ads

নানা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে অভিনন্দনকে, কারোর সঙ্গে বাক্যলাপের অনুমতি নেই I UBG NEWS

ওয়েব ডেস্ক : ৫৮ ঘণ্টা পর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান দেশে ফিরলেন। কিন্তু এবার কী? পড়শি মুলুকে বন্দি ভারতীয় পাইলট মুক্তি পেয়েছেন। নানা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে অভিনন্দনকে, কারোর সঙ্গে বাক্যলাপের অনুমতি নেই। সাইকোলজিক্যাল অ্যানালিসিস টেস্টের মাধ্যমে অভিনন্দনের বর্তমান মানসিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে। পাক সেনার হাতে আটক হওয়া থেকে শুরু করে পর পর যে ঘটনাগুলো তাঁর সঙ্গে ঘটেছে তাতে কতটা ট্রমায় রয়েছেন সেটাও পরীক্ষা করে দেখা হবে। পাশাপাশি, ও রকম একটি পরিস্থিতি কী ভাবে সামলেছেন, তাঁকে পাকিস্তানে কোনও মানসিক অত্যাচার করা হয়েছে কিনা সব কিছুই এই টেস্টের মধ্য দিয়ে জানার চেষ্টা করা হবে বলে বায়ুসেনা সূত্রে জানানো হয়েছে।
সাইকোলজিক্যাল অ্যানালিসিস টেস্ট হওয়ার পর পরবর্তী ধাপ ‘ডিব্রিফিং’। বায়ুসেনা সূত্রে জানানো হচ্ছে, পাকিস্তানে তাঁর সঙ্গে কী কী করা হয়েছে সেটা সবিস্তারে শোনা হবে। শুধু তাই নয়, এখন থেকে তিনি কী ভাবে এবং কতটা কথা বলবেন সেটাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী হোক বা পরিবারের সদস্য, এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কতটা বলবেন সেটাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।
এর পরের ধাপ ‘বাগ স্ক্যানিং’। শরীরে কোনও চিপ আটকে দিয়েছে কি না বা কোনও গোপন ক্যামেরা, বাগ স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে এ সবই চিহ্নিত করা হয়। এক জন বায়ুসেনা অফিসার। দেশের নিরাপত্তার খুঁটিনাটি তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে। দেশের নিরাপত্তার খাতিরেই অভিনন্দনের বাগ স্ক্যানিং করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে কত দিন ধরে এই পরীক্ষাগুলো চলবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি বায়ুসেনা।
ওয়াঘা-অটারী সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার রাতেই দেশে ফিরেছেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি সেনার হাতে আটক হন তিনি। দীর্ঘ ৫৮ ঘণ্টা পাকিস্তানের কব্জায় ছিলেন। দেশের মাটিকে পা রাখার পরই বলেছিলেন, ‘ভাল লাগছে।’ ব্যস ওইটুকুই। কোন সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হতে দেওয়া হয়নি তাঁকে। নিজের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলতে পারেননি। কারন দেশের নিরাপত্তা আগে।
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে উইং কমান্ডারকে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টায় অমৃতসর বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিশেষ বিমানে করে দিল্লির পালম এয়ারবেসে নিয়ে যাওয়া হয় অভিনন্দনকে। ঘড়ির কাঁটা তখন রাত সাড়ে ১১টা। সীমান্ত থেকে দিল্লি— দীর্ঘ এই সফরে অভিনন্দনের সঙ্গী ছিলেন শুধুমাত্র কয়েক জন সেনা অফিসার।
এর পর পালম এয়ারবেস থেকে অভিনন্দনকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির সুব্রত পার্কের এয়ারফোর্স সেন্ট্রাল মেডিক্যাল এসটাব্লিশমেন্ট-এ। বায়ুসেনার ওই হাসপাতালে রাতেই প্রথামিক একটা মেডিক্যাল চেকআপ হয় অভিনন্দনের। পরিবারের সঙ্গে এক ঝলক দেখা হয়। তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনও কথা হয়নি তাঁর। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, রাতে হালকা খাবার খেয়েছেন অভিনন্দন। একটা নাগাদ ঘুমোতেও যান।
শনিবার সকাল সকালই বিছানা ছাড়েন অভিনন্দন। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, রাতে ভাল ঘুম হয়েছে উইং কমান্ডারের। সকালের জলখাবারের পর ফের একপ্রস্থ মেডিক্যাল চেক আপ হয় তাঁর। বায়ুসেনা সূত্রে খবর, সারা দিন ধরে নানা পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে অভিনন্দনকে। এর মধ্যে রয়েছে সাইকোলজিক্যাল অ্যানালিসিস টেস্ট (পিএটি), ডিব্রিফিং এবং বাগ স্ক্যানিং।
কিন্তু যদি অভিনন্দন এই সব পরীক্ষায় সফল না হন? যদি গোয়েন্দাদের জেরা এবং ডাক্তারি পরীক্ষায় নিজেকে মানসিক তথা শারীরিকভাবে ‘ফিট’ প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে সম্ভবত আর কখনওই যুদ্ধবিমানে সওয়ার হতে পারবেন না এই বীর পাইলট। বিকল্প পথে হেঁটে তখন অভিনন্দনকে ‘ডেস্ক’-এর কাজে বসিয়ে দেওয়া হতে পারে। কিন্তু কোনওভাবেই তাঁকে অসম্মান করা হবে না। করা হবে না কোনও রকম বৈষম্যমূলক আচরণও।

Post a Comment

0 Comments