ads

হামলা ঠিক কোথায়,প্রাণহানি কত: রয়েই গেল প্রশ্ন-ধোঁয়াশা, বলছে গণশক্তির রিপোর্ট I UBG NEWS

ওয়েব ডেস্ক : পাকিস্তানের উপর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ার খবর নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে গণশক্তি পত্রিকা। UBG নিউজ এর পাঠক পাঠিকাদের জন্য সেই প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হল।
‘সাড়ে এগারোটার সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বিবৃতি পড়ে দিয়েই বেড়িয়ে গেলেন বিদেশ সচিব বিজয় গোখেল। উপস্থিত সাংবাদিকরা উসখুস করলেও, ‘কোনো প্রশ্ন করা যাবেনা’, সাংবাদিক সম্মলনের পূর্বশর্ত হিসেবে কোনো প্রশ্নই শোনা হয়নি। আর তাই দিনভর নানান ‘সূত্র’, ‘গোপন তথ্যে’র ভিড়ে মঙ্গলবার ভোর রাতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ‘গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক’ ‘আগাম আঘাত হানতে’ অসামরিক হামলা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন থেকেই গেছে।
মনে জাগলেও দিল্লির সাংবাদিকদের আর এই প্রশ্ন করা হয় উঠলো না, হামলা কোথায়, পাকিস্থান নাকি পাক অধিকৃত কাশ্মীর? কত খতম হল? সেই মৃতের হিসেবের ভিত্তি কী?এমন কী গোয়েন্দা তথ্য হাতে ছিল,যার জন্য হামলা জরুরী হয়ে পড়ল? আগাম আঘাতই যখন হানা হল, তাহলে পুলওয়ামার আগে করা গেল না কেন? তাই সেই প্রশ্নগুলি নিরুত্তর থেকে গেল, রাত পর্যন্ত।
নয়াদিল্লির সাংবাদিক সম্মেলনের ঢের আগে ভোর ৫ টা ১২-এ পাক সেনা মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুরের ট্যুইটে বিমান হানার খবর সামনে আসে।তার ঘন্টা দুয়েক পর মুজফ্ফরপুর সেক্টরের ‘বালাকোটে’ ভারতীয় বিমানবাহিনীর বোমা ফেলার কথা কবুল।আরও ঘন্টা তিনেক পর সকাল ৯ টা ৫৯ মিনিটে গফুরের ট্যুইট এলো “ভারতীয় বিমানবাহিনী হামলা চালিয়েছে আজাদ কাশ্মীরের তিন-চার মাইলের মধ্যে।
ভারতীয় বিদেশ সচিব কিংবা পাক সেনা মুখপাত্র,কারও বয়ান থেকে স্পষ্ট হয়নি এদিন বিমানবাহিনীর হামলা ঠিক কোথায় হয়েছে? নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে? পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে, নাকি ৮০ কিমি দুরে পাক ভূখন্ডে খাইবার পাখতুনখাওয়ার বালাকোটে?পরে এদিন সন্ধায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে জানানো হয়েছে পাকিস্তানের অভ্যন্তরের বালাকোটেই এই আক্রমণ হয়েছে। যদিও না ভারত,না পাকিস্তান কোনও তরফেই খোলসা হল এই প্রশ্নের।
কূটনৈতিক রীতিনীতি মেনে সরকারিভাবে এমন হামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ খবর কবুল করা শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের পক্ষে হয়তো অসম্ভব। কিন্তু যে কোন ঘটনাকেই রাজনৈতিক ফায়দা তোলার কাজে ব্যস্ত মোদী সরকারের পেটোয়া সংবাদ মাধ্যমের তো অভাব নেই।’সূত্র মারফত খবর’ বলে তারা নানান খবরই দিতে থাকলো।তাদের দেওয়া হিসেবে নিহত সন্ত্রাসবাদির সংখ্যা কখনও আড়াইশো ছুলো।কখনও আবার তিনশো পেরিয়ে সাড়ে তিনশো ছুঁয়ে ফেলল।পুলওয়ামায় ৪০ জনের মৃত্যুর ‘বদলা’ বালাকোটে তার প্রায় দশগুণ সংখ্যায় সন্ত্রাসবাদী খতম করে জবাব দেয়া গেছে, বলে তুলে ধরা হলো সংবাদ মাধ্যমে। বিজেপি’র নেতা নেত্রীদের আজকের শরীরী ভাষায় স্পষ্ট আগামী কয়েক মাস সমাবেশ গুলিতে তারা এই ‘৩৫০’রও অধিক সংখ্যাটি কতবার নিয়ে আসবেন।
