ads

রাজ্যের প্রকল্পের অবস্থা জানতে জেলার কাছে রিপোর্ট তলব নবান্নের I UBG NEWS

ওয়েব ডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জেলা সফরের সময় একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যে যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, সেগুলির বর্তমান অবস্থা কী? সেই সম্পর্কে রিপোর্ট চেয়ে পাঠাল মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়। শুধু পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই নয়, রাজ্যের সব জেলাতেই নবান্ন থেকে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকা পেয়েই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর শিলান্যাস ও উদ্বোধন করা বিভিন্ন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও অগ্রগতির রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পূর্ব বর্ধমান জেলার শেষ প্রশাসনিক বৈঠকটি হয় কালনায়। ৩০ নভেম্বর কালনা শহরের অঘোরনাথ পার্ক স্টেডিয়ামে প্রশাসনিক সভা করেন মমতা ব্যানার্জি। সেখানে অন্যান্য প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী যে মূল প্রকল্পগুলির কথা বলেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, হাজার কোটি ব্যয়ে পূর্ব বর্ধমানের কালনা থেকে নদিয়ার শান্তিপুরের সঙ্গে ভাগীরথীর ওপর তৈরি হবে সেতু। এছাড়া ডানকুনি থেকে পানাগড় পর্যন্ত ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর। ডানকুনি থেকে পানাগড়–দুর্গাপুর হয়ে বাঁকুড়া পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর। নিম্ন দামোদর এলাকায় বন্যা প্রতিরোধকল্পে সুবিশাল প্রকল্প।
কালনায় সেতু তৈরির জন্য সেতুর দু’দিকে সংযোগকারী রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জমির আর্জি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর অার্জির পর জমির মালিকরা জমি দিতে রাজি হন। কিছু কিছু জমি মালিক অবশ্য জমির দর নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বেশ কিছু জমির দামও বাড়ানো হয়। অ্যাপ্রোচওয়ে তৈরির জন্য সম্মতিপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক তথা ডিস্ট্রিক্ট লেভেল পারচেজ কমিটির সভাপতি অনুরাগ শ্রীবাস্তব স্বাক্ষরিত বিবৃতিও প্রকাশিত হয়েছে। যারা আগামী ১ মাসের মধ্যে সম্মতিপত্র জমা দেবেন, তঁারা জমির দরের সঙ্গে বাড়তি ৫০ শতাংশ দাম পাবেন। ২৯ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিলের মধ্যে জমির দামের সম্মতিপত্র জমা দিলে ১০ শতাংশ ইনসেনটিভও পাবেন।
অ্যাপ্রোচওয়ের জন্য কালনা ২নং ব্লকের ৪টি মৌজা হাঁসপুকুর, পূর্ব সাহাপুর, কুলিয়াদহ ও বারাসতের ৪৮ একরের কাছাকাছি জমি নেওয়া হবে। এই জমির মোট মালিকের সংখ্যা ৪২৪ জন। যাঁদের জমি বা বাড়ি ওই এলাকায় পড়বে, তাঁদের জমির যাবতীয় নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, সেতু তৈরির প্রক্রিয়া–সহ শিলান্যাস ও উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলি সম্পর্কে রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে। নবান্নের নির্দেশিকায় পরিষ্কার বলা আছে, প্রকল্পের কাজ কত শতাংশ হয়েছে, তা–‌ও বিস্তারিত জানাতে হবে। কোনও প্রকল্পের কাজ শুরু না হলে তা–‌ও উল্লেখ করতে হবে।
এই নির্দেশিকা সম্পর্কে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যের উন্নয়নের প্রকৃত অবস্থা যাতে মুখ্যমন্ত্রীর নখদর্পণে থাকে, তারজন্যই এই ধরনের রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রিপোর্টের খবর শুনে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের গতি বাড়বে। সরকারের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলার মানুষ। এমনিতে রাজ্যের খাদ্যসাথী, সবুজসাথী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, গতিধারা, উৎকর্ষ বাংলা–সহ একাধিক প্রকল্প উপভোক্তাদের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানো শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সই করা শুভেচ্ছাপত্র পেয়ে খুশি উপভোক্তারা।
জেলার উন্নয়নের প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বললেন, ‘এমন সার্বিক উন্নতি মমতা ব্যানার্জি বলেই সম্ভব। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে মাল্টি সুপার হাসপাতাল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সর্বস্তরে উন্নতি হয়েছে। কর্মতীর্থ, ভবঘুরেদের জন্য আবাসন, পথের সাথী, খাদ্যসাথী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, উৎকর্ষ বাংলা, গতিধারা, যুবশ্রী—তামাম প্রকল্পেই আমাদের জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর জয়জয়কার।’ তবে মুখ্যমন্ত্রী এইসব প্রকল্প বা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু করেই যে দায়িত্ব শেষ করতে চান না, তার প্রমাণ এই রিপোর্ট তলব। এই কথা জানিয়ে অবসরের মুখে দাঁড়ানো এক সরকারি আধিকারিক বলছিলেন, ‘এখনকার থেকে উন্নয়নের কাজ বাম আমলে অনেক কম হলেও যে একেবারেই হয়নি, তা তো নয়। কিন্তু সব কাজের এমন ধারাবাহিক নজরদারি ছিল না। এখন যা নির্দেশিকা তাতে, কোন প্রকল্পে কাজ হয়নি, কোনটা শেষ হয়েছে, কোনটা ৭৫ শতাংশ, কোনটা ৫০ শতাংশ বা কোনটা ২৫ শতাংশ, সেটারও উল্লেখ করতে হচ্ছে।’
প্রশাসনের সূত্র থেকে পাওয়া খবর, জেলার কালনায় সেতুর জন্য খরচ হবে হাজার কোটি টাকা। বর্ধমানকে ছুঁয়ে কয়েকটি জেলার সংযোগকারী একটা রাস্তা তৈরি হবে ৩২০০ কোটি টাকা খরচ করে। বন্যা প্রতিরোধে দামোদর বেসিন প্রজেক্ট তৈরি করতে খরচ হবে ২৭৬৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটি রূপায়ণে সাহায্য করবে বিশ্বব্যাঙ্ক‌।

Post a Comment

0 Comments