হকার উচ্ছেদের ঘোষণা কোচবিহার পৌরসভার, মানতে নারাজ প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্যরা!

কোচবিহার, ১১ জানুয়ারিঃ ২০১৯ সালে কোচবিহার জেলার মানুষ অন্য পৌরসভা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল হেরিটেজ সিটি কোচবিহারে রাস্তাঘাটে বসবেনা হকাররা। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সোমবার সকাল থেকে ঘোষণা শুরু হয় কোচবিহার পৌর এলাকায়। আর তাতেই পৌর প্রশাসক ভূষণ সিং এর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন পৌর প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্যরা।

নবনিযুক্ত পৌর প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য রাহুল রায়ের দাবি, এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা করা হয়নি। হকারদের পুনর্বাসনে চিন্তাভাবনা না করে এই ঘোষণা ঠিক নয়। এই ঘটনায় রীতিমতো ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোচবিহার জেলা রাজনীতিতে।

কোচবিহারের হকাররা রাস্তায় বসে স্থায়ীভাবে দোকান করতে পারবেন না, সিদ্ধান্ত কোচবিহার পৌর প্রশাসন ভূষণ সিংয়ের। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত ২০১৯ সালে নেওয়া হয়েছিল। ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতি থাকার কারণে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। নতুন করেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ব্যবস্থা করছে পৌরসভা।

কিন্তু পৌরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য রাহুল রায় মন্তব্য করে বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে গরিব মানুষের অসুবিধা হবে। তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই সিদ্ধান্ত কখনোই সমীচীন নয়।

বলাবাহুল্য, রবিবার ভূষণ সিংকে পৌরসভার পৌর প্রশাসক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছিলে রাহুল রায় সহ জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায় ঘনিষ্ঠ মহল। আজ আরও একবার পুর প্রশাসকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন তিনি।

ভূষণ সিং বলেন, যারা এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানেনা তাদের কথা বলার কোনও অধিকার নেই। এইভাবে বিরোধিতা চলতে থাকলে আমি প্রশাসনের কাজ ছাড়া পৌরসভার সমস্ত কাজ বন্ধ করে দেবো। কোথাও কোনো সমস্যা এখনই এই তিনজন নতুন সদস্য বুঝে নেবেন।

এছাড়াও তিনি মন্তব্য করেন, জেলা সভাপতি গামছা ওয়ালা সবজান্তা, তিনি সিদ্ধান্ত নিক পৌরসভা কিভাবে চলবে। এই ধরনের উস্কানিমূলক লোক নিয়ে প্রচার চালানোর ক্ষমতা আমার নেই। সব বিষয়ে বিরোধিতা করা একটা অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন ভূষণ বাবু।

প্রসঙ্গত, কোচবিহার জেলার রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় এবং ভূষণ সিং এর মধ্যে রাজনৈতিক অন্তর্কলহ চরম আকার ধারণ করেছে। জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য করেছেন পৌর প্রশাসন। পৌর প্রশাসনকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরব হয়েছেন পার্থ প্রতিম রায় ঘনিষ্ঠ মহল।

এমনকি এইভাবে চলতে থাকলে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দল, এমনটাও করা মন্তব্য করেছেন তিনি। আগামীতে হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে কি পরিনতি বা পরিস্থিতি তৈরি হয় সেটাই এখন দেখার।