পাক প্রশাসন অবশ্য বিমানহানার কথা কবুল করলেও, বোমা পড়েছে জঙ্গলের মধ্য, বলে দাবি করেছে। ‘সমুচিত জবাব’ দেওয়ার হুঙ্কার ছুড়েও কোনো হতাহত হয়নি বলে তাদের দাবি।
তবে সংখ্যা নিয়ে বড়াই আবার খানিকটা ধাক্কা খাচ্ছে বিবিসি বা নিউইয়র্ক টাইমসের স্থানীয় খবরে। খাইবার-পাখতুনের মানসেরা গ্রামের এক বাসিন্দাকে উদ্ধৃত করে বিবিসি খবর করেছে, তার ভোর ৩ টে থেকে ৪ টের মধ্যে পাঁচবার বিকট আওয়াজ শুনেছেন। এরপরও হামলার জায়গা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
যেমন প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে,পুলওয়ামার পর ‘জবাই’ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে, এমনটা জেনেশুনেও কি করে বালাকোটের পাহাড়ের মাথায় তথাকথিত ‘পাঁচতারা’ রিসর্ট ধাঁচের ট্রেনিং ক্যাম্পের মত একটা জায়গাতেই এত বড় সন্ত্রাসবাদি ‘নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিল’। বিশেষ করে ভারতীয় গোয়েন্দারা যেখানে ভালোভাবেই বালাকোট শহরের ২০ কিমি দূরের জৈশের এই ঘাটির কথা জানতো।অথচ সব জেনে শুনেই ইউসুফ আজহার ওরফে ওস্তাদ ঘৌরির মতো জৈশের এমন গুরুত্বপূর্ণ লোক সেখানেই ছিল।কিছু ভারতীয় টেলিভিশনে এদিন দাবি করা হয়েছে,কান্দাহারের অন্যতম বিমান ছিনতাইকারী তথা জৈশের ট্রেনিংয়ের মূল দায়িত্ব যার কাঁধে সেই ওস্তাদ ঘৌরিও এদিনের হামলায় মারা গেছে।
আবার বালাকোট থেকে ২ কিমি দূরে আটার শিশা গ্রামের এক বাসিন্দা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে, ভোর সওয়া তিনটে নাগাদ বিকট শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। এখন তারা ভয়ে ভয়ে রয়েছেন, পাকিস্তান এর পাল্টা জবাব দিলে যুদ্ধ না বেঁধে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই গ্রামবাসীর কথায়, বালাকোটে জৈশ-ই-মোহাম্মদ একটি স্কুল চালায়। বিমান থেকে ছোড়া বোমা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশের নদীতে গিয়ে পড়েছে।এই হামলায় কারো মারা যাওয়ার খবর অন্তত তার কাছে নেই
এমনই টার্গেট মিস করার কথা পাওয়া গেছে মোহাম্মদ আজমল নামে বছর পচিশের এক গ্রামবাসীর মুখে। জানিয়েছেন, ভোর তিনটের কিছুক্ষণ পর চারটে বিকট আওয়াজ শুনেছেন। যেখানে বোমা পড়েছে সেই জাবা টপের কাছের এই গ্রামবাসীর কথায়, কি হয়েছে বলতে পারব না। সকালে উঠে দেখলাম টিলার মাথার গাছগুলি পড়ে আছে। একটি বাড়ির ক্ষতি হয়েছে, চারটে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বছর ৪৬-এর ফিদা হুসাইন শাহ জানিয়েছেন, গ্রামের অনেকেই ভারতীয় বোমার টুকরো পেয়েছে। তবে মারা গেছে মাত্র একজনই। উত্তর পূর্ব পাকিস্তানের ওই বালাকোটের আর এক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, বেশ কয়েক বছর আগে পাহাড়ের মাথায় একটা মাদ্রাসাকে জৈশের ক্যাম্প বানানো হয়। তারপর থেকে ওর ধারে কাছে কাউকে যেতে দেওয়া হয় না। তবে গ্রামবাসীরা এদিন সকালে দেখেছেন,সেই মাদ্রাসা ক্যাম্প অক্ষতই রয়েছে।’

Post a Comment

0 Comments