Ad
আলিপুরদুয়ার

আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা মহাশ্মশান সহ ব্লকের একাধিক শ্মশান সংস্কারের দাবিতে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

ইউবিজি নিউজ, আলিপুরদুয়ারঃ আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা মহাশ্মশান সহ ব্লকের একাধিক শ্মশান সংস্কারের দাবিতে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা। ফালাকাটা মহাশ্মশান এতদা অঞ্চলের প্রাচীনতম শ্মশানের মধ্যে একটি । ফালাকাটার এই পুরোনো শ্মশান। পরিচর্চার অভাবে বেহাল দশা । এতে শবদেহ সৎকারের জন্য মৃতের পরিবার আত্মীয় পরিজন এলে সমস্যায় পড়েন । শ্মশান ঘেঁষেই আছে মুজনাই নদী । নদীর পার ঘাট জঙ্গলে ভরে গেছে, সেই জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা সাপ পোকামাকড়ের কামড়ের আশঙ্কায় ভয়ে ভয়ে শবদাহ করা হয় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা ।

বসার যে জায়গা আছে সেটাও নোংরা, জায়গাটিকেও পরিষ্কার করার আবেদন জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ । এতদা অঞ্চলের মানুষের শেষকৃত্যের একমাত্র ভরসা ফালাকাটা মহাশ্মশান । কয়েকদিনের প্রচন্ড বৃষ্টির ফলে বর্তমানে স্থানটি জঙ্গলময় হয়ে আছে বহুদিন ধরে । এরফলে সমস্যায় পড়ছেন মৃতের পরিবার থেকে আগত পরিজনেরা । শ্মশানের জঞ্জাল পরিষ্কারের পাশাপাশি চুল্লির ওপর চালা দেওয়ার দাবিও করছেন এলাকাবাসী । একটি চুল্লির লোহার বার গুলো চুরি হয়ে যাওয়ার ফলে বর্তমানে দুটো চুল্লি রয়েছে । তার মধ্যে একটি চুল্লির ওপর শেড থাকলেও অপরটি উন্মুক্ত । ফলে বর্ষারদিন এলেই একসাথে একাধিক মৃতদেহ সৎকারের জন্য এলে মৃতের আত্মীয় পরিজনদের অপেক্ষমান থাকতে হয় একটি সবদেহ পুরোপুরি সৎকার না হওয়া পর্যন্ত । যে দুটি চুল্লি রয়েছে তাদেরও অবস্থা খুবই খারাপ কোন রকমে চলছে কাজ ।

Ad

দিন দিন বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্টান ফালাকাটায় যেভাবে গড়ে উঠেছে তাতে বহু মানুষ বাইরে থেকে এসে এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন । ফলে ক্রমবর্ধমান শহররুপি ফালাকাটার জনসংখ্যা গত এক দশকে যেভাবে বেড়েছে তাতে ইলেকট্রিক চুল্লির অত্যন্ত প্রয়োজন । বর্তমানে মৃতদেহ সৎকার করার পর্যাপ্ত খড়ি পাওয়াও দুস্কর হয়ে পড়েছে । এই রকম পরিস্থিতিতে ফালাকাটা মহাশ্মশানের পুরোনো চুল্লি গুলো সংস্কার করার পাশাপাশি নতুন ইলেক্ট্রিক চুল্লি বসানোরও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে জনগণ ।

সেই সাথে শ্মশানের প্রেক্ষাগৃহের পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে এনে বসার সুবন্দবস্ত করার আবেদনও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা । ফালাকাটা ১নং গ্রামপঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত সদস্য খোকন বর্মন বলেন, ফালাকাটা মহাশ্মশান পরিষ্কারের কাজটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে করা হয় । তবে শ্মশানটিকে ঢেলে সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে । ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতি আশ্বাস দিয়েছে এব্যাপারে আলোচনা করা হবে। ফালাকাটা মহাশ্মশান ছাড়াও ফালাকাটা ২নং গ্রাম পঞ্চায়েত ও দক্ষিণ খয়েরবাড়ী অঞ্চলের শ্মশান গুলিরও বেহাল অবস্থা । শবদেহ দাহ করার চুল্লি গুলোর ওপর নেই কোনো চালা । ফলে বর্ষাকালে মৃতদেহ সৎকারের জন্য নিয়ে এলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় মৃতের আত্মীয় পরিজনদের।

এছাড়া ফালাকাটার এই সকল অঞ্চলেও যেভাবে জনসংখ্যা বেড়েছে তাতে একটি চুল্লি পর্যাপ্ত নয় বলেই দাবি স্থানীয় মানুষজনের । ময়রারডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের চারমাইল পাঁচমাইল বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কোনো শ্মশান নেই। আশেপাশের খাস জমিতে কিংবা নদীর ধারে কোনোক্রমে মৃতদেহ সৎকার করেন এতদা অঞ্চলের মানুষ । এই অঞ্চলেও একটি শ্মশান গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন এলাকার মানুষ । ফালাকাটা মহাশ্মশানের আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন শ্মশানে মৃতদেহ সৎকারের সময় বাতাসে প্রায়ই ছাই উড়ে আসে আশপাশের বাড়িতে যার ফলের দূষণ ছড়াচ্ছে।

সেই সাথে করোনা আবহে শহর কিংবা শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় করোনা সন্দেহে কিংবা করোনা সংক্রমিত কোনো ব্যক্তির মৃতদেহ সৎকারের জন্য ইলেক্ট্রিক চুল্লি ব্যবহার করা হচ্ছে । সামগ্রিক এই বিষয় গুলো নিয়েই ফালাকাটা মহাশ্মশানকে আধুনিকীকরণ করে ইলেক্ট্রিক চুল্লি বসানোর দাবি জোরালো হচ্ছে ফালাকাটায় ।

এই বিষয়ে বিজেপি আলিপুরদুয়ার জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মণ জানান বিগত দশ বছরে এই শ্মশানে পরিকাঠামো উন্নয়ণ হয়নি বর্তমানের সরকার এই দিকে নজর নেই তিনি আরো জানান ২০২১ আমরা ক্ষমতায় আসার পর মহাশশ্মান এর উন্নয়ণ আমরা করবো। এই বিষয়ে বামফ্রন্ট যুবনেতা বাপন গোপ জানান বামফ্রন্টের সময় এই শশ্মান ঘাট সংষ্কার করা হয়েছিল বর্তমানে এই শশ্মান ঘাটে ভগ্ন অবস্থা কিন্ত সরকারের পক্ষ থেকে সংষ্কার করা হচ্ছেনা ।

যদিও এই বিষয়ে ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুরেশ লালা জানান যে দিনপ্রতিদিন যেভাবে জনসংখ‍্যা বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে ইলেকট্রিক চুল্লি প্রয়োজন আমরা বিষয়টি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ণ মন্ত্রীকে জানিয়েছি।

আরও পড়ুন