ads

তৃণমূল ভূমিপুত্র‌কে প্রার্থী করতেই উচ্ছ্বাস পাহাড়ে I UBG NEWS

দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি: কোনও পরিযায়ী নেতা নন। বরং পাহাড়ের মানুষের কাছ থেকে উঠে আসা দাবিকে সম্মান জানিয়ে ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করায় উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল পাহাড়। তা–‌ও আবার দার্জিলিং লোকসভা আসনে তৃণমূল এমন একজনকে প্রার্থী করল, যিনি শুধু একজন শিক্ষিত প্রাজ্ঞই নন, সরল, নম্র স্বভাবের। খুবই বিচক্ষণ। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও যথেষ্ট। নিজেকে উন্নত করে তুলতে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরেছেন। তারপরও দার্জিলিং শহরকে ভোলেননি। শৈলশহরের জন্য নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। অমর সিং রাইকে প্রার্থী করে বিরোধীদেরও কোণঠাসা করে ফেলতে পেরেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। আর এদিন প্রার্থী ঘোষণা হতেই পাহাড়ে মোর্চা ও তৃণমূল–সহ সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পথে নেমে লাড্ডু বিতরণ করা শুরু করেন। সমতলেও শুরু হয়ে যায় দেওয়াল লিখন।
অমর সিং রাইয়ের জন্ম দার্জিলিং শহরেই। বাবা আর এস রাই ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল। মা ভদ্রশীলা রাই। স্ত্রী কুমকুম রাই (‌নিদাস)‌ জন্মসূত্রে বাঙালি পরিবারের। তাই অমর সিং রাইও খুব ভাল বাংলা বলতে পারেন। পাহাড়ে যেখানে বিভিন্ন শক্তি বিভেদের উসকানি দিচ্ছে, সেখানে দাঁড়িয়ে প্রার্থী বাছাইয়েও সম্প্রীতির নজির তৈরি করেছে তৃণমূল। এতে সমতলেও গ্রহণযোগ্যতা সমানভাবে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অমর সিং রাই ১৯৭১ সাল থেকে লরেটো কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। ২০০৮ সালে অবসর নেওয়ার আগে পর্যন্ত ছিলেন ভাইস প্রিন্সিপাল। এছাড়াও তিনি সেন্ট জোসেফ কলেজ ও ঘুম জোড়বাংলো কলেজের অতিথি–‌অধ্যাপক হিসেবে পড়িয়েছেন। এর বাইরে দার্জিলিঙের কেরিয়ার কোচিং ও কাউন্সেলিং সেন্টারে কাউন্সিলর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘুম জোড়বাংলো কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও অমর সিং রাইয়ের বড় ভূমিকা আছে। কয়েকটি স্কুল গড়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আছে। অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৯ সালে রোটারি ইন্টারন্যাশনালের হয়ে সামাজিক সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেছেন। বইও লিখেছেন। সব কিছু মিলিয়ে তিনি পাহাড়ে সম্মাননীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবেই পরিচিত। লেখাপড়া করেছেন কিজুম প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাউন্ট হরমন স্কুল, ক্যালকাটা বয়েজ স্কুল, সেন্ট জোসেফ কলেজ এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। অধ্যাপনার  জীবন থেকে অবসর নিয়ে ২০১১ সালে রাজনীতিতে নামেন। পুরভোটে নির্বাচিত হয়ে দার্জিলিং পুরসভার চেয়ারম্যান হন। এরপর ২০১৬ সালে দার্জিলিঙের বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে এই সময়ে কাজের মধ্যে দিয়েও দার্জিলিংবাসীর মন জিতেছেন।
বিনয়পন্থী মোর্চার মুখপাত্র সুরজ শর্মা জানান, ‘‌ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। মোর্চার সহ–‌সভাপতি সতীশ পোখরেল জানান, তৃণমূল নেত্রী পাহাড়ের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করার পথ করে দিলেন।’‌ জানা গেছে, পাহাড়ের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মোর্চা নেতা তৃণমূলের প্রতীকে লড়াই করছেন।

Post a Comment

0 Comments