ads

বেকারদের বিনা পয়সায় চাকরির পরীক্ষার কোচিং পুলিস অফিসারের I UBG NEWS

ওয়েব ডেস্কঃ  একটা সময় ছিল পুলিশ মানেই আতঙ্ক। পুলিশ দেখলেই ছেলে থেকে বুড়ো সকলে দু’‌পা পিছিয়ে যেতেন। কিন্তু এ রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর পুলিশের সংজ্ঞাটাই বদলে গেছে। বিভিন্ন সামাজিক কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কিন্তু সকলকে চমকে দিয়ে গোঘাটের বদনগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিস আধিকারিক বাপি হালদার এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের পাশে দাঁড়িয়ে নজির তৈরি করেছেন। সপ্তাহে দু’‌দিন নিয়ম করে বনগঞ্জ ও সুন্দরপুরে চাকরির প্রতিযোগিতার পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি টিপস দিচ্ছেন। ফাঁড়ির সামনে গাছতলায় ক্যাম্প করে সেই কোচিং চলছে।
ছাত্র‌ছাত্রীর সংখ্যাও কম নয়। বদনগঞ্জ বাড়িতে ইতিমধ্যেই সংখ্যাটা ৭০ ছাড়িয়ে গেছে। সুন্দরপুরেও প্রায় ৫০ জন। শুধু আশেপাশের এলাকা থেকেই নয়, খবর পেয়ে দূর–দূরান্ত থেকেও বেকার যুবক–যুবতীরা প্রতি শনি ও মঙ্গলবার তাঁর কাছে ছুটে আসছেন। আর বাপি তাদেরকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কীভাবে সফল হবেন তা হাতে কলমে শেখাচ্ছেন। বাপি হালদারের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে। বাড়িতে বাবা–‌মা, স্ত্রী এবং ছেলে রয়েছে। ছোটবেলায় অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে পড়াশোনা করতে হয়েছে। তাই অর্থের অভাবে যাদের পড়াশোনা হয় না তাদের যন্ত্রণা তিনি মর্মে মর্মে বোঝেন। ২০১৪ সালে সাব ইন্সপেক্টর হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে পড়িয়েছেন। তাই এবার তিনি সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষিত বেকার যুবক–যুবতীদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছেন। সম্পূর্ণ বিনা খরচে কোচিং করাচ্ছেন। এর জন্য নিজের পকেট থেকে খরচ করছেন। এছাড়াও এলাকার কিছু ক্লাব এবং সহৃদয় ব্যক্তি আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
ইতিমধ্যেই তিনি ফাঁড়ির আধিকারিক গোপীনাথ মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে এলাকার প্রায় ৪৫ জন স্কুলছুট ছেলেমেয়েকে আবার স্কুলে ফিরিয়েছেন। তাদের জন্য বইখাতা ও পড়াশোনার অন্যান্য সরঞ্জামের ব্যবস্থা করেছেন। এমনকী বেকার যুবক–যুবতীদের মাধ্যমে তিনি ফ্রি কোচিংয়ের ব্যবস্থাও করেছেন। এ বিষয়ে বাপি  হালদার বলেন, ‘‌অর্থের অভাবে কোচিং নিতে না পারার যন্ত্রণা আমি জানি। তাই আমি এখানে পড়ানোর পরিবেশ ও সুযোগ পেয়ে ওদেরকে কোচিং দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।’‌ এ ব্যাপারে আরামবাগ এসডিপিও কৃশানু রায় বলেন, ‘‌খুব ভাল উদ্যোগ নিয়েছেন উনি। ওই কোচিংয়ে আমারও পড়াতে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।’‌‌

Post a Comment

0 Comments