ads

প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই তৃণমূলে বাড়ছে অসন্তোষ, বিজেপিতে পা বাড়িয়ে আরও অনেকেই! | UBG NEWS

UBG NEWS, ওয়েব ডেস্ক : প্রার্থী মনোনয়ন থেকে অসন্তোষের জেরে এ বারের লোকসভা ভোটে আরও বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা যোগ দিতে পারেন বিজেপিতে।

সম্প্রতি তৃণমূলনেত্রী লোকসভা ভোটে রাজ্যের ৪২টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই ওই অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে বলে জানা গিয়েছে। দলের প্রতি ওই সমস্ত তৃণমূল নেতার অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে সংগঠন শক্তিশালী করার সুযোগও হাতছাড়া করছেন না এক সময় তৃণমূলে ‘নম্বর-টু’ নেতা মুকুল রায়। বর্তমানে তিনি বিজেপির নির্বাচন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হলেও সমানে যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছেন ওই অসন্তুষ্ট তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে।


তৃণমূলের এ বারের প্রার্থী তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে গত বার জয়ী ১০ সাংসদকে। পরিবর্তে নিয়ে আসা হয়েছে ১৮টি নতুন মুখ। কোচবিহার, বসিরহাট, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর, বোলপুর, বিষ্ণুপুর, কৃষ্ণনগর ,কলকাতা দক্ষিণ এবং যাদবপুরের মতো কেন্দ্রে বিভিন্ন কারণে পুরনো সাংসদদের টিকিট দেওয়া হয়নি। কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট থেকে আসা নেতা অথবা চলচ্চিত্র তারকাদের দিয়ে একাধিক আসন পূরণ করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। যা দেখে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের স্থানীয় নেতৃত্বের মনে অসন্তোষের উৎপত্তি বলেই ধারণা করা যেতে পারে।

উল্টো দিকে এই সমস্ত কেন্দ্রগুলিতে গত পাঁচ বছরে বিজেপিও যথেষ্ট শক্তিবৃদ্ধি করেছে। যা দেখে ওই এলাকার অসন্তুষ্ট তৃণমূল নেতারাও বিজেপির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। তাঁরা ভোটের মুখে আকর্ষণীয় অফার পেয়ে দলবদলও করে ফেলছেন। যার হাতে গরম উদাহরণ ভাটপাড়ার বিধায়ক তথা পুরসভার চেয়ারম্যান অর্জুন সিং।


বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আর বেশ কয়েক জন তৃণমূল নেতা এবং বিধায়ক গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাবেন। এবং তার নেপথ্যে রয়েছে একটিই কারণ। তা হল তৃণমূলের সিদ্ধান্তগ্রহণকারী নেতৃত্বের উপর অভিমান।

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দিন ঘুরতেই দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট কেন্দ্রে নিচু তলায় ধরা পড়েছে ক্ষোভের আঁচ। কয়েক দিন ধরেই বালুরঘাটের তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে সংবাদ মাধ্যমে ঘুরে বেড়িয়েছে জেলা তৃণমূল সভাপতি বিপ্লব মিত্রের নাম। অথচ কিছুটা অবিশ্বাস্য ভাবেই প্রার্থী তালিকায় ফের ঠাঁই পেয়ে যান সাংসদ অর্পিতা ঘোষ। এই নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তৃণমূলের নিচু তলার কর্মীরা। এমনকী সে খবর কানে পৌঁছোনো মাত্রই বিপ্লববাবুও সংবাদ মাধ্যমের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্য, বিদায়ী সাংসদ ও প্রার্থীকে নিয়ে তাঁর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শাসকদলের নিচু তলার কর্মীরা। বিষয়টি দলনেত্রীকেও তিনি জানাবেন। প্রা্র্থী হিসাবে তাঁদের কেন অনীহা অর্পিতাকে নিয়ে?

বিপ্লববাবু জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে এলাকায় কোনো কাজেই বিদায়ী সাংসদ অর্পিতা ঘোষকে পাওয়া যায়নি। তিনি অভিযোগ পেয়েছেন, বিদায়ী সাংসদ মানুষের কাছে পৌঁছোতে পারেননি। যে কারণে দলের নিচু তলার কর্মীরা রীতিমতো ক্ষুদ্ধ।


একই ভাবে কোচবিহার কেন্দ্রে গতবারের জয়ী সাংসদ পার্থপ্রতীম রায়ের পরিবর্তে এ বার প্রার্থী করা হয়েছে পরেশচন্দ্র অধিকারীকে। যিনি মাত্র বছরখানের আগে তৃণমূলে যোগ দেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে পার্থপ্রতীমবাবুকেও কাছে টানতে মরিয়া বিজেপি। যদিও এ ব্যাপারে তাঁর নিজস্ব মন্তব্য জানা যায়নি।

কিন্তু তৃণমূলের নিচু তলার কর্মীদের অভিযোগ, কোচবিহারে কেন প্রার্থী করা হল পরেশবাবুকে। তাঁদের দলে স্থানীয় স্তরে লোকসভায় প্রার্থী হওয়ার মতো একাধিক যোগ্য নেতা আছেন। এই সিদ্ধান্তে দলের নিচু তলায় অন্য বার্তা পৌঁছেছে।

প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষের ছবি ধরা পড়েছে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রেও। স্থানীয় তৃণমূলের একাংশের দাবি, ওই কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে দলের অনেকেরই। যাঁদের মধ্যে সৌমিক হোসেন অগ্রাধিকার পেতেই পারতেন। কিন্তু সে সব কথা না ভেবে বছরখানেক আগে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া আবু তাহেরকে ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে।

যদি রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এই অসন্তোষের প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “বাংলার মানুষ তৃণমূলকে ভোট দেবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে। দলের প্রতীককে দেখে। মমতাকে ছাড়া আমাদের কোনো অস্তিত্ব নেই”।

Post a Comment