ads

ফের ফাঁস মাধ্যমিকের ভৌতবিজ্ঞান প্রশ্নপত্র, পথে নামছেন শিক্ষকরা I UBG NEWS

ওয়েব ডেস্কঃ  এ কি রসিকতা, নাকি প্রহসন? সিআইডি তদন্ত, গ্রেপ্তারি, ইন্টারনেটে নিয়ন্ত্রণ, কোনও কিছুতেই রোখা গেল না প্রশ্নফাঁস। লজ্জার সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ফেলল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। রুটিন মেনে মঙ্গলবারও ফাঁস হয়ে গেল মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র। এদিন ছিল ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষা। পরীক্ষার অন্য দিনগুলির মতো মঙ্গলবারও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্নপত্র। মাধ্যমিকে প্রশ্নফাঁস রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবিষয়ে পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গাঙ্গুলির মন্তব্য, কোনও কথা বলব না। মঙ্গলবার পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ভৌতবিজ্ঞান প্রশ্নপত্র। ওই প্রশ্ন ভৌতবিজ্ঞানের আসল প্রশ্ন কিনা তা নিয়ে প্রাথমিক ভাবে সংশয় থাকলেও, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আশঙ্কা সত্যি হয়। হুবহু মিলে যায় ভৌতবিজ্ঞান প্রশ্ন। মঙ্গলবার ছিল মাধ্যমিকের ষষ্ঠ দিনের পরীক্ষা। প্রথম ভাষার পরীক্ষা বাংলা থেকে ভৌতবিজ্ঞান পর্যন্ত ছ’টি পরীক্ষাতেই প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে।
প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তে নেমে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। কিন্তু একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে মাধ্যমিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফের প্রশ্নের মুখে। শিক্ষা মহলের আশঙ্কা, শুধু ‘খোকা ৪২০’ নয় এরকম আরও অনেকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে প্রশ্নপত্র। প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্যজুড়ে পথে নামছেন শিক্ষকরা। ছ’দিন এই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, রাজ্যে এখন মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে, যার এখনও পর্যন্ত হওয়া সব পরীক্ষারই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেছে। রাজ্যে অতীতে কখনো এসব নজির দেখা যায়নি। বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে বলেছেন, কোন অধিকারে এখনও পর্ষদ সভাপতির পদে রয়েছেন? কী করছে সরকার? মুখ্যমন্ত্রী কী করছেন? সারা বছর পড়াশোনা করে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা মাধ্যমিক। সেই পরীক্ষাটাও সুষ্ঠুভাবে করা গেল না? রোজ প্রশ্ন ফাঁস। কিসের সরকার চলছে? তিনি বলেন, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতির পদত্যাগ করা উচিত।
চক্রবর্তী বলেছেন, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষিত যুবকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হচ্ছে। কেন? যে কবছর ধরে এরা আছে কোনও একটি পরীক্ষা সুষ্ঠু ভাবে নিতে পেরেছে? সব ‘অনুপ্রেরণায়’ চলছে। এটা বিপর্যয়। মাধ্যমিক পরীক্ষাটাও কার্যত কলুষিত করে তুলল সরকার। অনেক হয়েছে এবার লজ্জিত হোক ওরা। মাধ্যমিক পরীক্ষা জুড়ে ঘটে চলা এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ছে বিভিন্ন মহল। নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুকুমার পাইন বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষার ঐতিহ্যকে নষ্ট করেছে এই সরকার। শিক্ষা ব্যবস্থার এহেন অবনতি আগে কখনও হয়নি। লাগাতার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় পথে নামবেন শিক্ষকরা। শিক্ষামন্ত্রী এবং পর্ষদ সভাপতির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি জেলায় জেলায় মিছিল এবং পথসভা হবে। একই দাবিতে কলকাতায় সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে কলেজ স্কোয়ার পর্যন্ত মিছিল ও পথসভা করবেন শিক্ষকরা। এসএফআই রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, এটা শিক্ষা দফতরের ব্যর্থতা। শিক্ষামন্ত্রীর ব্যর্থতা। কেন প্রশ্নপত্র পাচার আটকানো যাচ্ছে না? এতো যুবরাজ সিংহের মতো ছয় বলে ছ’টা ছয় হয়ে গেল। ছ’টি বিষয়ে প্রশ্ন কীভাবে বেরিয়ে পড়ছে? শাসক দলের কেউ জড়িত নেই তো!
প্রসঙ্গত, মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই পর্ষদ সভাপতি জানিয়েছিলেন মূল পরীক্ষাকেন্দ্রে অফিসার ইনচার্জ, সেন্টার সেক্রেটারি এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে ভেনু ইনচার্জ, ভেনু সুপারভাইজার, অ্যাডিশনাল ভেনু সুপারভাইজার মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। পর্ষদ সভাপতি জানিয়েছিলেন, মোবাইল ব্যবহার করলে পরীক্ষার্থীদের বাতিল হবে পরীক্ষা। পরপর প্রশ্নফাঁস হলেও প্রশাসন নিশ্চুপ। 
শেষ পরীক্ষাতেও প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় চাপ আরও বাড়ল পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের উপর। এই মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বর্তমানে রুটিন ঘটনা হয়ে গিয়েছে বলে কটাক্ষ করেছে শিক্ষা মহল৷ নজিরবিহীন এই ঘটনায় যথেষ্ট বিরক্তি এবং হতাশা তাঁরা৷ পাশাপাশি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাকে কৌতুকের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন অনেকে। প্রচুর প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ সূত্রের খবর, এই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় যথেষ্ট চাপে পড়েছেন পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়৷ পর্ষদ সূত্রে খবর, ২২ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক শেষ হওয়ার পর সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন তিনি৷

Post a Comment

0 Comments