ads

প্রয়াত হলেন বড়মা বীণাপাণি দেবী I UBG NEWS

ওয়েব ডেস্কঃ  মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রধান বড়মা বীণাপাণি দেবী প্রয়াত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ৮টা ৫২ মিনিটে এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ বড়মার দেহ নিয়ে যাওয়া হবে ঠাকুরনগরে। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র এসএসকেএমে এসে উপস্থিত হন। হাসপাতালে ভীড় করেন মতুয়া মহাসঙ্ঘের অনুগামীরা।
এর আগে এদিন সন্ধের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তাঁকে দেখে আসেন। বড়মার তিন ছেলে। তার মধ্যে কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরই রয়েছেন। তাঁর স্ত্রী মমতাবালা ঠাকুর এখন সাংসদ। বড়মার জন্ম বাংলাদেশের ফরিদপুরে। তাঁর স্বামী প্রমথরঞ্জন ঠাকুর কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন।
এদিনই সন্ধেয় নবান্ন থেকে সোজা এসএসকেএমে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বড়মাকে দেখে আসেন। সেই সময় সাংবাদিকদের মমতা বলেন, ‘‌ওঁনার অবস্থা সঙ্কটজনক। ডাক্তাররা দেখাশুনা করছেন। গত ২০ বছর ধরে যখন বড়মাকে কেউ বড়মা বলে জানত না। কেউ খোঁজ খবর রাখত না। বাড়িতে কেউ যেত না। ২০ বছর ধরে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও মমতা বালা ঠাকুরকে নিয়ে বড়মার চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরাই করে আসছি। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে বড়মাকে সাহায্য করে এসেছি। বড়মাকে প্রথমে কল্যাণী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে আসা হয় এসএসকেএমে। আমি মনে করি এই হাসপাতাল ওয়ান অফ দ্য বেস্ট হাসপাতাল, সব থেকে উন্নততর চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে এখানে। যেহেতু তাঁর বয়স ১০০ বছর হয়ে গেছে। আমরা ব্যবস্থা এরকম করেছিলাম যাতে উনি বাড়িতে থাকেন, কাঁচের ঘরে রাখার ইচ্ছা ছিল। আমি চেয়েছিলাম যতদিন বাঁচবেন ততদিন যাতে ভালভাবে বাঁচেন।’‌
মমতা বলেন, ‘‌সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে, রাজনীতি করার চেষ্টা করেছেন, বড়মার শরীরটা খারাপ হয়েছে। বড়মা ভাল হয়ে উঠুন, সুস্থ হন। আমরা এটা সকলেই চাই। অক্সিজেনটা অনেক কমে গেছে। পেশারটা অনেকটা কম। বয়সটা অনেকটা বেশি। অনেক বার তাঁকে ভাল করে নিয়ে যেতে পেরেছি, এবারও যদি ভাল করে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারি তাহলে সবাই খুশি হব কিন্তু সব সময় তো ভাল থাকে না। তাঁকে দেখে আমার খুব খারাপ লাগছে। বড়মাকে আমরা খুবই ভালবাসি। খুবই গর্ব করি।’‌
ফুসফুসে সংক্রমণে অসুস্থ বীণাপাণি দেবীকে প্রথমে কল্যাণীর জওহরলাল নেহেরু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখানে থেকে এসএসকেএমে নিয়ে আসা হয়। রাখা হয়েছিল ভেন্টিলেশনে। তৈরি করা হয় মেডিক্যাল বোর্ডও। তবুও শেষরক্ষা হল না।

Post a Comment

0 Comments