ads

যুবক না বৃদ্ধ কোচবিহারের সাংসদ এবার কে, জল্পনা তুঙ্গে | UBG NEWS

UBG NEWS, কোচবিহার : যুবক না বৃদ্ধ কোচবিহার জেলায় লোকসভা নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে এই আলোচনাই এখন সর্বত্র। চা-পানের দোকান থেকে শুরু করে বিদ্বজনদের মাধ্যমেও উঠে আসছে এই একই আলোচনা। বিজেপি বা তৃণমূল কিংবা বামফ্রন্ট বা কংগ্রেস নয় আলোচনার মূল বিষয়বস্তু সাংসদ হয়ে কোচবিহার থেকে যুব পাড়ি দেবে নাকি বৃদ্ধ, অভিজ্ঞ ঘরেই পড়বে মতামত।

২০১৯ সালের নিরিখে যে মনোনয়ন জমা পড়েছে তার বেশিরভাগই বাইরের জেলার প্রার্থী বা বাসিন্দা বলাই শ্রেয়। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পরেশ অধিকারীর বাড়ি কোচবিহার শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে। পরিবহনের ব্যবস্থা খুব উন্নত নয় মেখলিগঞ্জ এলাকায়। তাই মেখলিগঞ্জে থেকে কোচবিহারে কিভাবে কাজ করবেন তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন চিহ্ন উঠছ সাধারণ ভোটারদের মনে।
বামফ্রন্ট ফরওয়ার্ড ব্লক মনোনীত প্রার্থী গোবিন্দ রায়, জলপাইগুড়ির বাসিন্দা। কোচবিহার জেলা থেকে প্রার্থী পায়নি বামফ্রন্ট তাই জলপাইগুড়ি থেকে ধরে এনে প্রার্থী দাঁড় করাতে বাধ্য হয়েছে তারা। এই একই ইস্যুতে ব্যাকফুটে বামফ্রন্ট।

ঘরের প্রার্থী বলতে কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী পিয়া রায় চৌধুরী এবং বিজেপি মনোনীত প্রার্থী নিশীথ প্রামানিক। বলা বাহুল্য এই দুই প্রার্থীরা বয়সে নবীন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম থাকলেও দক্ষতায় বেশ কিছুটা এগিয়ে তারা। নিশীথ প্রামানিক কোচবিহার জেলার এক অন্যতম বিতর্কিত নাম, তার নিজের এলাকা ভেটাগুড়ি দিনহাটার মানুষ তাকে পরোপকারী হিসেবেই চেনেন। যদিও বা রাজনৈতিক মহল তাকে যুব সংগঠক হিসেবে পরিচয় প্রদান করেছে এতদিন। অন্যদিকে কংগ্রেস প্রার্থী পিয়া রায় চৌধুরী বেশ কয়েক বছর থেকেই এলাকায় জনপ্রিয়তা লাভ করেছে নিজের কাজের মাধ্যমে। একই সাথে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পরেশ অধিকারী ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে মাত্র কয়েক মাস আগেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেই মনোনয়ন পেয়েছে, সে দিক থেকে বিচার করলে প্রাক্তন তৃণমূল ও প্রবীণ তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে দল।

চায়ের আড্ডায় কোচবিহারের শিক্ষক গণেশ রায় বলেন, ভোট কাকে দেবো সেটা বড় কথা দল বড় কথা নয়। আবার প্রাতঃভ্রমণে আসা কাকলি চক্রবর্তী, চঞ্চলা ভট্টাচার্জ দের কথায়, গ্রহণ যোগ্যতার নিরিখে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস যথেষ্টই ব্যাকফুটে, বিশেষ করে পৌর এলাকায়। ২০১৭ উপনির্বাচনেও কোচবিহার শহরে কিন্তু দাগ কাটতে পারেনি তৃণমূল। এমনকি স্বয়ং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বুথেও হার স্বীকার করতে হয়েছে তৃণমুলকেই। নিশীথের গা থেকে তৃণমূলের গন্ধ সম্পূর্ণ উড়ে গেছে কিনা জানিনা তবে সাধারণ জ্ঞান এটাই বলে তৃণমূল কংগ্রেস বিশ্বাসঘাতকতা করেছে নিশীথের সাথে। বাকিটা ভোটের সময় উত্তর দেবো।

একসময় বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি কোচবিহার জেলা ২০১১ সালের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে কোচবিহারে তৃণমূলের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়। তবে তার পেছনে ছিল বিরাট বাম শক্তির যোগদান। উদয়ন গুহ, জিতেন বর্মন, অর্ঘ্য রায় প্রধান, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, যারা এখন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক এর আসন অলংকৃত করে বসে আছেন তারা সকলেই বামফ্রন্ট থেকেই আগত।


সাধারণ মানুষের কথায় যে তৃণমূল কংগ্রেস কে কোচবিহার জেলায় পরিচালনা করতেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ তা এখন পরিচালনা করেন জামা পাল্টে আশা বামপন্থীরা। আর এটাই তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাকফুটে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। অপরদিকে সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিয়ে রাজনীতি করা অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে। বিজেপির ক্ষমতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে জেলায়, যার অন্যতম কারণ বিকল্প নেই। এক সময় বিকল্প খুঁজতে গিয়েই ক্ষমতায় উঠে এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস, তবে কি বিজেপির উত্থান এর ক্ষেত্রেও এই একই পদ্ধতি কাজ করবে?

লোকসভা নির্বাচনে গুটি সাজাতে ব্যস্ত সবা রাজনৈতিক দল কিন্তু সাধারণ কোচবিহার বাসিন্দারা এখন একটু অন্য মেজাজে। একাধিক মানুষের কথায় প্রচার কি হচ্ছে হোক ভোট টা তো আমি দেখব।

প্রার্থী নির্ধারণ হওয়ার পরেও প্রচারে খুব বেশি তৎপরতা দেখা যায়নি কোন পক্ষেরই। তৃণমূল কংগ্রেস শুধুমাত্র খুলি বৈঠকের উপরেই ভরসা করে বৈতরণী পার করার চেষ্টা করছেন। তবে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে বিজেপি সরাসরি মাঠে নেমেই করবে প্রচার। আর তো মাত্র কয়েকদিন বাকিটা সময়ের অপেক্ষা।

Post a Comment

0 Comments