ads

কতজন মারা গিয়েছে তা গোনা আমাদের কাজ নয়, মৃতের সংখ্যা সরকার জানাবে, আমরা নই : বায়ুসেনা প্রধান I UBG NEWS

ওয়েব ডেস্ক: বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রত্যাঘাত নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। কেন্দ্র সরকার বা বায়ুসেনার পক্ষ থেকে এখনও এই হামলার কোনও প্রমাণ পেশ করা হয়নি। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ভারতীয় বায়ুসেনা সম্ভবত লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। বালাকোট অভিযান নিয়ে বিতর্ক ওঠার পরই ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান বিএস ধানোয়া সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান যে, নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই হামলা হয়েছে।  
সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানালেন বায়ুসেনার এয়ার মার্শাল বিএস ধানোয়া। তিনি বলেন, “আমরা গুনতে পারিনি কতজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কতজন মানুষ সেখানে ছিল। বায়ুসেনা মৃত্যু গণনা করে না। বায়ুসেনা 'জঙ্গলে বোমা ফেলতে যায়নি। নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই আঘাত করা হয়েছে সেদিন। বালাকোটে ভারতের ‘অসামরিক’ হামলা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন থেকেই গেছে। ভারতের দাবি, ওই আক্রমণে অনেক সন্ত্রাসবাদীর মৃত্যু হয়েছে। পাকিস্তানের অবশ্য পালটা দাবি, বিমান থেকে বোমা ফেলা হলেও তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সেদিন সাংবাদিক সম্মেলনে ‘লিখিত বিবৃতি’ পড়ে দিয়েই গটগট করে বেরিয়ে যান বিদেশ সচিব বিজয় গোখেল। সাংবাদিক সম্মেলনের পূর্বশর্ত হিসাবেই কোনও প্রশ্নই শোনা হয়নি। আর তাই দিনভর নানান ‘সূত্র’, ‘গোপন তথ্য’র ভিড়ে অসামরিক’ হামলার ভোর রাতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ‘গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক’, ‘আগাম-আঘাত হানতে’, মনে জাগলেও দিল্লির সাংবাদিকদের আর এই প্রশ্ন করা হয়ে উঠল না, হামলা কোথায়, পাকিস্তান নাকি পাক-অধিকৃত কাশ্মীর? কত ‘খতম’ হলো? সেই মৃতের হিসাবের ভিত্তি কী? এমন কী গোয়েন্দা তথ্য হাতে ছিল, যার জন্য হামলা জরুরি হয়ে পড়ল? ‘আগাম-আঘাত’ই যখন হানা হলো, তাহলে পুলওয়ামার আগে করা গেল না কেন? ভারতীয় বিদেশ সচিব কিংবা পাক সেনা মুখপাত্রের কারো বয়ান থেকে স্পষ্ট হয়নি সেদিন বিমানবাহিনীর হামলা ঠিক কোথায় হয়েছে? নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছের পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে, নাকি ৮০ কিমি দূরে পাক ভূখণ্ডে খাইবার পাখতুনখাওয়ার বালাকোটে?  সেদিন সন্ধ্যায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে জানানো হয়েছে পাকিস্তানের অভ্যন্তরের বালাকোটেই এই আক্রমণ হয়েছে। এই ঘটনাকেই রাজনৈতিক ফায়দা তোলার কাজে ব্যস্ত মোদী সরকারের পেটোয়া সংবাদমাধ্যমের তো অভাব নেই। ‘সূত্র মারফত খবর’ বলে তারা নানান খবরই দিতে থাকল। তাদের দেওয়া হিসাবে নিহত সন্ত্রাসবাদীর সংখ্যা কখনও আড়াইশো ছুঁলো। কখনও আবার তিনশো পেরিয়ে সাড়ে তিনশো ছুঁয়ে ফেলল। পুলওয়ামায় ৪০ জওয়ানের মৃত্যুর ‘বদলা’ বালাকোটে তার প্রায় দশগুণ সংখ্যায় সন্ত্রাসবাদী ‘খতম’ করে জবাব দেওয়া গেছে, বলে তুলে ধরা হলো সংবাদমাধ্যমে। বিজেপি’র নেতানেত্রীদের আজকের শরীরী ভাষাতেই স্পষ্ট, আগামী কয়েক মাস সমাবেশগুলিতে তাঁরা এই ‘৩৫০-রও অধিক’ সংখ্যাটাকে কতবার নিয়ে আসবেন।
সাংবাদিকদের বায়ুসেনা প্রধান আরও  জানান, সেপ্টেম্বরেই আসবে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান। বায়ুসেনার ক্ষমতা কিছুটা হলেও বাড়বে। কারণ এই মিশনে মিগ–২০০০ সহ বেশ কিছু যুদ্ধবিমানকে হারিয়েছে বায়ুসেনা। অভিনন্দন প্রসঙ্গে বিএস ধানোয়া জানান, ডি ব্রিফিংয়ের পরই বোঝা যাবে অভিনন্দন কতটা সুস্থ। তিনি সুস্থ হলেই ফের বিমান চালাতে পারবেন।  

Post a Comment

0 Comments