ads

সিপিআইএম- কংগ্রেসের নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন সংখ্যালঘু নেতাদের সাথে I UBG NEWS


ওয়েব ডেস্কঃ ঊনিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে সিপিআইএম ও কংগ্রেসের নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন সংখ্যালঘু নেতাদের সঙ্গে। বিগত কয়েক মাসে বিভিন্ন মুসলিম নেতাদের সাথে বারবার বৈঠক হয়েছে। সেখানে আগামী লোকসভা নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থী কত হবে, কিভাবে সংখ্যালঘু ভোট বাড়তে পারে এইসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রভাবশালী মুসলিম নেতা বলছেন,’সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, বিধান সভার পরিষদীয় সদস্য সুজন চক্রবর্তী সহ একাধিক নেতার সাথে কথা হয়েছে।’
আসলে সিপিআইএম চাইছে, হারানো সংখ্যালঘু ভোট ফিরে পেতে। আর সেকারণে সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তারা সরব হচ্ছেন।
শুধু রাজ্য নেতারা নন, স্থানীয় পর্যায়ে সংখ্যালঘু ভোট পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে সিপিআইএম সহ বামেরা। আসলে এই রাজ্যে দলিত ও সংখ্যালঘু ভোটকে আয়ত্ত করতে পারলেই যে নির্বাচনের ম্যাজিক ফিগার বদলে যেতে পারে তা বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন মার্ক্সীয় দর্শনের নেতারা।
বাম কংগ্রেসের নেতারা চাইছেন,আগামী একুশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির বাইরের শক্তিকে এক করে মহাজোট করতে। লোকসভা ভোট থেকেই সেই প্রস্তুতি শুরু দলগুলোর করছেন নেতারা।
কিন্তু যে সংখ্যালঘু মুসলিমরা বঞ্চনার অভিযোগ তুলে বামেদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তারা আবার কিভাবে আসবে? টিডিএন বাংলাকে এক মুসলিম নেতার জবাব,’ সাচার কমিটির রিপোর্টের পর আমরা জানলাম মুসলিমদের অবস্থা ভালো নেই। কিন্তু তৃণমূল সরকার কী করেছে? ১০% ওবিসি সংরক্ষণ থাকা সত্ত্বেও চাকরির হল এত খারাপ কেন? তাছাড়া রাজ্যে বাম আমলে সাম্প্রদায়িক শক্তির এত বাড়াবাড়ি ছিলোনা। সমগ্র মুসলিম সমাজের উন্নয়নের জন্য সরকার কার্যকরী কী পদক্ষেপ নিয়েছে ? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সংখ্যালঘু দপ্তরের মন্ত্রী, কী কী কাজ হয়েছে শ্বেতপত্র প্রকাশ হোক। তিনকোটি সংখ্যালঘুদের এড়িয়ে বাংলার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই কয় বছরে বামেরা শিক্ষা পেয়েছে, কংগ্রেস ও বাম জোট হলে সাম্প্রদায়িক শক্তি পরাজিত হবে।’
শুধু সিপিআইএম অফিস নয়, প্রদেশ কংগ্রেস অফিসেও বিভিন্ন মুসলিম নেতাদের সাথে বৈঠক হচ্ছে সোমেন মিত্রদের। এছাড়া বিভিন্ন মুসলিম নেতাদের দপ্তরে গিয়েও বৈঠক করছেন কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতারা।
সূত্রের খবর, কংগ্রেস ও সিপিআইএম উভয়েই অতীতের চেয়ে বেশি আসনে সংখ্যালঘু প্রার্থী দেবে। সেই সঙ্গে দলিত আদিবাসী প্রার্থীও বেশি হবে।
মুসলিম নেতাদের অনেকে বলছেন, এই রাজ্যে কোনও ভাবে বিজেপিকে মাটি ছাড়া যাবেনা। আর সেকারণে দ্বিতীয় শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলায় ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো থাকুক। তবে লোকসভার ভোটকে পুঁজি করে আগামী একুশের বিধানসভা ভোটে মূল লড়াই দিতে চাইছে বাম কংগ্রেস। সেক্ষেত্রে সংখ্যালঘু ভোট খুব গুরুত্বপূর্ণ।

Post a Comment