়ীর দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের সাথে এই বিষয়ে কোনও ভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে অবিলম্বে এই বিষয় নিয়ে কোচবিহার জেলা শাসকের দ্বারস্থ হতে চলেছে কোচবিহারের সাধারণ বাসিন্দারা।