কোচবিহার জেলা তৃনমূল কংগ্রেস সভাপতি পার্থ ও শহর ব্লক সভাপতির অপসারনের দাবি, দলের বিরুদ্ধে ফের বিস্ফোরক ভূষণ সিং

কোচবিহার, ৯ জানুয়ারিঃ এবার দলের জেলা ও ব্লক সভাপতিকে অপসারণের দাবি তুললেন কোচবিহার পুরসভার প্রশাসক তথা তৃনমূল কংগ্রেস নেতা ভূষণ সিং।

শনিবার তিনি কোচবিহার ব্রাহ্ম মন্দির এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, “কোচবিহার শহর ব্লক সভাপতি মীরজাফর। যা করেছে সেটা ঠিক করে নি। প্রয়োজনে কান ধরে নিয়ে এসে মুচলেকা লেখিয়ে নিব। রাজ্য নেতৃত্বের কাছে দাবি জানাবো তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য।“ শুধু ব্লক সভাপতিকে নিয়েই ক্ষান্ত থাকেন নি ভূষণ সিং।

তিনি আরও বলেন, “জেলা সভাপতি পারছেন না। তাই তাকেও সরিয়ে দেওয়া উচিত। গোটা জেলা থেকে নেতৃত্বরা যোগাযোগ করছেন। কেউ জেলা সভাপতির কাজকর্মে সন্তুষ্ট নন।”

তৃনমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন ব্লক, অঞ্চল ও ওয়ার্ড কমিটি গুলো ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই দলের জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ভূষণ বাবু। গতকাল কোচবিহার শহর ব্লক কমিটি নিয়ে জেলা সভাপতির ঘোষিত কমিটির পাল্টা একটি কমিটি ঘোষণা করে দেন তিনি। শুধু তাই নয়, কোচবিহার শহর ব্লক সভাপতি নিরঞ্জন দত্ত ও জেলা সভাপতি মিলে লেনদেন করে কমিটি গঠন করেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন।

এদিন ফের ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে সরব হয়ে বিস্ফোরক ভাবে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলেন। তবে এনিয়ে এখনও রাজ্য নেতৃত্বের সাথে কথা না হলেও জেলার বিক্ষুব্ধ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করা হতে পারে বলেও এদিন ইঙ্গিত দেন ভূষণ বাবু। তিনি বলেন, “রাজ্য নেতৃত্ব নিশ্চয়ই সমস্ত বিষয়ের উপরে নজর রাখছে। বিষয় গুলো খোঁজ খবর নিচ্ছে। সময় মত ঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমি আশাবাদী।“

কোচবিহারে তৃনমূল কংগ্রেসের কমিটি গঠন নিয়ে শুধু ভূষণ সিং নন, জেলার বেশ কিছু নেতৃত্ব প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তৃনমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোকন মিয়াঁ জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়কে রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ বাচ্চা ছেলে বলে কটাক্ষ করেন। তুফানগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকে পাল্টা কমিটি ঘোষণা হয়।

কোচবিহার ১ নম্বর ব্লক কমিটি ও দুই অঞ্চল কমিটি মিলিয়ে ১৬ জন একযোগে পদত্যাগ করেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসক দল তৃনমূল কংগ্রেস কোচবিহার জেলা সংগঠন নিয়ে কার্যত বিব্রত বলেও মনে করা হচ্ছে। এই অবস্থায় রাজ্য নেতৃত্ব কি অবস্থান নেন, এখন সেটাই দেখার।