ads

ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ সিইও’র হাতে I UBG NEWS


১২ মার্চ— বিগত বিধানসভা নির্বাচন এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার নিরিখে এবার সপ্তদশ লোকসভা ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ সরাসরি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)’র হাতে তুলে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সিইও আরিজ আফতাব রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)’র সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করবেন। মঙ্গলবার রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সঞ্জয় বসু বলেন, অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলি নির্দিষ্ট করে দিল্লিতে কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টা বাদেই শুক্রবার ১০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে রাজ্যে। শনিবার থেকে সিআরপিএফ এবং বিএসএফ-এর এই ১০ কোম্পানি বাহিনী বিভিন্ন জেলায় টহল দিতে শুরু করবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২ কোম্পানি, উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর দিনাজপুর, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান এবং কলকাতায় এক কোম্পানি করে বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। দিল্লি থেকে কমিশন রাজ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের কাছে জানতে চেয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গে কোনও ‘অতি স্পর্শকাতর’ লোকসভা কেন্দ্র আছে কিনা। যদি এমন কোনও লোকসভা কেন্দ্র থাকে তাহলে কমিশন সেখানে বিশেষ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। কিন্তু সিইও দপ্তর থেকে দিল্লিকে জানানো হয়েছে, রাজ্যে কোনও ‘অতি স্পর্শকাতর’ লোকসভা কেন্দ্র নেই। তবে দিল্লি যদি কোনও বিশেষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পর্যবেক্ষক পাঠাতে চায়, পাঠাতে পারে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে বামফ্রন্টের অন্যতম দাবিই ছিল, এ রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় না। যেসব থানায় বাহিনী পাঠানো হয় তারা তাদের মতো করে শাসক দলের অনুগত হয়ে বাহিনীকে ব্যবহার করে। এই অভিযোগের সঙ্গে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচন, তারপর কিছু উপ-নির্বাচন এবং সর্বশেষ ২০১৮-তে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভয়াবহ হিংসার কিছু চিত্র কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অতীতের এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে সরাসরি সিইও’র হাতে। যা কিছু জবাব এই প্রশ্নে দিল্লিকে সিইও-ই দেবেন।
বামফ্রন্টের আরও অভিযোগ ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নিয়ে যাওয়া হয় না। স্পর্শকাতর গ্রামে ঢোকানো হয় না বাহিনীকে। এবার কমিশন তাই টহলদারি প্রতিটি স্কোয়াডের নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করে দিয়েছে। প্রতিটি স্কোয়াডে থাকবেন একজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। যিনি হবেন ওই স্কোয়াডের প্রধান। থাকবেন একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার (সংশ্লিষ্ট থানার), একজন ভিডিও ফটোগ্রাফার এবং ৩-৪ জন সশস্ত্র পুলিশকর্মী। স্কোয়াড যেখানেই টহল দিক সেখানকার ভিডিওগ্রাফি করে রাখতে হবে সিইও দপ্তরকে, যাতে দিল্লি চাইলে তথ্য পাঠাতে পারে।
অন্যদিকে ‘সি-ভিজিল’ অ্যাপ এদিন থেকে চালু হয়ে গেছে। অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সঞ্জয় বসু এদিন বলেন, চালু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৮৬টি অভিযোগ সি-ভিজিলে এসেছে। যার ৪৭টি অভিযোগ আসলে কোনও অভিযোগ নয়, অ্যাপটি পরীক্ষা করতে গিয়ে এই ৪৭টি অভিযোগ এসে গেছে। কমিশন তাই ৪৭টি অভিযোগ ‘ড্রপ’ করে দিয়েছে। বাকিগুলির ক্ষেত্রে সবকটিরই ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে কমিশন। ৩৫টি অভিযোগের উত্তরও দেওয়া হয়ে গেছে। ৪টি এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত উত্তর দিতে বাকি আছে।

Post a Comment

0 Comments