তৃণমূল কংগ্রেসের কমিটি ঘোষণার সাথে সাথে ফের দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ভূষণ সিং, নিজের পদ থেকে দিলেন ইস্তফা

কোচবিহার, ৬ জানুয়ারিঃ ‘দল কারো ব্যক্তিগত নয়, পার্থ প্রতিম রায় নিজের মতো করে দল চালানোর চেষ্টা করছে, এইভাবে চলতে থাকলে নয়টি বিধানসভার একটিও জিততে পারবে না তৃণমূল কংগ্রেস’।

বুধবার কোচবিহারে শহর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার সাথে সাথে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য কোচবিহার পৌরসভার পৌর প্রশাসক ভূষণ সিং-এর।

শুধু তাই নয় নবগঠিত এই কমিটিতে তিনি সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন, সেই পদ থেকেও সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে ইস্তফা দেন তিনি। এই বিষয়ে জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ভূষণ সিং বলেন, বেশ কিছুদিন আগেই টাউন ব্লক কমিটির একটি খসড়া তিনি পার্থপ্রতিমকে পাঠিয়েছিলেন, আজ কারো সাথে কোনও কথা না বলে একটি কমিটি গঠন করেছেন পার্থপ্রতিম। যাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা বেশিরভাগ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে ফলদায়ক হবে না। এইভাবে চলতে থাকলে অবিলম্বে শহর হাতছাড়া হবে তৃণমূল কংগ্রেসের।

একইসাথে তিনি বলেন, দল আমাকে যে কাজ দিয়েছে আমি সেই কাজ করব। অবশ্যই সেটা পার্থ প্রতিম রায়ের মন মর্জি মতো নয়। কোচবিহারের বেশিরভাগ বিধায়ক তার প্রতি ক্ষুব্ধ। রাজ্য নেতৃত্ব অবিলম্বে এই সমস্যা না বুঝলে কোচবিহার জেলায় তৃনমূল সংগঠনের অবস্থা শোচনীয় হয়ে দাঁড়াবে।

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোচবিহার সফরের পরে পার্থপ্রতিম রায়ের বিরুদ্ধে অপমানের অভিযোগ এনেছিলেন ভূষণ সিং। এরপর কুচবিহার শহরে বঙ্গ ধ্বনি যাত্রাসহ একাধিক দলীয় কর্মসূচি থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলেন তিনি। আজ আরও একবার বিস্ফোরক হয়ে ওঠেন ভূষণ সিং।

তিনি বলেন, সংগঠনের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার কোনো বাধা নেই কিন্তু অবশ্যই মন মর্জি মতো কাজে বাধা রয়েছে। কারো সাথে কোনও রকম আলোচনা না করে নিজের মতো করে যে কমিটি সভাপতি ঘোষণা করছেন তার দায়িত্ব তাকে নিতে হবে। আমি নিতে পারবো না। বলা বাহুল্য, আজকের এই কমিটিতে ইতিমধ্যেই নাটাবাড়ি বিধানসভা এলাকার কোনও অঞ্চলের কমিটি ঘোষণা করেননি পার্থপ্রতিম, পাশাপাশি কোচবিহার শহর পৌরসভার ১১ ও ১২ নাম্বার ওয়ার্ডের ওয়ার্ড প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেননি তিনি। এই নিয়ম রীতিমতো বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

আজকের এই ঘটনায় আরও একবার তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে উঠে এলো। যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি রয়েছে তাতে শাসকদল ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে কতটা সুবিধা করে উঠতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহল।