ads

জনগণের টাকায় বিজ্ঞাপনের মোচ্ছব I UBG NEWS


ওয়েব ডেস্ক, ৬ মার্চ— বিজ্ঞাপনে মুখ্যমন্ত্রীর কোন ছবি ব্যবহার করা হবে, তার ছাড়পত্র নিতে হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে। সচিবালয়ের অনুমোদন মেলার পরে বিজ্ঞাপনের অনুমোদন দিচ্ছে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। দপ্তরগুলির একাংশের অফিসারের দম ফেলার ফুরসত নেই এখন। কেন এমন সিদ্ধান্ত? রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মাঝেমাঝেই বিজ্ঞাপন দেয় দপ্তরগুলি। এই আমলের রীতি অনুসারে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি থাকে সেখানে। কিন্তু সব ছবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মনঃপুত নয়। ফলে ছবি ঠিক করার দায়িত্ব বর্তেছে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের উপর। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় অবশ্য ছবির অনুমোদন দেওয়ার আগে একবার মুখ্যমন্ত্রীকে দেখিয়ে নিয়েছেন বলেই নবান্ন সূত্রে খবর। মোদ্দা কথা, মুখ্যমন্ত্রীর ছবি মুখ্যমন্ত্রীই বেছে দিয়েছেন। অন্যদিকে বিজ্ঞাপনের বিষয় চূড়ান্ত করছে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের খসড়া পাঠাবে। এমন কেন? তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পক্ষ থেকে সম্প্রতি প্রতিটি দপ্তরে পাঠানো নির্দেশিকায় বলা আছে যে, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর লক্ষ্য করেছে তারা জানতে পারছে না, এমন অনেক বিজ্ঞাপন বেরিয়ে যাচ্ছে। একেকটি দপ্তর একেক রকম দামে বিজ্ঞাপন দিয়েছে, এমন অভিজ্ঞতাও হয়েছে। ‘বিজ্ঞাপনের দামের হেরফের আটকাতে’ এবং ‘স্বচ্ছতার জন্য’ এই ব্যবস্থা। মুখ্যমন্ত্রীর মুখের ছবি ঠিক করবে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়। আর বিজ্ঞাপনের বিষয়ে দেখেশুনে শিলমোহর দেওয়ার কথা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের। আর্থিক বছর শেষ হতে বাকি আর দিন পঁচিশেক। তাছাড়া আছে লোকসভা নির্বাচন। রাজ্যের সংবাদপত্র এবং চ্যানেলগুলিতে মমতা ব্যানার্জির বিজ্ঞাপনে জোয়ার নেমেছে ইতিমধ্যেই। ফলে নতুন স্লোগান হাজির হয়েছে ফেসবুকে, টুইটারে—‘এখন বিজ্ঞাপনের সঙ্গে খবরের কাগজ ফ্রি।’ আগামী কয়েকদিনে রাজ্য সরকার কয়েক শো কোটি টাকা খরচ করবে বিজ্ঞাপনে— সিদ্ধান্ত তেমনই। বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালে কড়া সিদ্ধান্ত ছিল কোনও বিজ্ঞাপনেই মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনও মন্ত্রীর মুখ যাবে না। জনগণের করের টাকায় সরকারি কাজের বিজ্ঞাপনে মন্ত্রীদের মুখের বিজ্ঞাপন? কমরেড জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যদের ঘোরতর আপত্তি ছিল। বামফ্রন্টের সরকার নেই। সেই নীতি নেই। ফলে মুখের বিজ্ঞাপন অবধারিত হয়েছে। এই প্রশ্নে অবশ্য মমতা ব্যানার্জি আর নরেন্দ্র মোদীর প্রতিযোগিতা। নরেন্দ্র মোদীর ছবি লাগানো বিজ্ঞাপনে ছেয়ে যাচ্ছে খবরের কাগজের অনেক পাতা। সরকারি টাকায় কার মুখের কত বেশি বিজ্ঞাপন করা যায় তা নিয়ে শুরু হয়েছে তরজা। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘শিবরাত্রির শুভেচ্ছা’-র বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত নয়া নির্দেশিকা জানাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর ছবিতে শিলমোহর মেলার পর বিজ্ঞাপনটি দেখবে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। তারা বিষয় খতিয়ে দেখবে। তারপর নির্দিষ্ট দু’টি এজেন্সি মারফত বিজ্ঞাপন যাবে সংবাদপত্র কিংবা সংবাদমাধ্যমের কাছে। ওই দু’টি এজেন্সি হলো, জেনেসিস অ্যাডভার্টাইজিং প্রাইভেট লিমিটেড এবং ক্রেয়নস অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেড। বুধবার রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের এক অফিসারের দাবি, ‘‘যে নির্দেশটির কথা বলছেন, তা আমাদের কাছে নতুন নয়। একটু এদিক ওদিক করা হয়েছে।’’ যদি তা হয়েও থাকে, একটি সিদ্ধান্তে কোনও নড়চড় হয়নি — গণশক্তিকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে না। কিছুতেই। কোন কোন সংবাদপত্র, চ্যানেলকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে, তার একটি তালিকা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার। তাতে গত ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত একতিরিশটি পত্রিকার নাম ছিল। ২০ ডিসেম্বর একটিই গোষ্ঠীর দুটি সংবাদপত্রের নাম ঢোকানো হয়েছে। সেই গোষ্ঠীর বাংলা সংবাদপত্রটিতে সরকার সাদা কালো বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে দাম দিচ্ছে ১২৯২ টাকা প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে। আর রঙিন হলে তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১৯৩৮ টাকা প্রতি বর্গ সেন্টিমিটার। এটি রাজ্য সরকারের তালিকায় তৃতীয় সর্বোচ্চ হার। তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার হওয়ার পর থেকেই গণশক্তিকে বিজ্ঞাপন দেওয়া বন্ধ করেছে। যদিও আদালতের নির্দেশ দিয়েছে গণশক্তিকে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। ২০১৫’র ২০ মার্চের সেই নির্দেশ ছিল গণশক্তি পত্রিকাকে সরকারি বিজ্ঞাপন দিতে হবে। রাজ্য সরকার রাজনৈতিক দলের মুখপত্রকে বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না বলে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল তা খারিজ করে দিয়েছিল হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এই নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশে তিনি স্পষ্টভাবেই জানিয়েছিলেন, আইনানুগভাবে গণশক্তি পত্রিকাকে তার প্রাপ্য সরকারি বিজ্ঞাপন দিতে হবে। এ ব্যাপারে কোনও পক্ষপাতিত্ব রাখা চলবে না। তবে আদালতের নির্দেশ মমতা ব্যানার্জির সরকার মানেননি।

Post a Comment

0 Comments