কোচবিহারে রোগীর মৃত্যু নিয়ে গাফিলতির অভিযোগ ভিত্তিহীন, আন্দোলনে নামলেন এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কর্মীরা

কোচবিহার, ২৩ জুনঃ রোগীর মৃত্যু নিয়ে ভিত্তিহীন গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি করে আন্দোলনে নামলেন কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মীরা। আজ মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপির অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখায় তাঁরা।

তাঁদের দাবি, গতকাল কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনোজ ওঝা (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। ওই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তাঁর পরিবারের লোকজন চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ জানায়। অভিযোগ করা হয় অক্সিজেন সিলিন্ডার পাল্টানোর জন্য স্বাস্থ্য কর্মী ছিলেন না। কিন্তু ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাই ওই রোগীর পরিবারের লোকজনকে ভিত্তিহীন অভিযোগ করায় স্বাস্থ্য কর্মীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

হাসপাতালে এক নার্স জয়িতা ঘোষ বলেন, “ ওই রোগীকে প্রথমে ১৪ জুন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তখন ভর্তির জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে রোগীকে ভর্তি না করে বাড়িতে নিয়ে চলে যাওয়া হয়। এরপর ফের ২০ জুন ওই রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে ফের আসে পরিবারের লোকজন। তখন রোগীর অবস্থা অনেকটা সঙ্কট জনক হয়ে উঠেছিল।

তাই রোগীকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে এখানে রেখেই চিকিৎসা করানো হবে বলে জানানো হয়। পরে রোগীর অবস্থা আরও সংকটজনক হলে পরিবারের লোকজনকে জানাতে মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়। প্রথম দিকে কোন ভাবেই ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল। শেষ চতুর্থ বারের বেলা পরিবারের লোকজনদের পাওয়া যায়। তাঁদের সমস্ত ঘটনা জানানো হয়। তারপরেও কেন এভাবে ভিত্তিহীন গাফিলতির অভিযোগ তোলা হল, বুঝতে পারছি না।”

অক্সিজেন সিলিন্ডার লাগানোর দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য কর্মী তপন বর্মণ বলেন, “গতকাল ভোরের দিকে রোগীর মৃত্যু হওয়ার পর অক্সিজেন খুলে দিয়ে তারপর ওই ওয়ার্ড থেকে অন্যত্র যাই। পরে যখন সংবাদ মাধ্যমে এই খবর জানতে পারলাম, তখন তো অবাক হয়ে গিয়েছে।”

কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি রাজীব প্রসাদ বলেন, “গতকাল ওই রোগীর পরিবারের অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধির মাধ্যমে জানতে পারার পর সাথে সাথে খোঁজ নিয়েছে। চিকিৎসায় কোন গাফিলতি ছিল না। স্বাস্থ্য কর্মী ও নার্সদের দাবি ওই রোগীর পরিবারের লোকজনকে ভুল স্বীকার করতে হবে। আমি রোগীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। তাঁদের আসতেও বলেছি। দেখা যাক কি হয়।”