কোচবিহার কোতোয়ালি থানার আইসি সৌম্যজিৎ রায়ের বদলি রদের দাবিতে এবার গণস্বাক্ষর গ্রহন কর্মসূচী

কোচবিহার, ১৫ জানুয়ারিঃ কোচবিহার কোতোয়ালি থানার আইসি সৌম্যজিৎ রায়ের বদলি রদের দাবিতে এবার গণস্বাক্ষর গ্রহন কর্মসূচীতে নামল কোচবিহার নাগরিক চেতনা মঞ্চ। আজ, সোমবার সন্ধ্যায় কোচবিহার নাগরিক চেতনা মঞ্চের পক্ষ থেকে কোচবিহার দাস ব্রাদার্স মোড়ে এই কর্মসূচী গ্রহন করা হয়। এদিন আইসি সৌম্যজিৎ রায়ের বদলি রদের এই গণস্বাক্ষর গ্রহন কর্মসূচীতে এগিয়ে আসেন কোচবিহারের সাধারণ মানুষ। বদলি রদের দাবিতে স্বাক্ষর করেন সকলেই।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি, সৌম্যজিৎ বাবুর বদলি রদের দাবিতে কোচবিহার নাগরিক চেতনা মঞ্চের পক্ষ থেকে জোড়া ডেপুটেশন কর্মসূচী গ্রহন করা হয়। জেলা শাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের হাতে ডেপুটেশন তুলে দেয় এই মঞ্চ। তাদের দাবি, আইসি সৌম্যজিৎ রায়ের বদলি রদ করতে হবে।

উলেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি কোচবিহার কোতোয়ালি থানার আইসি সৌম্যজিৎ রায় সহ রাজ্যের মোট ৭০ জন পুলিশ আধিকারিকের বদলির বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করে রাজ্য পুলিশ। সেখানে সৌম্যজিৎ রায়ের বদলির খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ঝড় ওঠে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সমাজের সকল স্তরের মানুষের খুব কাছের হয়ে উঠেছিলেন সৌম্যজিৎবাবু। কোতোয়ালি থানার দায়িত্বে আসার পর থেকেই দুষ্কৃতী দমনে তৎপর ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছে তাকে। শহরের পাশাপাশি গ্রামেও কমে গিয়েছিল অপরাধের সংখ্যা। বেআইনি গাঁজা, মদ, বাইক পাচার থেকে শুরু করে তোলাবাজি ছিনতাইয়ের ঘটনায় অপরাধীদের ধরতে তৎপর ছিলেন সৌম্যজিৎ বাবু।

শুধু তাই নয়, করোনা পরিস্থিতি সময়ে এক হাতে সামলেছেন লকডাউন অমান্যকারিদের, অন্যহাতে লকডাউন সময়ে বিভিন্য ভাবে দুঃস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। জেলা বাসীর প্রিয় পুলিশ আধিকারিক হয়ে উঠেছেন তিনি। তার বদলির খবর সামনে আসতেই মন খারাপ সকলেরই। ঝড় উঠে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এদিন কোচবিহার নাগরিক চেতনা মঞ্চের সদস্যরা জানান, আইসি স্যার আসার আগে সাধারণ মানুষ থানায় যেতে ভয় পেত, কিন্তু সাধারণ মানুসের সাথে মিশে গিয়ে শহরকে তিনি যে ভাবে আগলে রেখেছেন, এর আগে কোনও পুলিশ অফিসারকে তা করতে দেখা যায় নি। এছাড়া দুষ্কৃতী দমনে তৎপর তিনি। যার জেরে কমে অনেকটাই কমে গিয়েছে অপরাধের সংখ্যা।

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, মঞ্চের আশঙ্কা, ভোটের আগে এই বদলির ফলে জেলার শান্তি শৃঙ্খলা ব্যাঘাত ঘটতে পারে। বাড়তে পারে রাজনৈতিক হিংসাও। তিনি কঠোর হাতে এসব বিষয় সুন্দর ও সঠিক ভাবে সামলেছিলেন।

মঞ্চের বক্তব্য, নতুন যিনি আসবেন তার এই বিষয়ে বুঝে উঠতে অনেকটাই সময় লেগে যাবে। তাই মঞ্চের পক্ষ থেকে দাবি, নির্বাচন পর্যন্ত সময়ে তাকে জেলায় রাখলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এদিকে এরই মধ্যে আজ বদলি করা হল কোচবিহার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লাল্টু হালদারকে। তাকে রাজ্যের টেলিকমিউনিকেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার করে পাঠানো হল। তার জায়গায় কোচবিহারে নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে আসছেন কুমার সান্নি রাজ। এতদিন তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহকুমার এসডিপিও পদে ছিলেন।