পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ধর্ণায় বসলেন কোচবিহারের বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক | UBG NEWS

https://youtu.be/yR7RZPyEh3E

UBG NEWS, কোচবিহার : একাধিক বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে কোচবিহার পলিটেকনিক কলেজে(ডিসি-আরসি) ধর্ণায় বসলেন বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকসহ বিজেপি-র নেতারা। আর বিজেপির সেই ধর্না তুলতে হাজির বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই সময় নিশীথ প্রামাণিক এর নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে কোচবিহার কোতায়ালি থানার আইসি সৌম্যজিৎ রায়ের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে অবশ্য রাত ৮ টা ২০ নাগাদ বিজেপি তাঁদের সেই ধরনা তুলে নেন।

বিক্ষোভ শেষে বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামানিক বলেন, “বিজেপি-র তরফে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল, সন্ত্রাস কবলিত এলাকাগুলি চিহ্নিত করে সেখানে রাজ্য পুলিশের বদলে কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া হোক। কিন্তু সেই সকল জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া হয়নি। আমরা বলেছিলাম শীতলকুচি, ছোটশালবাড়ি এলাকা মারাত্মক সন্ত্রাস কবলিত। কোচবিহারের প্রাক্তন এসপি অভিষেক গুপ্ত যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কথা বলেছিলেন পরবর্তীকালেও সেই পরিমাণ বাহিনীই বহাল রাখা হয়।

তিনি আরও বলেন, “একদিকে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ যৌথভাবে সন্ত্রাস চালিয়েছে। ৩০০-র বেশি বুথে সাধারণ ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। কিন্তু ১৬৬টি বুথে হুমকি দিয়ে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই মানুষ নিজের ভোট নিজে দিক। এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। রিটার্নিং অফিসারের কাছে এবিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছি এবং এই সকল বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।”

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ওই ধর্নার পিছনে ইভিএম লুট করার চক্রান্ত হতে পারে বলে মনে করছে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পরেশ অধিকারী বলেন, “দিনহাটায় একটি বুথে বিজেপি ইতিমধ্যেই ইভিএম ভাঙচুর করেছে। এখন ডিসি/আরসিতে ইভিএম ঢুকবে, তার আগে কেন এসব গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এখানে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আমরাও ছেড়ে কথা বলবো না।”

বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য আগে থেকেই বলে আসছে কোচবিহারে ভোটে ব্যাপক ছাপ্পা ও রিগিং হয়েছে। তার জন্য ইতিমধ্যেই অভিযোগও জানিয়েছে তারা। বেশ কিছু আসনে রিপোলের দাবী করা হয়েছে। সেই দাবিতেই তাঁদের ওই আন্দোলন বলে জানা গিয়েছে।

কোচবিহার কেন্দ্র নিয়ে বাড়তি নজর ছিল কমিশনের। ৪৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় পুরোটাই রয়েছে কোচবিহারে। কোচবিহারে ২০১০টি বুথের মধ্যে ১০৬০টি বুথে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাকি ৯৫০টি বুথে রয়েছে রাজ্যের সশস্ত্রবাহিনী। আর বৃহস্পতিবার ভোটের দিন সারাদিন কোচবিহারে থাকার কথা ছিল বিশেষ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবের। কোচবিহারে থেকেই ভোট মনিটরিং করবেন তিনি, এমনটাই কথা ছিল।

কিন্তু দেখা গেল ঠিক উল্টো ছবি। বিশেষ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে কলকাতায় ফিরে গেলেন সকালেই। আর যেখানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই সেই সেই বুথেই দেখা গেল চরম সন্ত্রাস। কোচবিহারে যেখানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই, সেখানেই ছাপ্পা ভোট হয়েছে বলেই অভিযোগ সাধারণ মানুষ থেকে বিরোধী দলগুলির।