কোচবিহার

ত্রিপুরাকে আফগানিস্তান হওয়া থেকে বাচাতে বিজেপি-কে হারাতে হবে : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : রবিবার রবীন্দ্র ভবনের সামনে তৃণমূলের জনসভায় বক্তব্য রাখলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগাগোড়া ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব এবং বিজেপি-কে নিশানায় রেখে বড়োসড়ো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তিনি। বললেন, “বিজেপি-কে না হারালে ত্রিপুরা আফগানিস্তান হয়ে যাবে”।

ব্কতৃতার শুরুতেই পাঁচ আগের ঘটনার কথা উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, “২০১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বরের কথা মনে পড়ছে। ওই বছর আমি ঠিক একই জায়গায় যখন সভা করেছিলাম, তখন মানিকবাবুদের সরকার ছিল ত্রিপুরায়। তখন আমাদের লড়াই ছিল সিপিএমের বিরুদ্ধে। আমাদের ব্যর্থতায় ২০১৮ সালে এখানে বিজেপি সরকারে এসেছিল।

আজকে ত্রিপুরার মানুষ বুঝতে পেরেছেন, পরিবর্তনের নামে সে বার যাদের নির্বাচিত করে এনেছিলেন, সেই বিজেপি-কে আনা আর খাল কেটে কুমির আনা একই। আজ পাঁচ বছর পর একই জায়গায় আমি সভা করছি। তখন এত বিধিনিষেধ হয়তো ছিল না, এত বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি আমাদের। তখন পাঁচ হাজার লোক সভার সামনে থেকে বক্তব্য শুনেছিলেন, আজ হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই পাঁচশো। কিন্তু আজ ত্রিপুরার ২০ লক্ষ মানুষ এই সভা দেখছেন। ছুটির দিনে বিপ্লববাবুর ছুটি হয়ে গিয়েছে”।

অভিষেকের সভার আগের দিনই নতুন কোভিড নির্দেশিকা জারি করে ত্রিপুরা প্রশাসন। সে প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “ছলে-বলে-কৌশলে তৃণমূলকে আটকানোর চেষ্টা করছে। এত ভয় কীসের। আপনারা এত বড়ো রাজনৈতিক দল, এত অর্থ, এত গুন্ডা। অন্য দিকে, জোড়াফুলের পতাকা আর হাওয়াই চটি পরা এক মহিলা রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। আমাকে আটকানোর জন্য ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে। বিপ্লববাবু আপনার রাগ আমার উপর, আপনি ১৪৪ আমার জন্য করুন। ত্রিপুরার মানুষ কী দোষ করেছে? ত্রিপুরার মা-ভাই-বোনেদের উপর অত্যাচার করছেন কেন? আমি আসব বলে কোভিড টেস্টের গাইডলাইন পাল্টে দিয়েছে। যে ভাবে হোক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকাতে হবে। আপনি আমার থেকে ভ্যাকসিনেশন সার্টিফিকেট চান, যে যেখান থেকে আসছেন, সবার কাছে কেন চাইছেন”!

Ad

বিজেপি-র উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তৃণমূল নেতা বলেন, “বিপ্লব দেব সরকার চাকরি দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কেউ চাকরি পেয়েছেন কি? বরং চাকরি হারিয়েছেন ১০ হাজারের বেশি তরুণ। আমি আপনাদের সামনে কথা দিচ্ছি, আমরা ক্ষমতায় এলে এক জনেরও চাকরি যাবে না। বরং যাঁদের চাকরি গিয়েছে, তাঁরা কাজ ফিরে পাবেন। সে জন্য আইনি পথে যা যা করার, সব করবে তৃণমূল। আজ খুঁটিপুজো করলাম, ২০২৩ সালে বিসর্জন দেব বিজেপি-কে। কারণ বিজেপি-কে না হারালে ত্রিপুরা আফগানিস্তান হয়ে যাবে। একটা সুইচ টিপলেই বিজেপি ভেঙে ১৫ জন বিধায়ক চলে আসবেন আমাদের দিকে। কিন্তু আমরা সেটা চাই না। ২০২৩ সালে বিজেপিকে উপড়ে ফেলাই লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে আমরা সফল হবই”।

এ দিনের সভা থেকেই অভিষেক ঘোষণা করেন, “বাংলায় যে সমস্ত জনকল্যাণমুখী প্রকল্প আছে, ত্রিপুরায় সবকটি প্রকল্প চালু করবে তৃণমূলের সরকার। ডিসেম্বরে বিবেকানন্দ মাঠে সভা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৩ সালে আমরা বিজেপি-কে উপড়ে ফেলব। বিপ্লব দেবের দুয়ারে গুন্ডা প্রকল্প চিরকালের জন্য বন্ধ করবে তৃণমূল। এখানে চালু হবে দুয়ারে সরকার”।

[ লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য ফলো করুন ইউবিজি নিউজ ফেসবুক পেজ । ব্রেকিং নিউজ এবং ডেইলি খবরের আপডেটে পেতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে  ]