ads

ক্ষতিপূরণ না দিয়ে জেলাশাসকের বেতন বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের I UBG NEWS

কলকাতা — সাপের কামড়ে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে সাতদিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ না দিলে জেলা শাসক ও বিডিও’র বেতন বন্ধের নির্দেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি দেবাংশু বসাক শুক্রবার এমন নির্দেশ জারি করেছেন। সাপে কাটার মৃত্যু হওয়ায় রাজ্য সরকারের প্রকল্প অনুযায়ী দু’লক্ষ টাকা অনুদান পাওয়ার কথা ছিল মৃতের পরিবারের। কিন্তু তিন বছর পার হয়ে যাওয়ার পরেও ওই টাকা মেলেনি। রাজ্য প্রশাসনের সর্বত্র চিঠির পর চিঠি দিয়েও কাজ না হওয়ায় শেষে কলকাতা হাইকোর্টে যান সোনারপুরের বাসিন্দা সুন্দরী মণ্ডল। দক্ষিণ ২৪পরগনার সোনারপুর থানার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা সুন্দরী মণ্ডল আদালতকে জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী ভবেশ মণ্ডল’কে ২০১৫ সালে বাগানে কাজ করার সময় সাপে কামড়ায়। কলকাতার চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্বামী নিয়ে আসার পরেও তিনি মারা যান। ওই এই ঘটনায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে মণ্ডল পরিবার। তিন বছরের দুই ছেলে আর নয় বছরের একটি মেয়ে নিয়ে অর্থাভাবে পড়ে গিয়েছেন সুন্দরী মণ্ডল। স্বামী ভবেশ মণ্ডল সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুতে অথৈ জলে পড়ে গেছেন স্ত্রী সুন্দরী ও সন্তানরা। বারেবারে জেলা শাসক, মহকুমা শাসক, সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের অফিস ঘুরেও কোনও লাভ হয়নি। অবশেষে হাইকোর্টের যাওয়া ছাড়া গতি থাকে না। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি দেবাংশু বসাক আগেই জেলা শাসককে নির্দেশ দিয়েছিলেন, আবেদনকারী সুন্দরী মণ্ডলের কাগজপত্র দেখে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। কিন্তু নির্দেশ দেওয়ার পরেও টালবাহানা করেছে জেলা প্রশাসন। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরার পরেও কোনও লাভ পাননি সুন্দরী মণ্ডল। বারেবারে সোনারপুর, বারুইপুর এবং আলিপুরে সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক, মহকুমা শাসক এবং জেলা শাসকের দপ্তরে যান। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে জেলা শাসকের কাছে সুন্দরী মণ্ডল শেষ চিঠি দেন। ওই চিঠির উত্তরে আরও তিন মাস অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু বছর কেটে যায়। ২০১৮সালের অগাস্টের পর থেকে সুন্দরী মণ্ডল আবারও ঘোরাঘুরি করতে থাকেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে আবারও তিনি চিঠি দেন আলিপুর জেলা শাসককে। চিঠিতে তিনি জানান, বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছিলেন, এক মাসের মধ্যে টাকাটা যাতে পান তার ব্যবস্থা করতে। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই করা হয়নি। উপায়ন্তর না দেখে আবারও বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সুন্দরী মণ্ডলের আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ রায়চৌধুরি। শুক্রবার আবারও সুন্দরী মণ্ডলের দৃষ্টি আকর্ষণী প্রস্তাবটি ওঠে দেবাংশু বসাকের এজলাসে। সব কথা জানার পর বিচারপতি দেবাংশু বসাক অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশ দিতে গিয়ে বলেন, ‘আগামী ৭দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে যদি ওই মহিলা টাকা না পান তাহলে ডিএম (আলিপুর) ও বিডিও (সোনারপুর) দু’জনের বেতন বন্ধ করে দেব।’

Post a Comment

0 Comments