ads

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রাজপথে মমতা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে একযোগে আক্রমণ I UBG NEWS

ওয়েব ডেস্ক:‌ প্রতিবারের মতো এবারও আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রাজপথে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শুক্রবার সকালে দলীয় কর্মী–সমর্থক এবং মহিলা সদস্যদের নিয়ে মিছিলে হাঁটলেন মুখ্যমন্ত্রী। মিছিলে ছিলেন দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বও। শ্রদ্ধানন্দ পার্ক থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলটি হয়। এরপর ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছে বক্তৃতাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটের দিনক্ষণ বা প্রার্থী তালিকা ঘোষণা না করলেও রাজনৈতিক মহলের মতে, এদিন থেকেই পুরোপুরি ভোটের প্রচার শুরু করে দিলেন মমতা ব্যানার্জি।
 
এদিনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ তথা কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করলেন তিনি। মমতা বলেন, 'সেনার রক্ত নিয়ে রাজনীতি করছেন মোদি৷ নয়া সরকারই কাশ্মীরে শান্তি ফেরাবে৷ ২০১৯ সালে ইউনাইটেড ইন্ডিয়া সরকার গড়বে৷' পাশাপাশি মহিলাদের উন্নয়ন হোক কিংবা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন–সবেতেই যে তাঁর সরকার কয়েক কদম এগিয়ে, সেকথাও জানাতে ভুললেন না মুখ্যমন্ত্রী। শুরুতেই তিনি বলেন, ‘মহিলারা সমাজের আসল শক্তি। ভোট আসলেই সবাই নারী সংরক্ষণ বিলের প্রসঙ্গ তোলেন। অথচ ‌সংসদে তৃণমূলই একমাত্র দল, যাঁদের সাংসদদের মধ্যে ৩৫ শতাংশই মহিলা। আগামিদিনে সেই সংখ্যটাকেও বাড়ানো হবে। পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত এবং পৌরসভায় মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ রয়েছে। মহিলা উন্নয়নেও বাংলা দেশের মধ্যে সেরা। আমরা রাজ্যে মাতৃত্বকালীন ছুটি, শিশুদের শরীর অসুস্থ থাকলে মায়েদের ছুটি, প্রভৃতি চালু করেছি। ‘‌স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পে‌ সাড়ে সাত কোটি মানু্ষ সুবিধা পাবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে পরিবারের মাথা হিসেবে আমরা মহিলাদের রেখেছি। এছাড়া এই প্রকল্পে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ৫ লক্ষ টাকা বিমার ব্যবস্থা করেছি। কৃষক–শ্রমিকদের উন্নয়নে বাংলা সবার আগে। ১০০ দিনের কাজে ৪৮ শতাংশ মহিলা কাজ করছেন। ‌এই রাজ্যে আমরা সবাই একসঙ্গে থাকি, উৎসব একসঙ্গে পালন করি, একে–অপরকে ঘৃণা করি না। দেশের শান্তি–সম্প্রীতি–সংস্কৃতিকে আমরা রক্ষা করবই।’‌ 

এরপরই বক্তৃতায় মোদিকে একের পর এক বাক্যবাণে বিদ্ধ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বেকারত্ব কমিয়েছি আর কেন্দ্র ২ কোটি যুবক–যুবতীর চাকরি কেড়ে নিয়েছে। এই সরকারের আমলে ২০০ শতাংশেরও বেশি জঙ্গি উপদ্রব বেড়েছে। আগে থেকে খবর থাকা সত্ত্বেও জওয়ানদের সুরক্ষায় এই সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। নির্বাচন এসে গেছে। আসলে নির্বাচন তো বড় বালাই, তাই এখন মিসাইল দেখাচ্ছে। যুদ্ধ যুদ্ধ খেলছে। কিন্তু আগে থেকে খবর থাকা সত্ত্বেও কেন পুলওয়ামার ওই হামলা রোখা গেল না?‌’‌ এরপরই রাফাল থেকে নোটবন্দি ইস্যু নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। বলেন, ‘‌এখন বলছে রাফালের ফাইল চুরি হয়েছে। ‌কিন্তু আপনি তো দেশটাকেই চুরি করে নিয়েছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ তথ্য চুরি হয়েছে। যাঁরা রাফালের ফাইল সামলে রাখতে পারে না, তারা নাকি দেশকে সুরক্ষিত রাখবে, দেশকে সামলাবে!‌ এই সরকার ইতিহাসকে পাল্টে দিয়েছে। যত তাড়াতাড়ি এই সরকার যাবে, মোদি–শাহ জুটি বিদায় নেবে ততই দেশের মঙ্গল। আগে যারা খেতে পেত না, তারাই এখন কোটি কোটি টাকার বাইক কিনছে। এগুলো আসলে নোটবন্দি–রাফালের টাকা।’‌ এরপরই আসন্ন নির্বাচনে এক হয়ে লড়ার কথা বলেন। পাশাপাশি মোদি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ডাকও দেন।‌‌
 

Post a Comment