ধুন্ধুমার লোকসভা নির্বাচন, আইসি সৌম্যজিৎ রায়ের কলার ধরে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠলো নিশীথের দেহ রক্ষীর বিরুদ্ধে | UBG NEWS

https://youtu.be/ReXoyIgAyQ4

UBG NEWS, কোচবিহার : ভোট শেষে কোচবিহারের কোতোয়ালী থানার আইসি সৌম্যজিৎ রায়ের কলার ধরে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠলো বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকের দেহ রক্ষীর বিরুদ্ধে।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার কোচবিহারে ভোট শেষে ছাপ্পা ও রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে ধর্নায় বসেন বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক। আর বিজেপির সেই ধর্না তুলতে হাজির হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সেই সময় নিশীথ প্রামাণিক এর নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে কোচবিহার কোতায়ালি থানার আইসি সৌম্যজিৎ রায়ের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ঘটনাস্থল থেকে কার্যত ঘার ধাক্কা দিয়ে আইসি সৌমজিৎ রায়কে বের করে দেন নিশীথ প্রামাণিকের দেহরক্ষীরা। পরে অবশ্য রাত ৮ টা ২০ নাগাদ বিজেপি তাঁদের সেই ধরনা তুলে নেন।

প্রসঙ্গত, কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। ফলে বহু বুথে ভোট গ্রহন হয়েছে রাজ্য পুলিশ দিয়ে। বিরোধীদের অভিযোগ যেখানে যেখানে রাজ্য পুলিশ দিয়ে ভোট হয়েছে সেখানেই ছাপ্পা ভোট দিয়েছে তৃনমূল কংগ্রেস।
এদিন ভোট গ্রহণ শেষে একাধিক বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে কোচবিহার পলিটেকনিক কলেজে(ডিসি-আরসি) ধর্ণায় বসেন বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকসহ বিজেপি-র নেতারা। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার আইসি সৌম্যজিৎ রায়। সেই সময় নিশীথ প্রামাণিক এর নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে কোচবিহার কোতায়ালি থানার আইসি সৌম্যজিৎ রায়ের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে কার্যত ঘার ধাক্কা দিয়ে আইসি সৌমজিৎ রায়কে বের করে দেন নিশীথ প্রামাণিকের দেহরক্ষীরা।

ঘটনায় কোচবিহার কোতোয়ালী থানার পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে অন ডিউটি পুলিশ অফিসার এর গায়ে হাত তোলার অভিযোগে 214/19 নং ধারায় FIR দায়ের করা হয়েছে।

বিক্ষোভ শেষে বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামানিক বলেন, “বিজেপি-র তরফে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল, সন্ত্রাস কবলিত এলাকাগুলি চিহ্নিত করে সেখানে রাজ্য পুলিশের বদলে কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া হোক। কিন্তু সেই সকল জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া হয়নি। আমরা বলেছিলাম শীতলকুচি, ছোটশালবাড়ি এলাকা মারাত্মক সন্ত্রাস কবলিত। কোচবিহারের প্রাক্তন এসপি অভিষেক গুপ্তা যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কথা বলেছিলেন পরবর্তীকালেও সেই পরিমাণ বাহিনীই বহাল রাখা হয়।

তিনি আরও বলেন, “একদিকে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ যৌথভাবে সন্ত্রাস চালিয়েছে। ৩০০-র বেশি বুথে সাধারণ ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। কিন্তু ১৬৬টি বুথে হুমকি দিয়ে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই মানুষ নিজের ভোট নিজে দিক। এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। রিটার্নিং অফিসারের কাছে এবিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছি এবং এই সকল বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।”

কোচবিহার কেন্দ্র নিয়ে বাড়তি নজর ছিল কমিশনের। ৪৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় পুরোটাই ছিল কোচবিহারে। কোচবিহারে ২০১০টি বুথের মধ্যে ১০৬০টি বুথে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাকি ৯৫০টি বুথে ছিল রাজ্যের সশস্ত্রবাহিনী। আর বৃহস্পতিবার ভোটের দিন সারাদিন কোচবিহারে থাকার কথা ছিল বিশেষ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবের। কোচবিহারে থেকেই ভোট মনিটরিং করবেন তিনি, এমনটাই কথা ছিল।

কিন্তু দেখা গেল ঠিক উল্টো ছবি। বিশেষ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে কলকাতায় ফিরে গেলেন সকালেই। আর যেখানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই সেই সেই বুথেই দেখা গেল চরম সন্ত্রাস। কোচবিহারে যেখানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই, সেখানেই ছাপ্পা ভোট হয়েছে বলেই অভিযোগ সাধারণ মানুষ থেকে বিরোধী দলগুলির।