ads

এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে সাত দফায় লোকসভা ভোট | UBG NEWS

UBG NEWS, ওয়েব ডেস্ক : অপেক্ষার অবসান। লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রবিবার বিকেল পাঁচটায় সাংবাদিক বৈঠকে সপ্তদশ লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করলেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক সুনীল অরোরা। তিনি জানান, আগামী ১১ এপ্রিল থেকে ১৯ মে পর্যন্ত সাত দফায় চলবে ভোটগ্রহণ। এর মধ্যে প্রত্যেক দফাতেই ভোট হবে পশ্চিমবঙ্গে। ফলাফল ঘোষণা আগামী ২৩ মে।

**পশ্চিমবঙ্গে কোন দফায় ক’টি আসনে ভোট গ্রহণ: 

১১ এপ্রিল (প্রথম দফা): ২টি আসন

১৮ এপ্রিল (প্রথম দফা): ৩টি আসন

২৩ এপ্রিল (প্রথম দফা): ৫টি আসন

২৯ এপ্রিল (প্রথম দফা): ৮টি আসন

৬ মে (প্রথম দফা): ৭টি আসন

১২ মে (প্রথম দফা): ৮টি আসন

১৯ মে (প্রথম দফা): ৯টি আসন

**দেশের ৫৪৩টি আসনের দফা-ভিত্তিক ভোটগ্রহণ:

১১ এপ্রিল (প্রথম দফা): ৯১টি আসন

১৮ এপ্রিল (প্রথম দফা): ৯৭টি আসন

২৩ এপ্রিল (প্রথম দফা): ১১৫টি আসন

২৯ এপ্রিল (প্রথম দফা): ৭১টি আসন

৬ মে (প্রথম দফা): ৫১টি আসন

১২ মে (প্রথম দফা): ৫৯টি আসন

১৯ মে (প্রথম দফা): ৫৯টি আসন

এর আগে ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় সাত দফায় ভোট গ্রহণ করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু লোকসভা ভোটে কখনও এত দীর্ঘ সময় ধরে ভোট গ্রহণ হয়নি পশ্চিমবঙ্গে। পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে বাংলায় পাঁচ দফায় ভোট নেওয়া হয়েছিল। ২০০৯ সালে ভোট গ্রহণ হয়েছিল তিন দফায়।

তবে গত বছর পঞ্চায়েত ভোটের সময় বেলাগাম রাজনৈতিক হিংসার ছবিটা ছড়িয়ে পড়তেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, লোকসভা ভোটে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হতে পারে! শুধু হিংসার ঘটনাই নয়, তার থেকেও বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল, পঞ্চায়েত ভোটের সময় প্রায় ২ কোটি মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। ৩৪ শতাংশ আসনে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি, বিশেষ করে বিজেপি নেতৃত্ব বারবার কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে বলেন, বাংলায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে সবরকম ব্যবস্থা নিতে হবে নির্বাচন সদনকে। বিরোধীদের সেই বক্তব্যকে কমিশন যে গুরুত্ব দিচ্ছে এ দিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরার বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়ে যায়। পৃথক ভাবে পশ্চিমবঙ্গের ভোট ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেননি ঠিকই। কিন্তু বলেন, যে সব রাজ্যে ভোটের সময় হিংসার ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে, যে রাজ্যগুলিতে প্রচুর স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে, সেখানে বাইরের রাজ্য থেকে অভিজ্ঞ আমলাদের বিশেষ অবজার্ভার হিসাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

এ ছাড়াও এ বারের ভোটে বিশেষ পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বাংলায় লোকসভা বা বিধানসভা ভোটের সময় বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করেন যে, আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হলেও যখন কোথাও হিংসার ঘটনা ঘটে তাদের দেখা যায় না। আসলে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যের পুলিশের কম্যান্ডে কাজ করে। ফলে রাজ্য পুলিশের অনেক কর্তা আধা সামরিক বাহিনীকে ঠিক মতো ব্যবহার করেন না। এই কারণেই বিরোধী নেতারা কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন, লোকসভা ভোটে বাংলায় পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগ করা হোক। কোথায় কত আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে তা ওই পুলিশ পর্যবেক্ষকরাই স্থির করবেন। সেই দাবিও মেনে নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

Post a Comment