কোচবিহারের তৃণমূল কংগ্রেসের কমিটি গঠন নিয়ে মুখ খুললেন চেয়ারম্যান তথা মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন

কোচবিহার, ৯ জানুয়ারিঃ কোচবিহার জেলা তৃনমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে কমিটি গঠনের মাধ্যমে। জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায় নিজের মন মর্জি মতো কমিটি গঠন করেছে বলে একাধিক অভিযোগ উঠেছে বিধায়ক এবং অন্যান্য নেতৃত্বদের মাধ্যমে। অবশেষে এই বিষয়ে মুখ খুললেন জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান তথা মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন।

তিনি বলেন, আপাতত তিনি তার নিজের বিধানসভা এলাকা মাথাভাঙা নিয়ে চিন্তিত। জেলার অন্য কোথাও কোনও অনুষ্ঠান হলে যদি তার ডাক পড়ে তবেই তিনি জান। বলা বাহুল্য, ব্লক কমিটি গঠন এবং কমিটি গঠন সংক্রান্ত কোনও সাংবাদিক বৈঠকে দেখা যায়নি বিনয় বাবুকে। সুতরাং এই বিষয়টি ধরে নেওয়া যেতেই পারে যে তাকে ডাকা হয়নি।

তৃণমূল দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোচবিহার সফরের সময় কোর কমিটির বৈঠকে জেলা ও ব্লক কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশিকা অনুসারে, প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় কমিটি গঠনের প্রধান দায়িত্ব থাকবে বিধায়কের। ব্লক সভাপতি বিধায়কের সঙ্গে আলোচনা করে সবাইকে নিয়ে কমিটি গঠন করবেন। বিশেষ করে যারা তৃণমূল কংগ্রেসের পুরনো দিনের কর্মী তাদেরকে সামনের সারিতে রাখার নির্দেশ ছিল।

অভিযোগ, রাজ্য নেতৃত্ব তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নির্দেশকে বেশিরভাগ উলংঘন করা হয়েছে কোচবিহারের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে। আর সেই কারণেই কমিটি নিয়ে এত বিরোধিতা। ইতিমধ্যেই কোচবিহার শহর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস এবং কোচবিহার পৌর এলাকায় জেলা সভাপতি ঘোষিত কমিটিতে বাতিল করে নতুন করে কমিটি ঘোষণা করেছেন ভূষণ সিং। একই চিত্র দেখা গেছে কোচবিহার দুই নাম্বার ব্লকে, অর্থাৎ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে।

কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে তুফানগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকের কমিটি ভাঙতে চলেছে। বিশেষ করে চারটি অঞ্চল নতুন করে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এলাকার বিধায়ক ফজল করিম মিয়া। ইতিমধ্যেই সিতাই বিধানসভা কমিটি নিজে থেকেই পরিবর্তন করে নিয়েছেন বিধায়ক জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্র কমিটি নিয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে। সুতরাং ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের এই নবগঠিত কমিটি গুলির ভবিষ্যৎ কি হবে তা এখন প্রশ্নচিহ্নের সামনে।

প্রকাশ্যে না বললেও মাথাভাঙা বিধানসভা এলাকায় কমিটি নিয়েও যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে কর্মীদের মধ্যে। বিনয় বাবু বলেন, কোর কমিটির একটি বৈঠকের মাধ্যমে নতুন করে কমিটিকে পুনরুদ্ধার করা যায় কিনা সে বিষয়ে আলোচনা করব। প্রয়োজনে রাজ্য নেতৃত্ব দের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করা হবে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা রাজ্য কমিটির সদশ্য রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান বিনয় বাবু।