ads

যেসব কোম্পানির ফোন থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি । UBG NEWS


UBG NEWS, নিউজ ডেস্ক : মোবাইল ফোন কেনার সময় আমরা সাধারণত এর প্রসেসর, ব়্যাম, ইন্টারনাল মেমরির সাইজ ইত্যাদি বিষয়ে নজর দেই। কিন্তু যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আমরা অনেকেই উপেক্ষা করি সেটা হল ফোনটির SAR (Specific Absorption Rate) ভ্যালু। ফোনটি থেকে কী পরিমাণ তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ (ইলেক্ট্রোম্য়াগনেটিক ওয়েভ) আমাদের শরীরে প্রবেশ করে তার পরিমাণ হল SAR ভ্যালু। আমাদের শরীরের উপর মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিকগুলি নিয়ে যখন আলোচনা হয়, তখন যে দুটি বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় তা হল ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল রশ্মি বা ব্লু রে এবং SAR ভ্যালু।


বিশেষজ্ঞদের দাবি, যে সমস্ত ফোনের SAR ভ্যালু বেশি, সেগুলি দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। কোন কোন ফোনের SAR ভ্যালু বেশি আর কোনগুলির কম তা পরীক্ষা করে সম্প্রতি জার্মানির Bundesamt fur Strahlenschutz (German Federal Office for Radiation Protection ) একটি রিপোর্ট পাবলিশ করেছে। যারা নতুন ফোন কিনবেন ভাবছেন তাঁরা অবশ্যই কেনার আগে এই রিপোর্টটি দেখে নেবেন।
রিপোর্টের প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে পাঠকদের সংক্ষেপে জানিয়ে দেই SAR ভ্যালু বিষয়টি ঠিক কী।



মোবাইল ফোনে আমরা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি রেডিয়ো ওয়েভের সাহায্যে। রেডিয়ো ওয়েভ হল আসলে ইলেক্ট্রোম্য়াগনেটিক ওয়েভ বা তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। ফোনের অ্যান্টেনায় রিসিভার ও ট্রান্সমিটার থাকে। ট্রান্সমিটার তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বিকিরণ করে এবং রিসিভার তা গ্রহণ করে। i8

১ মানে যখন ইলেকট্রিক সিগন্যাল রয়েছে এবং ০ মানে যখন ইলেক্ট্রিক সিগন্যাল নেই। ধরা যাক আপনি আপনার বন্ধুর সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন। সেক্ষেত্রে আপনার কথা প্রথমে মোবাইল ফোন ০ এবং ১ এই বাইনারি ডিজিটে কনভার্ট করবে। এবার সেই বাইনারি ডিজিট বা ইলেকট্রিক সিগন্যালকে ফোনের অ্যান্টেনার ট্রান্সমিটার নিকটবর্তী মোবাইল টাওয়ারে পাঠাবে। এই সিগন্যাল যাবে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গের আকারে। পুকুরে যে জায়গায় ঢিল পড়ে, তার চারপাশে জলে অনেকগুলি বৃত্তাকার ঢেউ তৈরি হয়। লক্ষ্য করবেন প্রতি দুটি বৃত্তর মাঝে নির্দিষ্ট ফাঁকা জায়গা বা দূরত্ব রয়েছে। তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বা ইলেক্ট্রোম্য়াগনেটিক ওয়েভ হল ঠিক সেরকম। এক্ষেত্রে প্রতিটি বৃত্তকে আমরা ইলেক্ট্রিক সিগন্যাল অর্থাৎ ১ এবং দুটি বৃত্তের মাঝে যে দূরত্ব বা ফাঁকা জায়গা তাকে ইলেক্ট্রিক সিগন্যালের না থাকা বা ০ হিসেবে ধরে নিতে পারি।



এই ইলেক্ট্রোম্য়াগনেটিক ওয়েভ তারপর মোবাইল টাওয়ার থেকে আপনার বন্ধু যে এলাকায় রয়েছে তার নিকটবর্তী টাওয়ারে যাবে। সেখান থেকে আপনার বন্ধুর ফোনের অ্যান্টেনার রিসিভার সেই ম্যাগনেটিক ওয়েভ রিসিভ করবে। তারপর ফোনের প্রসেসর সেই ইলেক্ট্রিক সিগন্যাল অর্থাৎ ০ এবং ১ বাইনারি ডিজিটগুলিকে শব্দে কনভার্ট বা রূপান্তরিত করবে এবং তখন সেই শব্দ বা আপনার কথা বন্ধু শুনতে পারবে।


বিশেষজ্ঞদের দাবি আমরা যখন ফোনে কথা বলি বা অন্যান্য কাজ করি তখন ফোন থেকে এই ইলেক্ট্রোম্য়াগনেটিক ওয়েভের একটা অংশ আমাদের মস্তিষ্ক সহ দেহের বিভিন্ন অংশে ঢোকে। এই ম্যাগনেটিক ওয়েভ যদি নির্দিষ্ট মাত্রার থেকে বেশি পরিমাণে আমাদের শরীরে ঢোকে তবে তা ক্যানসার সহ বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করতে পারে। তাই ক্রেতাদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে বর্তমানে ফোন কোম্পানিগুলি তাদের SAR ভ্যালু যতটা সম্ভব কম রাখার চেষ্টা করে। কারণ যে ফোনের SAR ভ্যালু যত বেশি, আমাদের শরীরের উপর সেই ফোনের ক্ষতিকর প্রভাব তত বেশি বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি। রিপোর্ট অনুসারে সবচেয়ে কম SAR ভ্যালু স্যামসাঙ কোম্পানির ফোনের। আর চিনের শিয়াওমি কোম্পানির ফোনের SAR ভ্যালু সবচেয়ে বেশি।

Post a Comment

0 Comments