ads

সীমান্তের ভোটে নিশীথ প্রামাণিকের থাবা আটকাতে তাঁর এক সময়কার অনুগামী আবুয়াল আজাদকেই হাতিয়ার করল তৃণমূল কংগ্রেস | UBG NEWS

UBG NEWS, কোচবিহার : সীমান্তের ভোটে নিশীথ প্রামাণিকের থাবা আটকাতে তাঁর এক সময়কার অনুগামী আবুয়াল আজাদকেই হাতিয়ার করল তৃণমূল কংগ্রেস।

দিনহাটা ১ নম্বর ব্লকের গীতালদহ ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আবুয়াল আজাদ। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিশীথ প্রামাণিকের অনুগামীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। নির্দল প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রধান হয়েছেন। শুধু তাই নয়, দিনহাটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বেশীর ভাগ এলাকায় মারাত্মক ভাবে প্রভাবশালী আবুয়াল। পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল প্রতীক পাওয়াদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হারিয়ে দিয়ে তাঁর প্রমাণও দেখিয়ে দিয়েছেন। লোকসভা নির্বাচনে নিশীথ প্রামাণিক কোচবিহার কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হওয়ার পর দিনহাটা সীমান্তের ভোট নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বিগ্ন ছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। আর তাই দেরি না করে খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ নিজের বাড়ির দফতরে আবুয়াল আজাদকে ডেকে নিয়ে এসে কথা বলেন। আর তারপরেই সীমান্তের ভোট তৃণমূলের কব্জায় নিয়ে আসতে ময়দানে নেমে পড়েন আবুয়াল।

আবুয়াল আজাদ জানিয়েছেন, ২১ মার্চ কোচবিহারে দলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বাড়িতে গিয়ে আলোচনা করেছেন। আর তারপর থেকেই তিনি সীমান্তের গ্রাম গুলোতে প্রচারে নেমে পড়েছেন। সীমান্ত ঘেঁষা গীতালদহ ১ ও ২ নম্বর, ওকরাবাড়ি সহ বেশ কিছু এলাকায় তাঁর অনুগামী কর্মীদের নিয়ে বৈঠক শুরু করে দিয়েছেন। পাশাপাশি দলের জেলা নেতৃত্বের নির্দেশে যুব তৃণমূলের সাথে যুক্ত কাউকেই যাতে নিশীথ প্রামাণিক গেরুয়া শিবিরে না নিয়ে যেতে পারেন, তার দিকেও নজর রাখছেন আবুয়াল। দিনহাটার সমস্ত এলাকাতেই ঘুরে ঘুরে এক সময়কার নিশীথ অনুগামীদের সাথে কথা বলছেন তিনি। খোদ নিশীথ প্রামাণিকের বাড়ির এলাকা ভেটাগুড়িতেও তৎকালীন যুব তৃণমূল কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছেন তিনি। বলেছেন, “দিনহাটার সীমান্ত এলাকার ভোট তো বটেই, নিশীথ প্রামাণিককে প্রার্থী করে যে সব যুব তৃণমূলের ভোট আশা করেছিল। তার একটা ভোটও পদ্মফুলে পড়বে না।”


কিন্তু এক সময় এত ঘনিষ্ঠ থাকার পরেও আজ কেন নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে নামলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে আবুয়াল আজাদ বলেন, “নিশীথ প্রামাণিক বিজেপিতে গিয়ে ভুল করেছেন। সেই ভুল আমরা করতে পারি না। একসময় এক সাথে যুব তৃণমূল করেছি। পঞ্চায়েতে নির্দল হয়ে লড়াই করেছি। এখন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীকে জেতানোর জন্য ময়দানে নেমেছি। আর অন্য কোন দল এখানে ভোট পাবে না।”

পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী মাদার-যুব’র লড়াইয়ে সব থেকে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দিনহাটার গীতালদহ সীমান্ত। সংঘর্ষে ওই এলাকার তৎকালীন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য আবু মিয়াঁ খুন হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ, বোমার আঘাতে আহতের সংখ্যা ছিল অগণিত। আর এই সংঘর্ষের ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তৎকালীন নিশীথ অনুগামী বলে পরিচিত আবুয়াল আজাদের। একাধিক মামলা হয়েছে। পুলিশ তল্লাশিতে গিয়ে তাঁর বাড়ি থেকে নিষিদ্ধ কফ সিরাপ ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে। সীমান্ত পাচারের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। যেকোন সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে মাঝে মধ্যেই আত্মগোপন করেও থাকতে হয়েছে আবুয়াল আজাদকে। সেই আজাদ এখন তৃণমূলের মূল শক্তির সাথে।

এক সময় যার নেতৃত্বে সীমান্ত কাঁপিয়ে বেড়িয়েছেন, সেই নিশীথ প্রামাণিককে হারাতেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন। এই বিষয়ে আবুয়াল বলেন, “যখন যুব করেছি, নির্দল হয়ে জোড়া ফুল প্রতীকের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। তখনও যে ছবি দুটো হাতে নিয়ে শ্লোগান দিয়েছি। তাঁদের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের সাথে বেইমানি আমরা করতে পারবো না।”

Post a Comment

0 Comments