ads

প্রথম দফার দুই কেন্দ্রেই কঠিন লড়াইয়ে তৃণমূল বনাম বিজেপি, বাকি ক’দিন প্রচার যেন টি-২০ | UBG NEWS

UBG NEWS, কোচবিহার : আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে প্রথম দফার ভোট হবে ১১ এপ্রিল। দেশের আরও বেশ কিছু আসনের সাথে এরাজ্যের দুই কেন্দ্র কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ হবে। সোমবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার ছিল শেষ দিন, সেদিনই কোচবিহার কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পরেশ চন্দ্র অধিকারী, বামফ্রন্ট মনোনীত ফরোয়ার্ড ব্লক প্রার্থী গোবিন্দ রায়, কংগ্রেস প্রার্থী পিয়া রায় চৌধুরী, হরেকৃষ্ণ সরকার (নির্দল), কেপিপি ইউ কংসরাজ বর্মন, এসইউসিআই প্রার্থী প্রভাত রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এবছর কোচবিহার জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২২ লক্ষ ৫১ হাজার ২৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১১ লক্ষ ৬৯ হাজার তিনশো ৭১ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১০ লক্ষ ৮১ হাজার ৮৬৩ জন। এছাড়াও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ২১ জন। জেলায় মোট ভোট গ্রহণ কেন্দ্র ২ হাজার ৪৯৭টি।

কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্র জেলার ৭ টি বিধানসভা নিয়ে গঠিত হয়েছে। মেখলিগঞ্জ বিধানসভা জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রে ও তুফানগঞ্জ বিধানসভা আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে পড়েছে। কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৮ লক্ষ ৯ হাজার পাঁচশো ৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৯ লক্ষ ৪০ হাজার ৯৪৮ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৮ লক্ষ ৬৮ হাজার ৬৩২ জন। এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ১৮ জন। কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে নতুন ভোটারের সংখ্যা ৪৮ হাজার ৪৬ জন।

২০১৬ সালে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায় ভোট পেয়েছিলেন ৭ লক্ষ ৯৪ হাজার ৩৭৫টি। বিজেপি প্রার্থী হেমচন্দ্র বর্মণ পেয়েছিলেন ৩ লক্ষ ৮১ হাজার ১৩৪টি। বামফ্রন্টের প্রার্থী নৃপেন্দ্র নাথ রায় ভোট পেয়েছিলেন ৮৭ হাজার ৩৬৩টি। আমরা বাঙ্গালীর প্রার্থী সুবোধ বর্মণ ৯ হাজার ৪৩৪টি ভোট, কেপিপি প্রার্থী কংস রাজ রায় ৮ হাজার ৩৩৬টি, নির্দল নরেশ চন্দ্র বর্মণ ৭ হাজার ৮৯০টি ভোট, এসইউসিআই প্রার্থী নৃপেন কার্যী ৫ হাজার ৬৯৩টি ভোট, নির্দল প্রার্থী নির্মল কুমার রায় ৪ হাজার ৬১৭টি ভোট, ওয়েল ফেয়ার পার্টি প্রার্থী ধনঞ্জয় বর্মণ ৩ হাজার ৭২৫টি ভোট পেয়েছিলেন। নোটায় ভোট পড়েছিল ৯ হাজার ৬৮০টি। ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপিকে ৪ লক্ষ ১৩ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজয় করেছে। সেই ভোটে বাম-কংগ্রেসের জামানত জব্দ হয়েছে কোচবিহারে। উপনির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান অনেকটা বেড়ে গেলেও বিজেপি নিজের ভোট বাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল। এবার তাঁরা যে কোচবিহার কেন্দ্রে তৃণমূলকে কঠিন লড়াইয়ের মুখে ফেলবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

অপরদিকে প্রথম দফা লোকসভা কেন্দ্র আলিপুরদুয়ার। সেখানে এবারের তৃণমূল প্রার্থী দশরথ তিরকে, বাম মননীত আরএসপি প্রার্থী মিলি ওঁরাও, বিজেপি প্রার্থী জন বার্লা ও কংগ্রেস প্রার্থী মোহনলাল বসুমাতা৷

২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস দশরথ তিরকে ৩ লক্ষ ৬২ হাজার ৪৫৩টি, আরএসপি মনোহর তিরকে ৩ লক্ষ ৪১ হাজার ৫৬টি। বিজেপি বীরেন্দ্র বরা ওঁরাও ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮৫৭টি। কংগ্রেস জোসেফ মুন্ডা ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৭১৮টি। বিএসপি এলিয়াশ নার্জিনারি ১১ হাজার ৩৯টি, নির্দল পল ডেক্সন খেরিয়া ১০ হাজার ৪৫০টি। নির্দল কাপিন চন্দ্র বোড়ো ৭ হাজার ৬৭৬টি। এসইউসিআই সুভাষ চিক বারাইক ৭ হাজার ১৩১টি। আরজেএসপি ইশাবেলা কুজুর ৫ হাজার ৯৬১টি। সমাজবাদী জন পরিষদ বিলকান বারা ৫ হাজার ৩৪০টি। ২০১৪ সালের আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস ২১ হাজার ৩৯৭টি ভোটে জয় লাভ করেন। গত লোকসভা নির্বাচনের পরে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। বামেরা আর সেভাবে শক্তিশালী নেই। ফলে লড়াই যে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যেই হতে চলেছে তা নিশ্চিত করে বলা যেতে পারে।

Post a Comment

0 Comments