শীতলখুচি বিধানসভা কেন্দ্রের ১২৬ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চার জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করল সিআইডি

কোচবিহার, ১৮ এপ্রিলঃ শীতলখুচি বিধানসভা কেন্দ্রের ১২৬ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চার জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করল সিআইডি।  কোচবিহার জেলা পুলিশ সুপার দেবাশিস ধর সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গতকাল সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব ভার গ্রহন করে। গত ১৫ এপ্রিল থেকেই তাঁরা তদন্তের কাজ শুরু করেছে। তবে জেলা পুলিশ সুপার ভাইরাল ভিডিও নিয়ে সত্যতা যাচাই করা হয়নি বলেও জানিয়েছেন।

চতুর্থ দফার নির্বাচনে অর্থাৎ ১০ই এপ্রিল শীতলখুচির জোড়পাটকি এলাকায় ৫/১২৬ নম্বর বুথে গুলি বিদ্ধ হয়ে চারজন নাগরিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন জানায়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতেই ওই চার জনের মৃত্যু হয়েছে। গোটা ঘটনায় তোলপাড় শুরু রাজ্য রাজনীতিতে। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরের দিন শীতলখুচিতে এসে শহীদের পরিবারদের সাথে দেখা করার কথা ঘোষণা করেন।

কিন্তু নির্বাচন কমিশন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাইরের জেলার কোন রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রী কোচবিহারে আসতে পারবেন না বলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ার পর ১৪ এপ্রিল মাথাভাঙায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি শীতলখুচির পৃথক দুটি ঘটনায় মৃত ৫ জনের পরিবারের লোকজনদের সাথে দেখা করেন। সেখানেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ক্ষমতায় ফিরেই তিনি দুটি ঘটনারই তদন্ত করাবেন, এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।

ওই দুই ঘটনা নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। প্রথম ঘটনা শীতলখুচির ২৮৫ নম্বর বুথে রাজনৈতিক হিংসায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক বিজেপি সমর্থক আনন্দ বর্মণের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তারও করেছে বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে ওই বিধানসভারই ১২৬ নম্বর বুথে সিআইএসএফের কর্মীর গুলিতে চার জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একদিকে যেমন সিআইএসএফের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়, তেমনি স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়। ওই দুই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে পুলিশ তদন্তের কাজ শুরু করে। এদিন পুলিশ সুপার জানান শীতলখুচি বিধানসভার ১২৬ নম্বর বুথের ঘটনার তদন্ত ভার সিআইডি গ্রহণ করে তদন্তের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।